২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রো রো ফেরি বন্ধ

  • নাব্য সঙ্কটে শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ নাব্য সঙ্কটের কারণে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মধ্যম আকৃতির কে-টাইপ ফেরিগুলোও চলছে ঝুঁকি নিয়ে। যে কোন সময় এসব ফেরিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে এ নৌরুটে ফেরি পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সীমিত সংখ্যক ফেরি পারাপারে ঘাটে দেখা দিয়েছে যানজট। ফলে যাত্রী দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার রাতে ২টি রো রো ফেরি ডুবোচরে আটকে পড়ে। দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার হলেও গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে পরে তা শিমুলিয়া ঘাটে ফিরে আসে যানবাহনসহ।

শিমুলিয়াঘাটে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ম্যানেজার চন্দ্র শেখর রায় জানান, শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদীর লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে নাব্য সঙ্কটের কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা হতে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়ে। রাত ৮টার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে কাওড়াকান্দির উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে গিয়ে ডুবোচরে আটকে যায়। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টায় ফেরিটি উদ্ধার করা হলেও সেটি আর গন্তেব্যে পৌঁছতে পারেনি। ফলে শিমুলিয়া ঘাটে ফিরে এসে যানবাহন আনলোড করা হয়। একই অবস্থা হয় রো রো ফেরি আমানত শাহের। শুক্রবার রাত ১টায় এ ফেরিটি যানবাহন নিয়ে কাওড়াকান্দির উদ্দেশে শিমুলিয়া ঘাট ত্যাগ করে। কিন্তু লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে গিয়ে ডুবোচরে আটকে যায়। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা চেষ্টার পরে ফেরিটি শনিবার সকাল ৯টায় এটি উদ্ধার করে শিমুলিয়া ঘাটে নিয়ে আসা হয়।

তিনি জানান, রো রো ফেরি চলাচল করতে সর্বনিম্ন পানির গভীরতা প্রয়োজন সাড়ে ৭ ফুট। কিন্তু লৌহজং টার্নিংয়ের ওই পয়েন্টে পানি রয়েছে মাত্র সাড়ে ৫ ফুট। এতে রো রো ফেরিগুলো ওই পয়েন্টে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। এতে ফেরির প্রপেলারসহ ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই রো রো ফেরি রীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, আমানত শাহ, গোলাম মাওলা ও শাহপরানসহ ৪টি ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বড় আকারের এই ফেরিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য ফেরিতে যানবাহন পারাপারে চাপ পড়েছে। তাছাড়া মধ্যম আকৃতির কুসুম কলি, ক্যামেলিয়া, কলমীলতা, করবী ও কেতকীসহ কে-টাইপ ৫টি ফেরিও চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এসব ফেরিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক যানবাহন পারাপার করতে পারছে না। ধারণ ক্ষমতার কম সংখ্যক যান নিয়ে ফেরিগুলো নৌরুট পারি দিচ্ছে। ফলে ঘাটে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপ-পরিচালক এসএম আজগর আলী জানিয়েছেন, ১৯ জুলাই ঈদের পরদিন হতে নৌরুটের ওই পয়েন্টে ড্রেজিং কাজ চলছে। কিন্তু প্রাকৃতিক সমস্যার কারণে ড্রেজিংয়ে নানা প্রতিন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা একদিকে ড্রেজিং করছি, অপরদিকে উজান থেকে ধেয়ে আসা পলিমাটি পড়ে ড্রেজিংকৃত জায়গা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে পদ্মায় পানিও কিছুটা কমেছে। জোয়ার-ভাটার কারণেও চ্যানেলে পানির গভীরতা কমে যাচ্ছে। ফলে রো রো ফেরি চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ড্রেজিং অব্যাহত আছে । অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।

নির্বাচিত সংবাদ