২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পটুয়াখালী বিআরটিএ অফিস দুর্নীতির আখড়া !

  • রেজিস্ট্রেশন করতে পদে পদে ভোগান্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী ॥ বাংলাদেশ রোড ট্রন্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পটুয়াখালী অফিসে মোটরসাইকেল চালক ও মালিকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে আরও ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করছে ভুক্তভোগীরা। অপর দিকে পটুয়াখালীতে একটি মাত্র ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ফি’র টাকা জমা দিতে গিয়েও পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। শুধু ব্যাংকে টাকা জমা দিতেই লাগে তিন থেকে চারদিন।

সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতে পুলিশ রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল আটকের অভিযান শুরু হলে বেড়ে যায় মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করা। এ অবস্থায় পটুয়াখালীতে মোটরসাইকেল মালিকরা রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিআরটিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রতি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে বাড়তি দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে আদায় করছেন। সরেজমিন পরিদর্শনকালে এর প্রমাণও মিলেছে। বিআরটিএ’র কর্মচারী সুমনের কাছে অফিস খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা জমা দিলেই রেজিস্ট্রেশন করার ফাইল জমা রাখা হয়। আর তিন হাজার টাকা জমা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই মিলছে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর। তবে যে সব মোটরসাইকেল মালিক টাকা দিচ্ছেন না এক সপ্তাহেও তাদের ফাইল জমা নেয়া হচ্ছে না।

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিত মোটরসাইকেলের মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, ব্যাংকে টাকা জমা দিছি ২৩ হাজার আর বিআরটিএ অফিসে অফিস খরচ বাবাদ নেছে দুই হাজার টাকা। যার কাছে যা পাচ্ছে তাই আদায় করে।

এদিকে বরগুনা জেলায় বিআরটিএ’র কোন অফিস না থাকায় পটুয়াখালী থেকেই বিআরটিএ’র যাবতীয় কাজ পরিচালিত হয়ে থাকে। এ কারণে দুই জেলার রেজিস্ট্রেশনরে কাজ এক জেলায় হওয়ায় বিআরটিএ অফিসে যেমন বাড়তি চাপ পড়ছে, তেমনি একটি মাত্র ব্যাংকে টাকা জমা নেয়ায় গ্রাহকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পটুয়াখালী ব্র্যাক ব্যাংকের একটি বুথে বিআরটিএ’র রেজিস্ট্রেশনসহ যাবতীয় ফি’র টাকা জমা নেয়ায় প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জনের বেশি মানুষের টাকা জমা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রহকদের। আর এ কারণে মোটরসাইকেলে রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দিতে এসে তিন থেক চারদিন পর্যন্ত অবস্থান করছেন অনেকে। আর এ কারণে গভীর রাতেও ব্যাংকে এসে টাকা জাম দেয়ার জন্য সিরিয়াল দিতে দেখা গেছে।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে আসা সোহরাব হোসেন জানান, গত ৫ দিন ধরে ব্র্যাক ব্যাংকের এসেও তার মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দিতে পারেননি। এই পাঁচদিন যাবত পটুয়াখালী শহরে হোটেলে থাকতে ও খেতে হচ্ছে।

পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার ভৌগলিক কারণে এ অঞ্চলে যাত্রী পরিবহন ও জনপরিবহন হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহার অনেক বেশি। এ কারণে অন্যান্য জেলার থেকে দক্ষিণ অঞ্চলে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেশি লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে পটুয়াখালী ব্র্যাক ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রতিটি রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা নিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে সময় লাগে। এ কারণে কিছুটা দেরি হচ্ছে।’ এ ছাড়া বিকেল তিনটার পর বিআরটিএ’র সফটওয়্যারে কাজ করা যায় না বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী বিআরটিএ’র চলতি দায়িত্বে থাকা মোটরযান পরিদর্শক মোসাদ্দেক হোসেন, বাড়তি টাকা নেয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রতিদিন এক থেকে দেড়শ মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের আবেদন আসছে। এই কারণে আবেদন জমা নিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।’