২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাওড়ে দেশী মাছের আকাল

মাছে-ভাতে বাঙালী এ প্রবাদের প্রচলন বহুকাল থেকে। কিন্তু পুকুর ও নদী ভরাট, ইঞ্জিনচালিত নৌকার ফুয়েল পানিতে মিশে এবং কৃষিতে কীটনাশকের যত্রতত্র ব্যবহারের ফলে জেলার হাওড়াঞ্চলে বর্তমানে দেশী প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। অবৈধ কারেন্ট ও ভিম জাল দিয়ে মাছ শিকার, হাওড়ের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কালনী, ধলেশ্বরী, ধনু ও মেঘনা নদীর নাব্য কমে যাওয়াসহ নানা কারণে এখানের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ফলেই দেশী প্রজাতির মাছের অভাব দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে হাওড়াঞ্চলে মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে ১২ প্রজাতির মাছ মারাত্মকভাবে বিপন্ন, ২৮ প্রজাতির মাছ বিপন্ন ও ১৪ প্রজাতির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব আর মানবসৃষ্ট নানা কারণে অনেক দেশী মাছ মারাত্মকভাবে বিপন্ন। এসব মাছ হচ্ছে ভাঙ্গনা, নান্দিনা, ঘোড়া মাছ, সরপুঁটি, মহাশোল, রিটা, ঘাউড়া, বাচা, পাঙ্গাস, আইর, চেনুয়া ও তিলাশোল ইত্যাদি। বিলুপ্তির অন্যতম কারণ হচ্ছে, নদীর নাব্য হারানো ও মৎস্য অভয়াশ্রম না থাকা। এছাড়া হাওড় এলাকার কৃষি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার প্রয়োগ, অবৈধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচার মৎস্য নিধন, কীটনাশকের মাধ্যমে মাছ ধরার কারণেই মিঠাপানির দেশী প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় মৎস্যচাষীরা জানায়, হাওড়াঞ্চলে শতাধিক দেশী প্রজাতির মাছ ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো-নামাবিল, সিনং, ভূম মাছ, চেলাপাতা, কাশিখয়ারা, দাড়কিনা, লালচান্দা, তিতপুঁটি, নেফটানি, নাপিত কৈ, বাঘা গোতম, নাঙ্গাটালু, গোলা, কাঙলা, মধু, আকস, পান, মাসুল, কোরাল, রানী বা রানদী, হিলুরীন, চেলা, বিলুশৈল এবং এলং মাছ অন্যতম। এছাড়া বিলুপ্তির পথে রয়েছে বামট বা বাইম, কৈলাশ, কালবাউশ, চিতল, নানীন, গাওরা, গাগলা, পাবদা, বাগাই, রিটা, পুমা, লাচু, টেকা, লিকো বা কাজলী, বেদা বা মিনিক, কাদলা, খাইক্কা, পাঙ্গাশ, শিং, মাগুর, কৈ, চান্দা, বেলে, টেংরা, বাতাই বা আলনি মাছ। এসব মাছ এখন খুবই কম পাওয়া যায়।

-মাজহার মান্না, কিশোরগঞ্জ থেকে

নির্বাচিত সংবাদ