২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিঠা পানির মহাশোল আর চোখে পড়ে না

পরিবেশ-প্রতিবেশের নানা প্রতিকূলতার কারণে দেশের অনেক প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। তেমনি এক বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ ‘মহাশোল’। মিঠাপানির সবচেয়ে সুস্বাদু মাছ বলে খ্যাত এই মাছের বসবাস ছিল খরস্রোতা ও স্বচ্ছ পাহাড়ী নদীতে। মৎস্য গবেষকদের মতে, নেত্রকোনার সোমেশ্বরী ও কংস নদীই ছিল মহাশোলের প্রধান ঠিকানা। চট্টগ্রামের সাঙ্গু, কাপ্তাই হ্রদ এবং সুনামগঞ্জের দু-একটি পাহাড়ী নদীতেও একসময় কিছু কিছু মহাশোলের দেখা মিলত। তবে এখন কেবল সোমেশ্বরী আর কংস নদীতেই কালেভদ্রে পাওয়া যায়।

মহাশোলের ইংরেজী নাম ঞড়ৎ সধযংববৎ। এর দুটি প্রজাতি। একটির বৈজ্ঞানিক নাম ঞড়ৎঃড়ৎ, অন্যটি ঞড়ৎঢ়ঁঃরঃড়ৎধ। মহাশোল দেখতে অনেকটা মৃগেল মাছের মতো। তবে অঁাঁশগুলো আরও বড় এবং শক্ত। মুখ অধোমুখী। দেহ লম্বা। পরিণত মাছের রঙ উজ্জ্বল সোনালি এবং সবুজাভ হয়ে থাকে। আর লেজ ও পাখনার রঙ হয় লালচে। তবে খুব বেশি বড় হলে আঁশগুলো ছাই রঙ ধারণ করে। মাছটির নাকের সামনে দু’জোড়া গোঁফের মতো থাকে। পাহাড়ী নদীর পাথর-নুড়ির ফাঁকে জন্ম নেয়া ‘পেরিফাইটন’ নামে এক ধরনের শ্যাওলা খেয়ে এরা জীবন ধারণ করে। মহাশোল সর্বোচ্চ ১৫ মিটার পর্যন্ত গভীর পানিতে চলাচল করতে পারে। ১৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পানির তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। সাধারণ মানুষের ধারণা- এটি ঔষধি গুণসম্পন্ন মাছ। এজন্য জটিল রোগবালাই থেকে মুক্তি পেতেও মহাশোল মাছ খেতেন অনেকে। মহাশোলের স্বাদ এখনও প্রবীণদের মুখে মুখে ফেরে। কয়েক প্রবীণ জানান, তারা অতীতে ৩০-৪০ কেজি ওজনের মহশোল দেখেছেন। নেত্রকোনায় মাইকিং করেও মহাশোল বিক্রি হয়েছে। তবে এখন আর এত বড় মহাশোল মিলে না। কালেভদ্রে নেত্রকোনার মাছ বাজারে দু-চার কেজি ওজনের দু-একটা মহাশোল ওঠতে দেখা যায়। চলতি বছরের এপ্রিলে নেত্রকোনার তেগুরিয়া বাজারে ১৭ কেজি ওজনের একটি মহাশোল ওঠে- যা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এটিই সাম্প্রতিককালে ধরা পড়া সবচেয়ে বড় মহাশোল।

-সঞ্জয় সরকার, নেত্রকোনা থেকে

নির্বাচিত সংবাদ