১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্পাদক সমীপে

কে দেবে এর উত্তর?

বাংলাদেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন প্রায় অর্ধশত যাত্রী। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধানতম কারণ হলো বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালক দিয়ে পরিবহন পরিচালনা, বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের পানি জমে গর্ত হওয়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালনা এবং নসিমন-করিমনসহ অটোরিক্সা দৌরাত্ম্যই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে জানা গেছে। দৈনিক জনকণ্ঠের তথ্যমতে, সারাদেশে অবৈধ চালকের সংখ্যা ৩৩ লাখেরও বেশি। রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। ৬১ ভাগ চালক কোনরকম পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স পাচ্ছেন। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ৯১ ভাগ চালক। প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। এত মৃত্যুর জন্য দায়ী অবকাঠামো ও সরকারী-বেসরকারী ব্যবস্থাপনার সঙ্কট। যোগাযোগ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক কর্তৃপক্ষের মজ্জাগত সুবিধাবাদ ও গাফিলতির কারণে এত প্রাণহানি। সুতরাং এত মৃত্যুকে দুর্ঘটনা না বলে কাঠামোগত হত্যাকা-ই বোধহয় বলা শ্রেয়। আর তাই দৈনিক জনকণ্ঠের ২৫ জুলাই পত্রিকায় শিরোনাম করেছেÑ ‘পথে পথে মৃত্যু’।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী গণমাধ্যমে বলেছেন ‘সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির বিধান রেখে আইন করা হবে।’ কিন্তু এতদিনে এ আইন করা হলো না কেন? এর উত্তর কে দেবে?

অশোক কুমার সাহা

কুমারখালী, কুষ্টিয়া

পলিথিন ব্যাগ

প্রতিদিন যথেচ্ছাচার পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করার ফলে পরিবেশ দূষণ প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। ঢাকা শহরে অধিকসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন প্রকার পণ্য ক্রয় করে পলিথিন ব্যাগে মালপত্র বহন। দেখা গেছে, কোন ক্রেতা যদি পাঁচ প্রকার সবজি ক্রয় করে তাহলে পাঁচটি পৃথক পলিথিনে পাঁচটি সবজি বহন করে। এখন আর বাজার করার জন্য কেউ চটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করে না।

প্রতিদিন ব্যবহৃত এবং পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগে পয়ঃনিষ্কাশন নালা এবং পানি নিষ্কাশন নালা বন্ধ হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। তাছাড়া দেখা যায়, অনেকে ব্যবহৃত পলিথিন ব্যাগ অন্যান্য ময়লা আবর্জনার সঙ্গে পুড়িয়ে ধ্বংস করে থাকে। ফলে পোড়া পলিথিন ব্যাগের বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশ এবং বসবাসরত মানুষের ক্ষতি করে থাকে। পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং বিকল্প পলিথিন ব্যাগের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

মাহতাব আলী

মিরপুর, ঢাকা

জঙ্গী দমনে করণীয়

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে জেএমবি, হিযবুত তাহরীর, আল কায়েদা, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, বোকো হারাম, আল-শাবাব, ব্রাদারহুড, আইএস ইত্যাদি নামে জঙ্গী কার্যক্রম চালাচ্ছে। বাংলাদেশে এদের পূর্ব পরিচয় জামায়াত-হেফাজত। ইসলাম শান্তির ধর্মকে জঙ্গীরা অশান্তিতে পরিণত করে পরাশক্তিকে আগ্রাসনের সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলমানকে ৫৫০ কোটি অমুসলিমদের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করছে। যুব সমাজকে বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে তাদের দলে ভেড়াচ্ছে। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের মগজধোলাই করে শেখায় ‘জঙ্গী কর্মকা-ে মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী।’ দেশের বিশিষ্টজন, বুদ্ধিজীবী, মুক্তমনা, শিক্ষাবিদ ও আদর্শবান রাজনীতিবিদরা হলেন তাদের হত্যার টার্গেট। আগে তারা একশ্রেণীর মাদ্রাসাকেন্দ্রিক থাকলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেফতারকৃত জঙ্গীরা জামিন পেয়ে আবার সংগঠিত হচ্ছে এবং অনেকে পলাতক। এ দেশের মৌলবাদী জঙ্গীরা চাচ্ছে বাংলাদেশকে মধ্যযুগের ভিক্ষুকের দেশ বানাতে। এ বিষয়ে আমার কিছু সুপারিশ হলোÑ প্রথমত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিছু মহল কোরবানির ঈদ ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে বিদেশী অর্থে শত শত গরু-ছাগল দানসহ বিভিন্নভাবে নিম্নবিত্তদের দলে ভেড়াচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ইসলামের অপব্যাখ্যার অনুসরণে জঙ্গী দলে যোগ দিয়ে যুবসমাজ কিভাবে ধ্বংস হয়, জঙ্গীদের দলে যোগ দিলে জীবনের ভয়াবহ পরিণতি সম্বন্ধে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের সন্নিবেশিত করে শিক্ষা দেয়া। তৃতীয়ত, জঙ্গী সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা ও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে সংসদে আইন পাস করা। বিচারে জঙ্গীদের পক্ষে আপীলের সুযোগ না রাখা। তিন মাসের মধ্যে বিনা জামিনে বিচার সম্পন্ন করা। চতুর্থত, প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে জঙ্গীদের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা। পঞ্চমত, বিশ্ববিদ্যালয় ও সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা। ষষ্ঠত, জঙ্গী দমনের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও অত্যাধুনিকভাবে প্রশিক্ষিত করা। জঙ্গী দমনে আরও কঠোর না হলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

নূরুল আলম

রামপুরা, ঢাকা