১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেউ খোঁজ নেয় না গারো আদিবাসীদের-

  • আজ আদিবাসী দিবস

রফিকুল ইসলাম আধার, শেরপুর ॥ উন্নয়ন-উৎকর্ষের যুগেও দিনকাল ভাল যাচ্ছে না শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের জনপদের আদিবাসীদের। ভাল নেই তারা। কেউ তাদের খোঁজখবর নেয় না। ভোটাধিকারের প্রশ্নে সমান অবস্থান হলেও উন্নয়ন-সুদৃষ্টির ক্ষেত্রে তফাৎ অনেক। যে কারণে পালাবদলের ধারাবাহিকতায় সরকার আসে, সরকার যায়Ñ উন্নয়ন হয় অনেক কিছুর। কিন্তু আদিবাসীদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। ঠিক এমন করেই আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলার খলচান্দা গ্রামের কোচ আদিবাসী ম-ল শবরন্ত কোচ (৭০)। তার মতে, অভাব-অনটন, দুঃখ-দুর্দশাই যেন আদিবাসীদের নিত্যদিনের সঙ্গী, ভাল নেই এখানকার আদিবাসীরা। বছর ঘুরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস এলেও তারা জানে না এ দিবসের তাৎপর্য কী?

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পাহাড়ী জনপদ শেরপুরের গারো পাহাড়। জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় গারো, হাজং, কোচ, বানাই, ডালু, হদি, বর্মণ ও বংশীসহ বিভিন্ন জাতি-গোত্র, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী মিলে প্রায় ৫০-৬০ হাজার আদিবাসী পরিবারের বসবাস। এদের মধ্যে ৭০ ভাগ আদিবাসী পরিবারের সদস্য দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অথচ এককালে এদের সবকিছুই ছিল। ছিল গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ, গোলা ভরা ধান। কিন্তু কালের আবর্তনে সবকিছু হারিয়ে আজ তারা দিশাহারা। এখন এদের অধিকাংশেরই নেই নিজস্ব জমিজমা। এসব আদিবাসী পরিবারের সদস্য বন বিভাগের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাসের পাশাপাশি শ্রম বিক্রিসহ নানাভাবে পরিবারের সদস্যদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বাকি ৩০ ভাগ আদিবাসী পরিবারের সদস্যের জমি থাকলেও বন্যহাতির তা-বে গত ১২-১৪ বছর ধরে তাদের জমিতে কোন ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। এ কারণে অনেক আদিবাসীর জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে। ফলে এ জেলার আদিবাসীরা দিনমজুর আর ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে। আদিবাসী মহিলারা ক্ষেতে-খামারে, মাঠে-ময়দানে এমনকি সংসারের সকল কাজকর্ম করে থাকে। আর পুরুষরা বাড়িতে বসে তাদের ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করে। তবে অতীতের তুলনায় অনেক আদিবাসী পুরুষ এখন আর ঘরে বসে থাকতে চাইছে না। বছরে দুই মাস আমন ও ইরি-বোরো মৌসুমে এ জেলার আদিবাসী নারী-পুরুষ শ্রমিক কৃষির ওপর শ্রম বিক্রি করে যা পায় তাই দিয়ে কোন রকমে পরিবারের সদস্যদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বাকি ১০ মাস তাদের থাকতে হয় বেকার, নির্ভর করতে হয় গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলের ওপর। আদিবাসী মহিলারা গারো পাহাড় থেকে জ্বালানি কাঠ বা লাকড়ি সংগ্রহ ও তা বাজারে বিক্রি করে থাকে। কিন্তু গারো পাহাড়ে আগের মতো এখন আর জ্বালানিকাঠ পাওয়া যায় না। যাও পাওয়া যায়, তাও আনতে দেয় না বন বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অংশীদাররা। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছরেও এখানে গড়ে ওঠেনি আদিবাসী শ্রমিকদের জন্য কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বর্তমানে শেরপুরের তিন উপজেলায় আদিবাসীদের দুঃখ-কষ্টের শেষ নেই। ভাল নেই তারা। দুর্দশাগ্রস্ত অনেক আদিবাসীর বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন্যহাতির দল। ১২-১৪ বছর ধরে পাহাড়ী এলাকার আদিবাসীরা প্রতিনিয়ত বন্যহাতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে।