২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিডি ওয়েল্ডিংয়ের কারসাজির রায় ১৭ আগস্ট

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডের (বিডি ওয়েল্ডিং) শেয়ার কারসাজি মামলার রায় আগামী ১৭ আগস্ট দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় প্রদানের এ তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।

মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকিউটর মোঃ হাসিবুর রহমান দিদার বলেন, কারসাজি করে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বাজার থেকে অনৈতিকভাবে আসামি এনায়েত করিম ৫৩ লাখ ৮৯৩ টাকা হাতিয়ে নেন।

এর আগে মামলায় তিনজন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা হলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক সহকারী পরিচালক তানিয়া শারমিন, পরিচালক আবুল কালাম, পরিচালক শেখ মাহবুব উর রহমান। মামলার বাদী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান।

জানা গেছে, ২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। তখন ৬ টাকা মূল্যের শেয়ারের দাম ওঠে ৫০ টাকা। আর এ সময়ে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেন অভিযুক্তরা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের নিকট শেয়ারের দাম বাড়ার পেছনে কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না জানতে চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ও বিএসইসি নোটিস পাঠায়। নোটিসের জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়, দর বাড়ার কোন ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের জানা নেই। কিন্তু এর কয়েক দিন পরই তারা জানায়, সৌদি আরবের আল-আওয়াদ গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ারের মালিকানা বিক্রির ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। সৌদি গ্রুপটি এ দেশে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত ই-মেইলে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বিএসইসির কাছে পুরো বিষয়টিই রহস্যজনক মনে হলে সংস্থার তৎকালীন পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান ও সহকারী পরিচালক তানিয়া শারমিনের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্তে উঠে আসে, ই-মেইলগুলো আসলে ভুয়া ও বানোয়াট ছিল। সৌদি আরবের সঙ্গে এসব ই-মেইলের কোন সম্পর্ক নেই। তদন্ত প্রতিবেদনে অনেককে অভিযুক্ত করা হলেও পরে ২০০৭ সালের ২২ মে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এনায়েত করিম ও বিডি ওয়েল্ডিংয়ের এমডি এস এম নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ২০০৭ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে একই বছরের ২৯ মার্চ পর্যন্ত মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক ই- মেইলে তথ্য আদান প্রদান করে শেয়ারের মূল্য কারসাজির মাধ্যমে বৃদ্ধি করেছে। যার মাধ্যমে আসামিরা বিপুল পরিমাণ আর্থিক লাভবান হয়েছে, যা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এর ১৭ (এ) ১৭ (বি) এবং ১৭ (ই) ধারার বিধান লঙ্ঘন করেছেন।