২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আবারও মেয়াদ বাড়ল দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণে

  • হতাশ কয়েক লাখ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ॥ হরতাল অবরোধসহ নানা অজুহাতে আবারও মেয়াদ বাড়ল দ্বিতীয় জাতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ কাজের। এতে করে একদিকে যেমন কয়েক লাখ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশার। অন্যদিকে তাদের দুর্ভোগ আর ভোগান্তিও আপাতত কাটছে না। এলাকাবাসী বলছেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণ তদারকি সংস্থার খামখেয়ালিপনার কারণেই এ দুর্ভোগ। তবে নির্মাণ তদারককারী কর্তৃপক্ষ বলছে নানা কারণেই সময় বাড়াতে হয়েছে।

বহমান এই তিস্তা নদীর একদিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর অন্যদিকে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা। এই দুই জেলার মানুষের মাঝে এক নিবিড় ও নিরবচ্ছিন্ন এক সেতুবন্ধ গড়ে তুলতেই নির্মাণের উদ্যোগ ছিল দ্বিতীয় এই তিস্তা সড়ক সেতুর। কিন্তু বারবার সময় বাড়িয়েও সঠিক সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে না পারায় এখনও খেয়া নৌকাই ওই দুই এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা। এতে দুই জেলাবাসীর মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশার। শুধু নিবিড় সম্পর্কই নয়, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ স্বপ্নের এই সেতু নির্মিত হলে পাল্টে যাবে এখানকার শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা বাণিজ্য ছাড়াও আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিত্র। এতে করে এ অঞ্চলের একমাত্র স্থলবন্দর বুড়িমারীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে একদিকে যেমন সড়কটি পরিণত হবে আন্তর্জাতিক একটি মহাসড়কে। অন্যদিকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও কমে আসবে ৪০ কিলোমিটার। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১শ’ ২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় এই দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। সিডিউল অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৩০ জুন এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তা করতে না পারায় ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১ম দফায় সময় বর্ধিত করা হয়। এ সময়েও শেষ করতে না পারায় এবার দ্বিতীয় দফায় আবারও ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এ সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ এমসিজি নাভানা জেভি, ঢাকার প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাধন কুমার পাল হরতাল অবরোধের কারণে বিলম্বের কথা স্বীকার করে জানান, দেরি হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে এ্যাপ্রোচ সড়ক। এছাড়া নির্মাণ কাজ তদারককারী লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল আমিন খান বলছেন, ইতোমধ্যেই প্রকল্পের ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আর এ কাজে সময় ক্ষেপণ হলেও এ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে না।