১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্রদ্ধাঞ্জলি ॥ শব্দসৈনিক এমআর আখতার মুকুল

  • শামীম মমতাজ (দীপ্তি)

ব্রিটিশ আমলে শৈশব কাটানো, যৌবনে পাকিস্তান দেখা, ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক এমআর আখতার মুকুল। যিনি তাঁর কণ্ঠে ধারণ করেছেন নয় মাসের প্রতিদিনের মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর মুক্তির স্বাধীনতার স্বপ্ন তিনি দেখেছেন। সময়টা ছিল পরিবর্তনের দেশকে এগিয়ে নেয়ার। তাই তো প্রতিটি ৯ আগস্টে ফিরে ফিরে আসে চরমপত্র সঙ্গে মুক্তির সংগ্রাম।

সে ছিল এক অভূতপূর্ব যুগলবন্দী ইথারে ইথারে ভেসে বেড়ানো যুদ্ধের কূটনীতি কণ্ঠে কণ্ঠে উচ্চারিত হতো রণনীতি যুদ্ধের মূলমন্ত্র। কাগজে-কলমে ও কণ্ঠের এক কথিকার রূপকাহিনী শুরু হয়েছিল ’৭১-এর ২৫ মে যা শেষ হলো ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে। পুরো ২০০ দিন ধরে চলা তাঁর কলম, কণ্ঠ ও শব্দের নানা ব্যবহারে আখতার মুকুল ছিলেন এক সাহসী বীর শব্দযোদ্ধা।

দায়বদ্ধতা ছিল তাঁর সত্য উচ্চারণের মা-মাটি। আর মানুষের কথায় সোচ্চার ছিল তাঁর কলম। তাই প্রতিবছর ছাইভস্ম থেকে ফিনিস পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে আসে ৯ আগস্ট চরমপত্রের মুকুলের মায়ের কোল আলো করে আসার দিন তাঁর শুভ জন্মদিন।

সাংবাদিকতায় স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এম আর আখতার মুকুল ছিলেন এক লড়াকু কলামিস্ট। জীবনে এক বিন্দু আপোস করেননি কোনদিন। যা বলার তা বলতেইÑ যা লেখার তা লেখতেই যা জানাবার তা জানাতেই সত্য প্রকাশে তাঁর কলম ছিল সদা সোচ্চার। তিনি ছিলেন এক অক্লান্ত, বেপরোয়া, অকুতোভয় লেখক। তিনি জানতেন কলমকে কিভাবে তলোয়ারের মতো ব্যবহার করতে হয়Ñ সঙ্গে তার গলার নানা স্বরে, নানা মাত্রায়, নানা বর্ণে ও নানা ছন্দে এক জাদুর বাঁশি প্রচার করে গেছেন দীর্ঘ মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস। তাঁর লড়াইকৃত কলম ছিল নির্ভীক দেশপ্রেমে মাখা যা কোন সময়ই থেমে থাকেনি। তাঁর লেখায় যুক্তিতর্কের সমারোহ পাঠকদের মনকে আবিষ্ট করে তুলত।

লেখেন অনেকেÑ কথিকা পাঠ করেন অনেকেই, গানে মুগ্ধ করেন শ্রোতাদের কবির কবিতায় ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে পড়েন। আরও অনেক তবে চরমপত্রের সেই বজ্রকণ্ঠ একজনেরই মুক্তিযুদ্ধের রণসঙ্গীত একজনই গেয়েছেন যা শুনে বাংলার দামাল ছেলেরা হাসতে হাসতে প্রাণ দিয়েছে ’৭১-এর রণাঙ্গনে। তিনিই মোস্তফা রওশন আখতার মুকুল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্থপতি চরমপত্রের নায়ক দুক্কুমিয়া চরমপত্রের মুকুল। আজ তাঁর ৮৬তম শুভজন্ম। তাঁর লেখনী বহুল জীবনের নানাদিক শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার মাঝেই ’৭১-কে নতুন করে সামনে আনা আজকের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া সত্যিকারের মুক্তযুদ্ধের ইতিহাস।

শুভজন্মদিন মুকুল ভাই তোমাকে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া