২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেশিনের বাতাসের প্রচণ্ড চাপে নাড়ি ও ক্ষুদ্রান্ত্র ফেটে রক্তক্ষরণে মৃত্যু

মেশিনের বাতাসের প্রচণ্ড চাপে নাড়ি ও ক্ষুদ্রান্ত্র ফেটে রক্তক্ষরণে মৃত্যু
  • রাকিব হত্যাকাণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ পৈশাচিক নির্যাতনে মৃত্যুবরণকারী শিশু রাকিবের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটির পেটের ভেতরের নাড়ি ও ক্ষুদ্রান্ত্র ফেটে যাওয়া, অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণ, মলদ্বার ফেটে যাওয়া, ফুসফুস চুপসে যাওয়া মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, নিহত শিশু রাকিবের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন শনিবার তিনি হাতে পেয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মলদ্বার দিয়ে দ্রুত বাতাস ঢোকায় শিশুটির পেটের ভেতরের নাড়ি ও ক্ষুদ্রান্ত্র ফেটে যায়। পেটের ভেতরে শুরু হয় অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণ। এই রক্তক্ষরণেই মারা যায় শিশু রাকিব। এছাড়া প্রচন্ড বেগে বাতাস ভেতরে প্রবেশ করায় শিশুটির মলদ্বারও ফেটে যায়। ফুসফুস চুপসে যায়। দুই হাতের আঙ্গুল ও দুই পায়ের গোড়ালিতে রক্ত জমে যায়।

গত ৩ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলের হাওয়া দেয়া কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ শিশু রাকিবের মলদ্বারে ঢুকিয়ে তার পেটে হাওয়া দেয়া হয়। শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে স্থানীয় দু’টি ক্লিনিকে এবং পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। রাতে শিশুটি মারা যায়। পরের দিন রাকিবের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।

শিশু রাকিবের মর্মান্তিক হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া কবরখানার নিকটবর্তী শরীফ মটরস নামক গ্যারেজের মালিক শরীফ, সহযোগী মিন্টু ও শরীফের মা বিউটি বেগমকে বিক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। শরীফ ও মিন্টু গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে রাকিব হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামির মধ্যে বিউটি বেগম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তিন দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার তিনি আদালতে এই জবানবন্দী প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রধান আসামি শরীফ ও মিন্টু হাসপাতাল থেকে সুস্থতার ছাড়পত্র পেলে তাদের দু’জনকে জিজ্ঞাসবাদ করা হবে। এই দুই আসামির এক জনের মাথার আঘাত এবং এক জনের পায়ের আঘাত বেশি। সুস্থ হয়ে উঠতে আরও ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

রাকিব হত্যাকারীদের বিচার দাবি ॥ শিশু রাকিব হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে খুলনায় আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকালে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে সন্ধানী ডোনার ক্লাব, ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট এ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইট, মহিলা দল, ডাকবাংলো এলাকায় ইসলামী আন্দোলন, টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডে পরিবার পরিকল্পনা সমিতির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে রাকিবসহ শিশু হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ।