১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্লগার খুনের ঘটনা দেশের জন্য অশনি সঙ্কেত ॥ মেনন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিয়মিত বিরতিতে তালিকা ধরে ব্লগার খুনের ঘটনা দেশের জন্য ‘অশনি সঙ্কেত’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, মধ্য প্রাচ্যজুড়ে চলা আইএসের জঙ্গীবাদী কার্যক্রমের রেশ চলছে বাংলাদেশেও। মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গীবাদের ঔদ্ধত্য এখন চরমতম জায়গায় পৌঁছেছে। তাই ভিন্নমতকে স্তব্ধ করতে দিনদুপুরে বাসার ভেতর ঢুকে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কমরেড অমল সেনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘অমল সেন স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনা’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন এ মন্তব্য করেন। তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ও নিজেদের দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অমল সেনের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ব্লগার নিলয় নীল হত্যাকা-ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মেনন বলেন, ধর্ম বিশ্বাস আর ধর্মের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা-লেখালেখি এক নয়। অতীতেও বাম ও প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের ‘নাস্তিক’ ও ‘মুরতাদ’ আখ্যা দেয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা আজ নৃশংস হত্যাকা-ের মতো চরমতম রূপ নিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে অশনি সঙ্কেত। এই জঙ্গীবাদ রুখতে বিকল্প হিসেবে জনগণের শক্তি গড়ে তোলার সময় এসেছে। ব্লগার নিলয় নীলের লেখায় আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) বিরোধী কোন অবমাননাকর মন্তব্য পাননি উল্লেখ করে এই বামনেতা বলেন, হত্যাকা-ের পর তার কয়েকটি লেখা আমি পড়েছি। আমার মনে হয়েছে, সেগুলোতে ধর্ম নিয়ে এমন কোন অবমাননাকর মন্তব্য ছিল না, যে কারণে তাকে কুপিয়ে খুন করতে হবে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেন, অমল সেন ঐক্যের স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো আজ সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই দিনশেষে আমরা কেউই আর ভাল থাকতে পারছি না। অজয় রায় বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ আজ উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর চারণভূমিতে পরিণত হচ্ছে। অথচ পাকিস্তান আমলে অমল সেনসহ বাম নেতাদের অনেককে নিরাপদে দেশত্যাগের প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা অমল সেন দেশ ছেড়ে যাননি, কারাগারে নির্যাতন সহ্য করেছেন। জঙ্গীবাদের মোকাবেলায় সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে অসাম্প্রদায়িক দেশের স্বপ্ন ব্যর্থ হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ‘অমল সেন স্মারক গ্রন্থের’ সম্পাদক শামসুল হুদা ও বিমল বিশ্বাস।