২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মায়ের পেটও এখন আর শিশুর জন্য নিরাপদ নয় ॥ কাদের সিদ্দিকী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাগুরায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষের সময় মায়ের গর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আক্ষেপ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, “এখন কারও আবেগ নেই, বিবেক নেই। থাকলে এই ঘটনার পর সবাই জ্বলে উঠত। সরকার সভ্য হলে তারা পদত্যাগ করত। এ ঘটনা দেখে আমার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করেছিল। কিন্তু আত্মহত্যা মহাপাপ বলে আমি তা করিনি।

শুক্রবার বেলা সাড়ে এগারোটায় মাগুরায় যুবলীগের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ মা নাজমা ও শিশু সুরাইয়াকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, এই ঘটনার দায় সমাজ ও সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীর বিচার চাই। না হলে সরকারের পরিণতি ভাল হবে না।

শিশুর মা নাজমা বেগমের সঙ্গে দেখা করে কাদের সিদ্দিকী তাকে বলেছেন, আমি স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম অথচ এদেশে স্বাধীনতার ফসল হিসেবে মায়ের গর্ভের সন্তানও নিরাপদ নয়। এটা যদি ভাবি তাহলে আমার জন্য বিষয়টি সবচেয়ে ন্যক্কারজনক, আমি এর জন্য অপরাধী।’

দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ২৮ জুন আমি ফুটপাথে বসেছিলাম। তখন দেখেছি সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়, তারা হানাহানি চায় না।

এদিকে, শুক্রবার মা নাজমা বেগমকে গাইনি ওয়ার্ড থেকে কেবিনে নেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন শিশু সুরাইয়ার অবস্থাও এখন উন্নতির দিকে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি তাকে এনআইসিইউ থেকে বের করে আমরা তার মায়ের কাছে দিতে পারব।

উল্লেখ্য, মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম। গুলি তার পেটে থাকা শিশুর শরীরও এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়। এ সময় গুলি ও বোমায় আহত হন নাজমা বেগমের চাচাশ্বশুর মমিন ভূঁইয়া। পরদিন তিনি মারা যান।

মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে মাত্র ৩৪ সপ্তাহে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখে শিশু সুরাইয়া। জন্মের পর শুক্রবার তার ১৬তম দিন। হিসাব অনুযায়ী এখনও মায়ের পেটেই থাকার কথা ছিল সুরাইয়ার।