২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হারিয়ে যাচ্ছে দেশী সাচরা মাছ

হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির সাচরা মাছ। এসব মাছ এখন আর সচরাচর দেখা যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পুকুর নালা, ডোবা, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সাচরা মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তার স্থান এখন দখল করেছে, হ্যাচারির মাছ। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও মাছ আমদানি হচ্ছে আমাদের দেশে। এক সময় শোল, টাকি, গজার, পাবদা, পুঁটি, শিং, মাগুর, বাটা, সরপুঁটি, বাইন, ফলি, বেদা, গুইঙ্গা, খইলশা, বাইলা, বোয়াল, মটকাচিংড়ি, মলেন্দাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশী সাচরা মাছ খুব সহজে পাওয়া যেত। বাড়ির পাশে পুকুর, ডোবা ও নালায় ঝাকি জাল দিয়ে এসব মাছ ধরা হতো। তিন বেলাই মাছ-ভাত খেত বাঙালী। এখন আর দেশী এসব মাছ সচরাচর পাওয়া যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে একদিকে মাছের চাহিদা বেড়েছে। অপরদিকে ভরাট হয়ে যাচ্ছে জলাশয়। যে কারণে দেশী এসব সাচরা মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও অধিক ফলনের আশায় জমিতে নানা ধরনের কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করায়, এসব মাছ মরে যাচ্ছে। বংশ বিস্তার হচ্ছে না। নদী-নালা ও খালে এক শ্রেণীর জেলে বিন্তিজাল, ধর্মজাল ও ঘেরজালসহ ছোট ফাঁসের বিভিন্ন ধরনের জাল ব্যবহার করে রেণুপোনা নিধন করায় মাছের বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরেও শহর কিংবা গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে মাঝে মধ্যে এসব মাছ পাওয়া গেলেও সরবরাহ খুব কম। সুস্থ ও সুঠাম শরীর গঠনের জন্য এসব মাছের ভূমিকা অপরিহার্য। বাউফলের নাজিরপুর ধানদি গ্রামের ষাটোর্র্ধ বৃদ্ধ আমজাত আলী মৃধা বলেন, ছোটকালে নদী-নালায় মাছ ধরতে ধরতে বড় হয়েছি। আমবশ্যা-পূর্ণিমার জোতে তেঁতুলিয়া নদীর পানি ঘরের পাশে ক্ষেত টইটম্বুর করত। তহন আমি পল্লা দিয়ে ওই পানিতে বোয়াল, শোল, বাইন আরও কত কি ধরতাম। অহনও ক্ষেতে তেঁতুলিয়া নদীর পানি ওঠে। কিন্তু মাছ আর পাওয়া যায় না।

-কামরুজ্জামান বাচ্চু, বাউফল থেকে