২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘জ্বালাও-পোড়াও না হলে পা‌স বাড়ত’

অনলাইন ডেস্ক ॥ উচ্চ মাধ্যমিকে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে কমে যাওয়ার জন্য বছরের শুরুতে বিএনপি ও জামায়াতের টানা হরতাল-অবরোধকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, এখা‌নে দুর্ভাগ্য, ‌বিএন‌পি-জামাত য‌দি আত্মঘাতীমূলক জ্বালাও-পোড়াও কর্মকাণ্ড না কর‌ত, পা‌সের হার আরও ভা‌লে হ‌তে পা‌রত।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রবিবার সকালে ফলাফলের ডিজিটাল অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন।

তিনি জানান, এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৪ জন।

গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ; ৭০ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী পূর্ণ জিপিএ, অর্থাৎ ৫ এ ৫ পেয়েছিল।

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন এ পরীক্ষাটা হয় তখন বাংলাদেশে একটি বৃহৎ সমস্যা চলছিল। এটি ছিল মানুষ্য সৃষ্ট। সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যেদিন থেকে পরীক্ষা শুরু… আগে থেকে হরতাল তো ছিলই এর সাথে অবরোধ যুক্ত হল। এরপর শুরু হল মানুষ খুন করা। হরতালের নামে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারা।

এই প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে পাস করায় ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সবাইকে অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, যারা পাস ক‌রে‌নি, আশা ক‌রি তারা ভা‌লোম‌ত লেখাপড়া ক‌রে প‌রেরবার পাস কর‌বে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং এর মান উন্নত করা। যে সকল উপজেলায় সরকারি স্কুল বা কলেজ নেই, ইতোমধ্যে সে সকল উপজেলার তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেখানে যে সকল প্রতিষ্ঠানকে সরকারি করা যায়, সেগুলোকে সরকারি করা হবে; নতুবা নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

এছাড়া প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

“যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন চাইতে আসেন, আমরা তাদের বলছি, যেসব এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেসকল এলাকায় যেন প্রতিষ্ঠা করা হয়, বিশেষ করে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।”

১ এপ্রিল শুরু হয়ে ১১ জুন পর্যন্ত এবার উচ্চ মাধ্যমিকের লিখিত পরীক্ষা চলে। এরপর ১৩ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা।

৫ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে টানা অবরোধ চালিয়ে আসা বিএনপি জোট ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বেশিরভাগ সময় ছুটি ছাড়া প্রতিদিনই হরতাল করে। এইচএসসির প্রথম দিন হরতাল না থাকলেও অবরোধ ছিল, যা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

অবরোধ-হরতালে এসএসসি ও সমমানের সবগুলো অর্থাৎ ১৬ দিনের ৩৬৮টি পরীক্ষাই এবার পেছাতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে, শুক্র ও শনিবার।

টানা ছয় বছর ধারাবাহিকভাবে এসএসসিতে পাসের হার বাড়ার পর এবার পাসের হার কমে যায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ পয়েন্ট; জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে ৩০ হাজার ৩৭৫ জন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সৃজনশীল প্রশ্নে গণিত ও উচ্চতর গণিতে পাসের হার কমে যাওয়াও ছিল এসএসসির ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

নির্বাচিত সংবাদ