২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অংক ও বিজ্ঞানে উন্নতি হয়েছে-মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের কারণে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল সার্বিকভাবে ভাল না হলেও অংক ও বিজ্ঞানে উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গতবারের তুলনায় ৮. ৭৩ শতাংশ পয়েন্ট কম।

আর এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৪ জন, যা গত বছরের চেয়ে ২৭ হাজার ৭০৮ জন কম।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রবিবার সকালে ফলাফলের ডিজিটাল অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন। পরে মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়েছে বলে একটা অপবাদ ছিল, এখন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ভাল করছে। বিজ্ঞানের সঙ্গে কারিগরিতেও পাসের হার এবং জিপিএতে উন্নতি হয়েছে।

এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ, মানবিকে ৫৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

কেবল বিজ্ঞান বিভাগে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ৫৫৬ জন শিক্ষার্থী, যা এবার পূর্ণ জিপিএ পাওয়া মোট শিক্ষার্থীর ৬১ শতাংশের বেশি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বছর আমাদের মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করেছে। সার্বিক ফলে ছেলেদের পাসের হার যেখানে ৬৯ দশমিক ০৪ শতাংশ, সেখানে মেয়েদের ৭০ দশমিক ২৩ শতাংশ।

এবারও নির্ধারিত সময়ের আগেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছর সপ্তমবারের মতো এইচএসসির ফল প্রকাশ করছি। প্রত্যেক বছর নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষা শুরু হয় এবং ৬০ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়ে আসছে। এ বছর একদিন আগেই অর্থাৎ, ৫৯ তম দিনে ফল প্রকাশিত হল।

নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষা শুরু ও ফল প্রকাশ করতে পারায় শিক্ষাক্ষেত্রে ‘শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে’ বলেও তিনি দাবি করেন।

গতবছরের চেয়ে ফল ‘খারাপ’ হওয়ার কারণ হিসেবে বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধকেই কারণ হিসেবে চিহ্নিত দায়ী করেন মন্ত্রী।

বছরের শুরুতে স্কুলগুলোতে প্রস্তুতি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছিল। হরতাল-অবরোধের কারণে শুক্র ও শনিবারে পরীক্ষা নিতে হয়েছে। এটার একটা এফেক্টতো আছেই।

গতবছর প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এবার সরকারের উদ্যোগের কারণে ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি’ বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ।

“শুধু কারিগরিতে একটি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এজন্য কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, ২০২১ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে কারিগরিতে নিয়ে যাওয়ার। ইতোমধ্যে এ সংখ্যাটি প্রায় ৯ শতাংশ। এ বছর কারিগরিতে পাশের হার বেড়েছে। আমরা শিক্ষকদের বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনছি। আশা করি, দেশে কারিগরি শিক্ষা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এগিয়ে যাবে।

এবার কারিগরি বোর্ডে ৮৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং মাদ্রাসা বোর্ডে ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে।