১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওভালেই শেষ ক্লার্কের

  • এ্যাশেজ খোয়ানোর পর অবসরের আগাম ঘোষণা অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ব্যাট হাতে ও নেতৃত্বের টানা ব্যর্থতায় সমালোচনা চলছিল গত কয়েক দিন ধরে। নিন্দুকেদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মাইকেল ক্লার্ক বলেছিলেন, ‘লিখে রাখুন এ্যাশেজের পরও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলব আমি।’ ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ইনিংস ও ৭৮ রানের লজ্জাজনক হারের সঙ্গে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ খোয়ানোর পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। ম্যাচ শেষে সংবাদ মাধ্যমে ম্যাচের হালচিত্র নিয়ে কথা না বলে তাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এ্যাশেজেই শেষ। কিংস্টন ওভালে আনুষ্ঠানিকতার শেষ টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগাম ঘোষণাটা দিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।

‘আর একটিমাত্র টেস্ট খেলব, তারপরই শেষ হয়ে যাবে আমার ক্যারিয়ার।’ সকল বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার জানিয়ে দেন ক্লার্ক। এরপর তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সমাপ্তি টানতে যাচ্ছি। ঝড়ের মাঝে লাফ দিয়ে সতীর্থদের ফেলে রেখে একা পালাতে চাই না, তাই ওভালে এ্যাশেজের শেষ টেস্টটা খেলব এবং সেটিই হবে আমার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।’ ২০ আগস্ট লন্ডনের কিংস্টন ওভালে শুরু হবে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্ট। ৩৪ বছর বয়সী ক্লার্ক অস্ট্রেলিয়া তো বটেই, আধুনিক ক্রিকেটেরই অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। কিন্তু সম্প্রতিটা একদমই ভাল যাচ্ছিল না তাঁর। গত দুই-তিন মৌসুম হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি প্রবলভাবে ভোগাচ্ছিল নিউসাউথ ওয়েলসে জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটারকে। বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে যাওয়ার পর। দলীয় ‘টিম এফোর্ডে’র সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়াকে ট্রফি উপহার দিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। কিন্তু ব্যাট হাতে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এ্যাশেজে দলের ভরাডুবির মাঝে সেটি আরও প্রকট হয়ে ধরা পড়ে। শেষ হওয়া চার টেস্টের আট ইনিংসে তার স্কোরÑ ৩৮, ৪ ৭, ৩২*, ১০, ৩ ও ১০, ১৩! সফরে কার্ডিফের প্রথম টেস্টে ১৬৯ রানের হার দিয়ে শুরু করলেও লর্ডসে ৪০৫ রানের বিশাল জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল অসিরা। এজবাস্টনে ফের ৮ উইকেটের হারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন ক্লার্ক। চারদিকে হৈ চৈ পড়ে যায়। গণমাধ্যম থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক হয় অবসর, নয়ত অধিনায়ককে কিছুদিনের জন্য বিশ্রামে থাকার দাবি তোলে। তখন জোরের সঙ্গে সে দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও, এবার এ্যাশেজ খোয়ানোর পর বাস্তবতাটা মেনে নিলেন তিনি। ‘এভাবে চলে যেতে চাইনি, এ্যাশেজে, এমনকি জাতীয় দলের হয়ে ব্যক্তিগতভাবে গত ১২টি মাস ছিল খুবই হতাশার। ড্রেসিং রুমে কাউকে আর কষ্ট দিতে চাই না। দুদিন অনেক ভেবেছি, মনে হয়েছে বিদায় বলার এটাই সময়।’ যোগ করেন ক্লার্ক। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অধিনায়কদের বিদায়ের করুণ এক ইতিহাসটা পুরনো। অধিনায়কের পদ থেকে ছাঁটাই হওয়ার পরও দলের হয়ে খেলেছেন এমন সৌভাগ্য খুব কম ক্রিকেটারের কপালেই হয়েছে। পন্টিং খেলেছিলেন এই ক্লার্কের নেতৃত্বে। তার আগে সর্বশেষ কিম হিউজ, সেটি ১৯৮৫ সালের ঘটনা। এ্যাশেজে এমন ভরাডুবির পর হয়ত ক্লার্ককেও ছুড়ে ফেলা হতো দল থেকে। সেই সুযোগ না দিয়ে নিজেই সম্মানের সঙ্গে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ক্লার্কের নেতৃত্বে ৪৬ টেস্টের ২৩টিতে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, হার ১৬টিতে। আর ৭৪ ওয়ানডের ৫০টিতে জয়, হার ২১। ১৩টি টেস্ট সিরিজে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে জিতিয়েছেন ৮টিতে। চতুর্থ অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক হিসেবে উপহার দিয়েছেন বিশ্বকাপও। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১শ’র বেশি টেস্ট খেলেছি। এটা বিরাট সৌভাগ্যের। সবসময় বলেছি, ক্রিকেট আমার কাছে ঋণী নয়, আমিই ক্রিকেটের কাছে ঋণী। এতদিন খেলতে পারলাম বলে কৃতজ্ঞ।’ ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখার পর টেস্টে ১১৪ ম্যাচে প্রায় ৫০ গড়ে করেছেন ৮,৬২৮ রান। সেঞ্চুরি ২৮টি। ২৪৫ ওয়ানডেতে সংগ্রহ ৭,৯৮১। সেঞ্চুরি ৮টি। করুণ বিদায়ের অপেক্ষায় এমন এক শৈল্পিক ব্যাটসম্যান। এক যুগ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের সেবা করার পরও এ্যাশেজ ব্যর্থতায় নিন্দুকেদের সমালোচনা মাথায় নিয়ে সরে যেতে হচ্ছে ক্লার্ককে।