২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গভীর সাগরে পৌঁছায় না আবহাওয়ার পূর্বাভাস

  • দুর্যোগে প্রাণ যাচ্ছে জেলেদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বরগুনা, ৮ আগস্ট ॥ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা জেলের দুর্দশার সীমা নেই। উপকূলীয় জেলেদের জীবিকা চলে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকার করে। সাগরে নানা ধরনের সমস্যা অতিক্রম করার পরও রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ দুর্যোগের কবলে পরলে বেঁচে ফেরে কপাল জোরে।

পাথরঘাটা উপকূলের জেলে পল্লী থেকে জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে জেলেদের ট্রলারে কোন রেডিও দেয়া হয় না। পাওয়া যায় না মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক। সম্প্রতি অগভীর সমুদ্রে টেলিটকের নেটওয়ার্ক কিছুটা পাওয়া গেলেও গভীর সমুদ্রে তা পাওয়া যায় না। এতে জেলেরা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে মৎস্য শিকারে ব্যস্ত জেলেদের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছায় না। এতে অনেক সময়ই তাদের ওপর নেমে আসে ভয়ঙ্কর সব বিপদ। যেখান থেকে বেঁচে ফেরা নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। জেলেদের ওপর না বলেই নেমে আসে প্রাকৃতির বিপদ বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

পাথরঘাটা উপজেলায় সমুদ্রের কূল ঘেঁষা পদ্মা গ্রাম। জেলে পল্লীর পাশাপাশি ইলিশ বেচাকেনার জন্য সেখানে গড়ে উঠেছে একটি ছোট বাজার। এখানকার চরে বসত গেঁড়েছে শতশত জেলে পরিবার। ২০০৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গোপসগারে যে ঝড় হয়েছিল তাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন এই জেলে পল্লীর ১৩ জন জেলে। বরগুনা পাথরঘাটা উপজেলার পশ্চিম হারিটানা গ্রামের জেলে মাহবুব প্রায় ২০ বছর ধরে সমুদ্রে মৎস্য শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মৌসুম এলেই ট্রলার নিয়ে সমুদ্র যাত্রা তার। কিন্তু কোনদিন মহাজন তাদের নৌকায় সতর্কতার জন্য রেডিও দেননি।

জেলেদের সমুদ্রে রেডিও না দেয়ার কথা অস্বীকার করে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতি সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেদের ট্রলারে রেডিও দেয়া হয়। কিন্তু রেডিওতে সিগন্যাল পাওয়া যায় না, তাই জেলেরাই রেডিও বহন করতে চান না। তার চেয়ে মোবাইল ফোনে অনেক বেশিদূর পর্যন্ত নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তাই রেডিওর চেয়ে মোবাইল ফোনই বেশি ব্যবহার করতে চান জেলেরা। কিন্তু গভীর সমুদ্রে মোবাইল ফোনেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বঙ্কিম চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মৎস্য বিভাগ জেলেদের রেডিও ব্যবহারে সচেতন করছে। এছাড়া গভীর সমুদ্রে নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য ভেসেল ট্রাকিং এ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেমের আওতায় চট্টগ্রাম ও খুলনায় টাওয়ার নির্মাণের কাজ চলছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে জেলেরা উপকৃত হবেন।