১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘একটি জমি কিনে প্রলয়ঙ্করী বিপদের মুখে পড়েছি’

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ৮ আগস্ট ॥ ‘একটি জমি কিনে প্রলয়ঙ্করী বিপদের মুখে পড়েছি’ মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন তাঁর বাড়ির পাশের জমি কেনার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার বাড়ির পাশের অরুণ কুমার গুহ মজুমদার আমাকে বলেন, ‘আমি এ জমি নিয়ে বিপদে পড়েছি। এ জমির জন্য আমাকে মেরে ফেলবে।’ আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ওই জমির অর্ধেক অর্পিত সম্পত্তি হয়ে গেছে। যে অর্ধেকের মালিক অরুণ কুমার, সে জমিও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী কামাল ইবনে ইউসুফের কয়েকজন অনুসারী জাল দলিল করে হাতিয়ে নিয়েছেন। আমি ওই জাল দলিল বাতিল করে এবং অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত করে আদালতের সাহায্য নিয়ে মামলা লড়ে ওই জমি অরুণ কুমারকে উদ্ধার করে দেই। এরপর অরুণ কুমারের বিশেষ অনুরোধে আমি ওই জমি কিনতে সম্মত হই। কেননা অরুণ কুমার আমাকে বলেছিল, এ জমি আমি না নিলে তিনি ন্যায্য দাম পাবেন না, তাকে না খেয়ে থাকতে হবে এবং ভূমিদস্যুরা তাকে মেরে ফেলবে।

ফরিদপুরে মুক্ত আলোচনা শীর্ষক এক সভায় সম্প্রতি এক হিন্দুর মালিকানাধীন জমি কেনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পাশাপাশি মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আমার মন্ত্রিত্বে আঘাত করে ফরিদপুরকে উন্নয়ন বঞ্চিত করার জন্য আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত হিসেবে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

শনিবার ‘ফরিদপুরের উন্নয়ন’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় এ অভিযোগ করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বেলা ১০টায় শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, অরুণকে বাঁচাতে আমি কোটি কোটি টাকা দিয়ে ওই জমি কিনে এখন বিপদে পড়েছি। এখন বলা হচ্ছে, আমি নাকি হিন্দুদের জমি দখল করে নিয়েছি। ওই জমির মালিক কখনও ফরিদপুর শহরের বাইরে যান না। এখন শুনছি, তিনি কলকাতা চলে গেছেন।

‘আমি ফকির নই’ মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, এ জমি কিনতে গিয়ে আমি বাজার দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়েছি। আমার বাড়তি কোন জমির প্রয়োজন নেই। বদরপুরে আমার ২২ একর জমির ওপর বাড়ি রয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এ জমি নিয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। শুক্রবার বিএনপি এ বিষয়ে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। কামাল ইউসুফ বিএনপির কোন সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন না। অথচ শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনের সময় তিনি পাশে বসে আমার বিষয়ে বাতাস দিয়েছেন।

‘মানুষ কিভাবে প্রতারিত হয়, বিড়ম্বিত হয় শেষ বয়সে এসে একটি জমি ন্যায্য মূল্যে কিনে আমাকে সে রকম বিপদে পড়তে হয়েছে’Ñ মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, তবে আমাকে নিয়ে যারা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে, তারা কি বলল বা কোন পত্রিকা কি লিখল, তা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। আপনারা আমাকে ভুল না বুঝলেই হলো।

মন্ত্রী পরোক্ষভাবে ষড়যন্ত্রের জন্য কামাল ইউসুফের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এভাবে আমার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র, অপতৎপরতা বন্ধ করুন। তা না হলে এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। ওই অনুষ্ঠানে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফরিদপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের ৫০ ব্যক্তির উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

মন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর মূর‌্যাল স্থাপন করা হবে। এছাড়া সরকারী উদ্যোগে পার্ক ও ইকোপার্ক স্থাপন করা হবে। নির্মাণ করা হবে আইটি ভিলেজ। দুটি সরকারী স্কুলের আসন বাড়ানো হবে। এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম হবে। সিএ্যান্ডবি ঘাটকে অভ্যন্তরীণ নৌবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে। একটি রেলের জায়গায় দুটি রেল চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হবে। ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমার নদ খনন করা হবে। হাতিরঝিলের মতো প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। গড়ে তোলা হবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোন। চর এলাকায় মিল্কভিটার মতো দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। এতে কয়েক লাখ কৃষাণ-কৃষাণীর আর্থিক সংস্থান হবে। ফরিদপুরে বিএসসি নার্সিং কলেজ স্থাপন করা হবে।

ফরিদপুর চেম্বারের সভাপতি জাহাঙ্গীর মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ঢাকার রিপোটার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ফরিদপুরে হিন্দু বাড়ি দখল ও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে।