২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সবজি চাষীদের কল্যাণে-

প্রতিবছর অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়ন, নদী ভাঙ্গন ও লবণাক্ততার কারণে হ্রাস পাচ্ছে শতকরা ১ ভাগ হারে কৃষি জমি। তার পরও দেশে চালের উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি, গমের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ, সবজির উৎপাদন বেড়েছে পাঁচগুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ। বছরে ১০ লাখ টন আম উৎপাদন করে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় রয়েছে নবম স্থানে। ৯৬ লাখ টন আলু উৎপাদন করে পৃথিবীর শীর্ষ আলু উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় রয়েছে ১০ম স্থানে। পৃথিবীর প্রায় ৫০টি দেশে বাংলাদেশ থেকে সবজি রফতানি হচ্ছে। কৃষিতে যথেষ্ট উন্নতি করেছে বাংলাদেশ কৃষকের জন্যই। কৃষিক্ষেত হেসে ওঠে কৃষকেরই সৌজন্যে। অথচ বছরের অনেক সময়েই অনেক কৃষকের মুখে হাসি থাকে না। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন কৃষক। অপরদিকে কৃষিপণ্য নিয়ে যারা ব্যবসা করেন তাদের অবস্থা পোয়াবারো। বাড়তি মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রি করে আসল লাভবান হন তারাই। মুনাফাই যাদের নীতি বাজে অজুহাত দিতে তাদের বাধে না। যেমন এখন দেয়া হচ্ছে বৃষ্টির দোহাই। দেশে সব ধরনের সবজির দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে। অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে বাড়ানো হয়েছে। আর এজন্য ব্যবসায়ীরা দুষছেন বৃষ্টিকে। তাদের দাবি, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে অনেক সবজির ফসল নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাপ্ত তথ্যে মিলছে ভিন্ন চিত্র। ৬৪টি জেলার মধ্যে বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ জেলার সবজির ক্ষেত। এই ৩৩ জেলায় সবজির আবাদ হয়েছে ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাত্র ২ হাজার হেক্টর সবজির জমি। সুতরাং বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বৃদ্ধি একেবারে খোঁড়া অজুহাত। বলাই বাহুল্য, মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যের কারণেই দাম বেড়েছে সবজির।

দেশে সবজির উৎপাদন খরচের সঙ্গে বর্তমান বাজারদরের কোন মিল নেই। এই বাজারমূল্যের বড় অংশটি যদি কৃষকের কাছে যেত তাহলে দেশে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। কিন্তু এই অতিরিক্ত দামের অর্থ যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। এরাই মূলত কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচা পণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকে। এই দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোন ধরনের নিয়ম মানা হয় না কিংবা এসব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের কোন কার্যকর ব্যবস্থাও নেই। উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ে সবজির দামের তফাত কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা হওয়া রীতিমতো অস্বাভাবিক। প্রতি কেজি করলা, পটোল বা বেগুন কৃষক বিক্রি করছে মাত্র ২০ টাকায়। আর ভোক্তাকে এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। এভাবে প্রতিটি সবজির দাম উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ে বিস্তর তফাত স্পষ্টই বলে দিচ্ছে ভোক্তার পকেট মারার এবং উৎপাদককে প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করার অনৈতিক চক্রটি এখন সক্রিয়।

সিন্ডিকেট তথা মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যের কারণেই এখন সবজির বাজার এত চড়া। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর পাশাপাশি কৃষকবান্ধব নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের আবশ্যকতা অস্বীকার করা যাবে না। কৃষকের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় কৃষি আদালত গঠনের কথাও উচ্চারিত হচ্ছে। আমরা মনে করি আধুনিক এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরী যাতে করে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কেউই নিয়মমাফিক স্ব স্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয়। এক্ষেত্রে পণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থারও আধুনিকায়ন জরুরী।