২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তান সফর নিয়ে ভীত সালমারা

  • মহিলা ক্রিকেটারদের ক্যাম্প শুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ ও টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের জন্য মহিলা ক্রিকেটারদের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয় আগেই। শনিবার ক্রিকেটারদের ক্যাম্প শুরু হয়েছে। সালমা খাতুনদের শুরু হয়ে গেল ক্রিকেটযুদ্ধে নামার প্রস্তুতি মিশনও। সঙ্গে পাকিস্তান সফর নিয়ে মনে আছে ভয়ও।

এ বছরের অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা ক্রিকেট দল। সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫টি ওয়ানডে ও ৩টি টি২০ ম্যাচ খেলবে সফরকারীরা। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, বিকেএসপি ও সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। বাংলাদেশের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা দলের। ২০১৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষেই খেলেছিল প্রোটিয়ারা। এর আগে ২০১৩ সালে সালমা খাতুনের দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ খেলেছিল আফ্রিকার মহিলা দলটি। হোম সিরিজের পর নবেম্বরের শেষের দিকে ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে ব্যাঙ্কক যাবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প। এরপর ঘোষণা করা হবে মহিলা দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড। মূল স্কোয়াড নিয়ে ক্যাম্প শুরু হবে ১৯ আগস্ট। গত ৬ আগস্ট ক্যাম্পে যোগ দেন ক্রিকেটাররা।

কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে ২৬ ক্রিকেটার। এদের মধ্যে নতুন ক্রিকেটার আছেন ৮ জন। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন বেশ কয়েক ক্রিকেটারকে নির্বাচকরা দলে রাখায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মহিলা দলের কোচ শ্রীলঙ্কান চ্যাম্পিকা গামাগে। শনিবার দুপুরে মিরপুরের ইনডোরে মহিলা দলের ফিটনেস টেস্টের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এই লঙ্কান কোচ। গামাগে বলেন, ‘আমাদের হাতে আরও ৫০ দিনের মতো সময় আছে। আমরা ধীরে ধীরে প্রস্তুত হচ্ছি। কন্ডিশনিং ক্যাম্পে এখন ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট চলছে। আমি এই দল নিয়ে সন্তুষ্ট। সিনিয়র খেলোয়াড়েদের পাশাপাশি জুনিয়র খেলোয়াড়দের এখানে মূল্যায়ন করা হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্রিকেটাররা অনেক দিন খেলার বাইরে ছিল। তাই এখানে ফিটনেসের ব্যাপারটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে জাতীয় লীগ ও প্রিমিয়ার লীগ মিলে তারা প্রায় ১৮টি ম্যাচ খেলেছেÑ এটা খুব ভাল একটা দিক।’

অনুশীলন ক্যাম্পে অবশ্য ক্রিকেটারদের মাঝে একটি বিষয় নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। যেটি আগেও হয়েছিল। সেটি কী? পাকিস্তান সফরে যাওয়া, না যাওয়া নিয়ে। আগেও দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন ক্রিকেটারদের মনে পাকিস্তান সফর নিয়ে ভয়ের কথা বলেছেন। এবারও তাই বলছেন। পাকিস্তান সফর নিয়ে জানিয়েছেন, ‘এখনই কিছু বলা কঠিন। বিসিবি বললে যেতে হবেই। ভয় তো আছেই। সাধারণ মানুষেরও ভয় কাজ কওে, আমাদেও তো করবেই।’

সালমা ঠিকই বলছেন। যেদিন পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিদর্শক দল পাঠানোর ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), সেদিনই পাকিস্তানের গ্রেট ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরামের ওপর হামলা হয়। যেখানে নিজ দেশের ক্রিকেটাররাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সেখানে অন্য দেশের ক্রিকেটাররা যান কিভাবে?

বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন কয়েকদিন আগে জানিয়েছিলেন, ‘পিসিবি আমাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আমাদেও মেয়েদের দলটির এমনিতে খেলা তেমন নেই। দেশের বাইওে খেলতে তারা উন্মুখ হয়ে আছে। এ জন্য আমরা ঠিক করেছি, ওখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাব আমরা। সফরটি হলে সেটা হবে অক্টোবরে। সময় তাই খুব বেশি নেই। শীঘ্রই প্রতিনিধি দল পাঠানোর তারিখ চূড়ান্ত হবে।’

এর আগেও বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটারদের পাকিস্তানে খেলতে পাঠাতে চেয়েছে বিসিবি। কিন্তু শেষপর্যন্ত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখে আর পাঠায়নি। এবার কী করে বিসিবি তাই দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ মহিলা দলের প্রাথমিক স্কোয়াড ॥ সালমা খাতুন, রিতু রানী, জাহানারা আলম, লিলি রানী বিশ্বাস, ফারজানা হক পিংকি, তিথী রানী সরকার, রুমানা আহমেদ, শামিমা সুলতানা (উইকেটরক্ষক), লতা ম-ল, শারমিন সুলতানা, আয়শা রহমান শুকতারা, রুবিয়া হায়দার, পান্না ঘোষ, নিগার সুলতানা, (উইকেটরক্ষক), নুজহাত তাসনিয়া (উইকেটরক্ষক), শরিফা খাতুন, শারমিন আক্তার সুপ্তা, শায়লা শারমিন, তাজিয়া আক্তার, ফাহিমা খাতুন, নাহিদা আক্তার, সুরাইয়া আজমিম, খাদিজাতুল কুবরা, সুমনা আক্তার, সানজিদা ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস।