২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদি আরবে মসজিদে হামলা

ফের সন্ত্রাসীদের হামলায় রক্তাক্ত হলো সৌদি আরব। এবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহার এক মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আইএস। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছে। দেশটির পুলিশের বিশেষ বাহিনী এই মসজিদে নামাজ পড়ে থাকেন। নিহতরা হলেন স্পেশাল উইপন এ্যান্ড ট্যাক্টিসের (সোয়াত) সদস্য। সোয়াতের সদর দফতরের মসজিদেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে দেশটির দাম্মানে শিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে বোমা হামলায় ২৫ জন নিহত হয়। একই সময়ে পূর্বাঞ্চলীয় শহর কাতিফে বোমা হামলায় ২১ জন নিহত হয়। যথারীতি এই হামলার দায়ও শিকার করেছে আইএস।

জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের থাবায় বিধ্বস্ত প্রায় সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে ওই অঞ্চলে বার বার এই সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতা, নেতৃত্বের লোভ, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং বিদেশী শক্তির লেজুড়বৃত্তির কারণে অঞ্চলটিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রসারিত হচ্ছে। অঞ্চলটিতে এখন নৃশংসতা ও সহিংসতা মানেই আইএস। ইতোমধ্যে আইএস তাদের আবির্ভাবের দুই বছরেরও বেশি সময় পার করেছে। তারা হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা, মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, বিদেশী নাগরিক, ভিন্নমতাবলম্বী বা অন্য ধর্মের লোকের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, আইএস বিশ্বশান্তির জন্য চরমভাবে হুমকিস্বরূপ। মানবতার বিরুদ্ধে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। অনেক দেশে কম-বেশি এরা ক্ষমতার জাল বিস্তার করার চেষ্টা করছে। ইরাক-সিরিয়ার একটা বড় অংশ দখলের পর মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানসহ তাদের সমর্থক ও সহযোগীদের মাধ্যমে উপস্থিতির বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এখানে মূল ইস্যু সম্প্রদায়গত। শিয়া-সুন্নিদের বিরোধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ইরাক আগ্রাসনে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংখ্যালঘু সুন্নিদের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব সেখানে ক্ষুণœ হতে থাকে। সেই থেকেই মূলত এই অঞ্চলটিতে শিয়া-সুন্নি-কুর্দি সম্প্রদায়গত বিভেদ তীব্র আকার ধারণ করছে।

যুদ্ধ এবং সন্ত্রাসের মাধ্যমে কখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় তার বহু উদাহরণ দেয়া যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কারও অজানা নয়। সাদ্দাম হোসেনের কথাই ধরা যায়। তিনি কার শক্তিবলে প্রতিবেশী কুয়েত, ইরান আক্রমণ করেছিলেন, তার পরিণতিইবা কি নির্মম হয়েছিল সেটা কারও অজানা নয়। লিবিয়ার একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির নির্মম পরিণতিও বিশ্ববাসী জানে। তিউনিসিয়ার লৌহমানবখ্যাত জয়নাল, মিসরের হুসনি মোবারকের পতন এতটা নির্মম না হলেও বেদনাদায়ক। এখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে যা হচ্ছে তার পরিণতিও যে খুব সুখকর হবে তা বলা যাবে না। মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতই সুযোগ করে দেয় বিদেশী হস্তক্ষেপ। এখন সৌদি আরবের অবস্থা যেদিকে যাচ্ছে তা সে পথেরই আলামত। এই ধরনের বর্বর হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের সোচ্চার হওয়া দরকার। তা না হলে বিশ্বটা দিনে দিনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তাই এ ধরনের হামলা তথা নৃশংসতা বন্ধে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।