২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ময়মনসিংহে ঝুঁকি নিয়ে অনেক ভবনে চলছে দৈনন্দিন কার্যক্রম

বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ ভূমিকম্পপ্রবণ প্রাচীন জেলা শহর ময়মনসিংহের অনেক ভবনে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলছে দৈনন্দিন সব কার্যক্রম। শতাধিক বছরের পুরনো ও জীর্ণ ভবন ছাড়াও অনেক আধুনিক বহুতল ভবনও রয়েছে এই ঝুঁকির কাতারে। সাভার ট্র্যাজেডির পর স্থানীয় সচেতন মানুষের চোখে অনেক ভবনের ঝুঁকি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল। অসংখ্য ভয়াবহ ফাটল দেখা যাওয়ার পর শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা ওল্ড ক্লাব পুলিশ রোডের চারতলা একটি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট সিলগালা করে দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। একই সময়ে শহরের আরকে মিশন রোড ও আকুয়া এলাকায় আরও দুটি ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। ওই সময় ময়মনসিংহ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিলেও পরে সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর ময়মনসিংহ শহরের ওল্ড পুলিশ ক্লাব রোডের চারতলার একটি মার্কেটে ফাটল ধরার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো শহরে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। এ সময় প্রতিদিনই শহরের কোন না কোন ভবনে ফাটল কিংবা হেলে পড়ার খবর বের হয়েছিল। শহরের দুর্গাবাড়ি রোডের বহুতল হৃদয় টাউয়ার, সাত নম্বর শাঁখারিপট্টির আটতলা একটি ভবন, শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা গাঙ্গিনাপাড়ের বারী প্লাজা, আসাদ মার্কেট, শহীদ মার্কেট, নতুন বাজার এলাকার বহুতল মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজা ও ৩৮ নম্বর ছোট বাজারের পাঁচতলা একটি ভবনে ফাটল ও হেলে পড়ার খবর ছিল মানুষের মুখে মুখে। এরমধ্যে গোলাম মুর্শিদ মানিক তালুকদারের মালিকানাধীন শহরের ছোট বাজারের ৩৮ নম্বর জিএম প্লাজার পাঁচতলা ভবনটি পাশের অগ্রণী ব্যাংকের উপর হেলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছিল ব্যাংকের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই ভবনটির অনুমোদনের কোন ফাইল কর্তৃপক্ষের দফতরে নেই বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ময়মনসিংহে সরকারী আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হলের দুটি ফ্লোরের অনেক স্থানে ফাটল নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটে ছাত্রীদের। ময়মনসিংহ শহরে এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ প্রাচীন ও আধুনিক বহুতল ভবন রয়েছে শতাধিক। ময়মনসিংহ গণপূর্ত সার্কেলের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ৬ মাত্রার উপরে ভূমিকম্প হলে অনেক ভবন বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, তারপরও ময়মনসিংহ শহরে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে দৈনন্দিন কার্যক্রম। গণপূর্ত বিভাগ ময়মনসিংহে অন্তত এক ডজন সরকারী ভবনকে ব্যবহার অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পরও ওই সব ভবনে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলছে সব কার্যক্রম। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের অধীন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরটের প্রাচীণ ও জীর্ণ ভবনটির অবস্থা পড় পড়। ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি পড়ছে চুইয়ে চুইয়ে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তরা খসে ভেতরের রড বের হয়ে পড়েছে ভবনটির সবখানে। এ রকম অবস্থায় ভবনটিতে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রকৌশলীরা বলছেন, যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে এসব ভবন।

আদালতপাড়া ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের এসব ভবন যে কোন সময় ধসে সাভার ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা গণপূর্ত বিভাগের। এসবের বাইরে শহরের দুর্গাবাড়ি রোডের বহুতল হৃদয় টাউয়ার ও ছোট বাজার এলাকার অগ্রণী ব্যাংকসংলগ্ন পাঁচতলা একটি ভবন কাত হয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এসব ভবন যে কোন সময় ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। শহরের নতুন বাজার এলাকার বহুতল বাণিজ্যিক মার্কেট মফিজ উদ্দিন ইনডেক্স প্লাজা নিয়েও রয়েছে এ রকম আশঙ্কা। প্রচার রয়েছে, আটতলার অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা নির্মাণ করা হয়েছে এই বাণিজ্যিক ভবনটি। শহরের শাঁখারিপট্টি এলাকার আটতলা একটি ভবনের অনুমোদনের কোন ফাইল নেই ময়মনসিংহ পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে। কোন প্রকার বেস ও ফাউন্ডেশন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে এই আটতলার ভবনটি। ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমোদনবিহীন ভবনের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেয়া হবে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে।