২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বর্ষায় স্মার্টফোনের যত্ন

প্রতিদিন অনেক আকার এবং স্পেসিফিকেশনের স্মার্টফোন বাজারে আসছে। প্রযুক্তির দৌড় এখন বলা চলে এতটাই দ্রুত যে ক্রেতারা কোনটা রেখে কোনটা কেনা উচিত সিদ্ধান্ত নিতেই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন। প্রায় কাছাকাছি মূল্যের একাধিক ডিভাইস পছন্দের তালিকায় থেকে এই সিদ্ধান্তের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন। আর ক্রমাগত নতুন নতুন ডিভাইস বাজারে আসার ফলে অনেকেই আবার একটি ডিভাইস কেনার পর আফসোস করেন কেননা সেই দামেই হয়ত এক সপ্তাহ পর আরও ভাল কনফিগারেশনের ডিভাইস বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে যাই হোক একটা সময় কিন্তু একজন স্পেসিফিক ক্রেতার হাতে একটি স্মার্টফোন চলেই আসে। ভাল বা মন্দ, নতুন বা পুরাতন যে রকমই হোক, আমরা তো প্রায় সবাই স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকি, তাই নয় কি? আর আমাদের প্রত্যেকের ডিভাইসই কিন্তু আমাদের কাছে খুব প্রিয় হয়ে থাকে। তাই এই প্রিয় এবং অবশ্যই প্রয়োজনীয় ডিভাইসটির যতœ নেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মিরানা আবেদ

বর্তমানে স্মার্টফোনের ব্যাটারির দিকে অনেকেই নজর দিচ্ছেন। ক্যামেরা, র‌্যাম, ডিসপ্লে, প্রসেসরের পাশাপাশি ব্যাটারির ক্ষমতাকেও অনেক ব্যবহারকারী প্রাধান্য দিচ্ছেন। ব্যাটারি লাইফ ভাল রাখতে চাইলে আপনি মাঝে মাঝে আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি পুরাটা ড্রেইন করে (০% বা ১%) শতভাগ চার্জে দিতে পারেন, তাহলে ব্যাটারি ভাল থাকে।

স্মার্টফোনের সবচাইতে বড় সৌন্দর্য হচ্ছে এর ডিসপ্লে। চকচকে পরিষ্কার একটা ডিসপ্লে স্মার্টফোনকে অনেক বেশি স্মার্ট করে দেয়। তাই, এই ডিসপ্লের যতœ নেয়াটা এক প্রকারের অবশ্য করণীয় বিষয়ের মধ্যেই পরে, কি বলেন? এখনকার প্রায় মিড রেঞ্জের সব ডিভাইসেই নানা ধরনের গ্লাস প্রোটেকটর ব্যবহার করা হয়। যেহেতু পরিষ্কার স্ক্র্যচলেস একটি ডিসপ্লে আপনার স্মার্টফোনটির লুক ধরে রাখে অনেকটাই তাই কেনার সময় সম্ভব হলে ভাল মানের গ্লাস প্রোটেকশন সংবলিত স্মার্টফোন কিনবেন, আর যদি না পারেন তবুও সমস্যার কিছু নাই। কিছুটা এক্সট্রা সতর্ক থাকতে হবে শুধু।

তবে যাদের স্মার্টফোনে গ্লাস প্রোটেকশন রয়েছে যেমন ধরুন, কর্নিং গরিলা গ্লাসÑ তাদের ডিসপ্লে স্ক্র্যাচপ্রুফ দেখে নিশ্চিন্তে বসে থাকলে কিন্তু ভুল করবেন। যদি আপনার স্মার্টফোনের ডিসপ্লে আপনি স্ক্র্যাচলেস রাখতে চান তবে অবশ্যই ভাল মানের একটি স্ক্রিন প্রোটেক্টর লাগিয়ে নিবেন। কেন? ইউটিউবের কল্যাণে অনেক ব্যাপারই এখন বোঝা অনেক সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই কর্নিং গরিলা গ্লাসের সম্পর্কে কিছুটা পড়াশোনা করে ফেলেছি অতি সহজেই, সেই পড়াশোনা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের মোরালটা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি, কর্নিং গরিলা গ্লাসে (বিভিন্ন রকমের বিজ্ঞাপনে যেমন দেখানো হয়) ছুরি, চাবি, কাঁচি ইত্যাদি স্ক্র্যাচ ফেলতে পারে না! এমনকি অনেক ভিডিওতে দেখেছি হ্যামার টেস্টেও গরিলা গ্লাসের কিছু হয় না! তবে আমার কথা হচ্ছে, আপনি নিশ্চয়ই পকেটে ছুরি-কাঁচি নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন না? বাকি থাকে ওই চাবির রিং তা অন্য পকেটে রাখলেই তো মিটে যায় তাই না? বাইরে মূলত আমরা যখন থাকি, এমনকি ঘরের ভেতরেও কিন্তু ধুলোবালি থাকে! আর বিভিন্ন রকম পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে এই সামান্য বালির কনাই গরিলা গ্লাসে স্ক্র্যাচ ফেলতে সক্ষম! এজন্যই বলে, কখনও কোন কিছুকে তুচ্ছ কর না! যারা আমার কথা বিশ্বাস করলেন না যে সামান্য বালি গরিলা গ্লাসকে করতে পারে কুপোকাত তারা দয়া করে ইন্টারনেটে সার্চ করতে পারেন।

আর অন্যদিকে যাদের কোন প্রকার গ্লাস প্রোটেকশন নেই তারা বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় টেম্পার্ড গ্লাস প্রোটেকশন নামে একটি প্রোডাক্ট যা ব্যবহার করতে পারেন। এটি মূলত আপনার স্ক্রিনের ওপরে একটি অতিরিক্ত গ্লাসের লেয়ার যোগ করে আপনার স্ক্রিনকে সুরক্ষিত রাখে। তবে সমস্যা হচ্ছে, সব ডিভাইসের জন্য এটি পাওয়া কিছুটা কষ্টসাধ্য এবং মাঝে মাঝে পাওয়াই যায় না। তবে খুঁজে দেখতে দোষ কি বলেন?

ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে স্মার্টফোনটি হয়ে যায় সেøা? এ বিষয়ে আমি নিজেই দুই থেকে তিনটার মতো ব্লগ লিখেছি, প্রিয়র টিউটোরিয়াল সেকশন ঘাটলে পাবেন অবশ্যই। যাই হোক, সংক্ষেপে বলি, সময়ের সঙ্গে স্মার্টফোন কিছুটা ধীর গতির হয়ে যাওয়া একটি অতি স্বাভাবিক বিষয়। কেননা, নতুন অবস্থায় আপনার ডিভাইসটি থাকে একদম ফ্রেশ, এতে কোন অতিরিক্ত এ্যাপলিকেশন, এ্যাপলিকেশনের ডেটা বা ক্যাশ– কোন কিছুই জমা থাকে না। এজন্য স্মার্টফোনটি থাকে অনেক ফাস্ট। তবে ডে-টু-ডে ব্যবহারের ফলে প্রয়োজনেই অনেক এ্যাপলিকেশন আমাদের ইনস্টল করতে হয় এবং সেই এ্যাপলিকেশনগুলো ব্যবহারের ফলে আমাদের স্মার্টফোন হয়ে যায় ধীর গতির। তবে আপনি যদি চান যে এই ব্যাপার থেকে মুক্তি পাবেন তবে সংক্ষেপে কিছু টিপস রইল আপনাদের জন্যÑ ব্লটওয়্যার আন-ইনস্টল করুন। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় এ্যাপলিকেশন ইনস্টল করুন। ইন্টারনাল স্পেস যতটুকু ফাকা রাখা সম্ভব ততই ভাল। মাঝে মাঝে ক্যাশ পরিষ্কার করুন, তবে সাবধান! এই প্রসেস করতে গিয়ে অনেকেই ভুলে প্রয়োজনীয় তথ্য হারিয়ে ফেলে। সবসময় হালকা লঞ্চার ব্যবহার করবেন। হালকা বলতে আমি সিম্পল বোঝাতে চাইছি, যেমন এ্যাপেক্স বা নোভা।

ব্যাটারি সেভার, র‌্যাম ক্লিনার, ক্যাশ ক্লিনার– ইত্যাদি টাইপের এ্যাপ এবং উইজেট আন-ইন্সটল করুন।

মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় ডাটা ব্যাকআপ রেখে ফ্যাক্টরি রিসেট করুন।

উপরের টিপসগুলো খুব সহজেই করা সম্ভব এবং এগুলো চমৎকার কাজে দেয়। শুধু বাইরে ফিটফাট রাখলেই তো হবে না ভাই, ভেতরটাও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, তাহলেই না হবে পরিপূর্ণ স্মার্টফোন!

ব্যবহার করতে পারেন ফ্লিপ-কভার বা বিভিন্ন ধরনের কভার। এতে করে আপনার ডিসপ্লে তো বটেই বরং ফোনটিরও একটা আলাদা সুরক্ষা লেয়ার সৃষ্টি হবে। হঠাৎ হাত থেকে ডিভাইসটি পরে গেলে শক থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করবে।এখন তো বলা নেই কওয়া নেই হুটহাট বৃষ্টি নামে! বৃষ্টি তো আপনি থামাতে পারবেন না তাই না? এজন্য পলিথিন রাখতে পারেন সঙ্গে, যেন হঠাৎ বৃষ্টিতে যদি আপনি বাইরে থাকেন তখন ডিভাইসটি রেখে দিতে পারেন তার মধ্যে, এক্ষেত্রে জিপ ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। খুবই কম, দেখতেও ভাল এবং বার বার ব্যবহারও করা যাবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে মানিব্যাগের মধ্যেই ঝামেলা ছাড়া এঁটে যায়।

ধুলোবালি শুধু ডিসপ্লেতেই নয় বরং যেতে পারে ডিভাইসের চার্জারের বা অডিও জ্যাকের মধ্যে দিয়েও। এজন্য যদি পারেন তবে আগের মতো পুরো ঢেকে রাখে এরকম কভার ব্যবহার করতে পারেন।