২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রবাসীদের জন্য নতুন ঋণ প্রোডাক্ট চালু করা হবে ॥ গবর্নর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য সকল ব্যাংকের অংশগ্রহণে একটি নতুন ঋণ প্রোডাক্ট চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। মালয়েশিয়ার বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ের ভিত্তিতে এটি চালু করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীদের কর্মস্থল ও তাদের পরিচয় সংরক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আদলে রেমিটারদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য একটি ‘হটলাইন’ নম্বর স্থাপনেরও পরামর্শ দেন গবর্নর। শনিবার সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশী (এনআরবি সেন্টার) এর উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় আয়োজিত “ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০১৫” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় গৃহীত বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টির বিষয় তুলে ধরে গবর্নর বলেন, একটি চ্যালেঞ্জ তহবিলের মাধ্যমে দশ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে এবং তরুণ উদ্যোক্তারাই বাংলাদেশের চেহারা বদলে দিচ্ছে। উদ্যোমী তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী শ্রমিকেরাই বাংলাদেশের উচ্চতর টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

গবর্নর বলেন, আমাদের যে সব উদ্যোমী উদ্যোক্তা দরকার তা একটি সক্ষম পরিবেশেই সৃষ্টি হচ্ছে, যেখানে মানুষ তাদের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারে। তিনি আশা করেন, আমরা যদি মালয়েশিয়ার সরকার ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে এক হয়ে একটি স্বচ্ছ, ডিজিটাল ও গ্রহনযোগ্য প্রক্রিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ চুক্তি সম্পাদন করতে পারি তাহলে খুব শিগগিরই মালয়েশিয়া হবে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের অন্যতম বৃহৎ উৎস। তিনি সম্মেলনে উপস্থিত অনিবাসী বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দ ও উদ্যোক্তাদের এ বিশেষ সুবিধা অনুধাবন করে হাইকমিশনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও তাঁর টিমের অঙ্গীকার এবং পেশাগত ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত অতিরিক্ত প্রায় পনের লক্ষ রেমিটারের চাকরি প্রদানের বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান রেমিটারদের কনস্যুলার সেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে হাইকমিশনারকে আরও সহযোগীতা, এখানে লোকবল বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া। বর্তমানের বাংলাদেশ একটি ভিন্ন বাংলাদেশ, যা সামনের দিকে অগ্রসরমান। এমন বাংলাদেশের কথা অনেকেই কল্পনাও করেনি। তিনি বলেন, এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। তিনি ভবিষ্যতে চালু হতে যাওয়া অফশোর টাকা বন্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ বন্ডের টাকা দেশের অবকাঠামোগত প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।

অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার শহিদুল ইসলাম সম্ভাব্য উত্তম উপায়ে রেমিটারদের ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, ঔষধ শিল্প, হালকা প্রকৌশল ও অবকাঠামোর মতো অগ্রাধিকার খাতগুলোতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এনআরবি সেন্টারের চেয়ারপার্সন শেকিল চৌধুরী।