২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৌশল নির্ধারণে ডিবির সঙ্গে এফবিআই কর্মকর্তাদের বৈঠক

কৌশল নির্ধারণে ডিবির সঙ্গে এফবিআই কর্মকর্তাদের বৈঠক
  • ডিবির ৬ টিম মাঠে দায় স্বীকার করে বার্তা এসেছে হাটহাজারী থেকে

শংকর কুমার দে ॥ মুক্তচিন্তার লেখক ও ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় (নিলয় নীল) হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) এ্যাড্রেস (ঠিকানা), ফেসবুক, ল্যাপটপ ব্যবহার করা হয়েছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে। এই ঠিকানাটি ব্যবহার করেছে আল কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ বাংলাদেশ শাখার আনসার আল ইসলামী আম সংগঠনটি। এই হত্যা তদন্ত নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অফিসে ডিএমপি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) কর্মকর্তারা। নিলয় হত্যাকা-ের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা রক্তমাখা টি-শার্টটি, যা খুনীদের হতে পারে বলে ধারণা করছে ডিবি কর্মকর্তারা। এই হত্যা তদন্তের জন্য মাঠে নেমেছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রযুক্তিনির্ভরসহ ডিবির অন্তত ছয়টি টিম। তবে এই হত্যাকা-ের পর দুই দিন পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোন হত্যাকারী চিহ্নিত কিংবা গ্রেফতার হয়নি। নিলয়ও তার ব্লগে মুক্তচিন্তার লেখার কারণে খুন করেছে জঙ্গী গোষ্ঠীই।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়কে (নিলয় নীল) হত্যার দায় স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন ডিবির কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) এ্যাড্রেস ব্যবহার করেছে আনসার আল ইসলাম (আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশ শাখা) সংগঠনটি। গণমাধ্যমে হত্যার দায় স্বীকার করে ই-মেল বার্তাটি পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকেও নিলয় হত্যার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে এই আইপি এ্যাড্রেস (ঠিকানা) থেকেই।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, নিলয় হত্যার দায় স্বীকার করে ই-মেল বার্তাটি যে ল্যাপটপ থেকে পাঠানো হয় সেটিও শনাক্ত করেছেন তারা।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি অঞ্চলের ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘোষণাপত্রের নিচে লেখা নামের ‘মুফতি আব্দুল্লাহ আশরাফ, মুখপাত্র, আনসার আল ইসলামের (আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশ শাখা) নামটি, যা ছদ্মনাম বলে ধারণা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ‘আল্লাহর রাসূলকে (সা.) কটূক্তিকারী ‘নিলয় নীল’ হত্যাকা-ের দায়ভার গ্রহণ’ শিরোনাম দিয়ে ফেসবুকে নিলয়ের ওয়ালে একটি পোস্ট করা হয়। সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্য নিয়ে কিছু সন্দেহ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে তদন্তকারীদের। নিলয় হত্যার ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার দুপুর একটা ১০ মিনিট থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে। এর আগে একটা ৮ মিনিটে নিলয় তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। আর হত্যার দায় স্বীকার করা সংগঠনটি বলছে, হত্যার ঘটনা ঘটেছে একটা ৪৫ মিনিটে। এ তথ্যে গরমিল পাওয়ায় তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন আসলেই সংগঠনটির অস্তিত্ব রয়েছে কিনা?

হত্যাকারীরা ছিল চারজন। একটি সিএনজি নিয়ে রাজধানীর পূর্ব গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ডের কাছে ৮ নম্বর রোডের ১৬৭ নম্বরের পাঁচতলা ভবনের সামনে যায় হত্যাকারীরা। সেখান থেকে একজন পঞ্চমতলায় নিলয়ের ঘরে যায়। তার ফোন পেয়ে অন্য তিনজন বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। পরে নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করে তারা। এ সময় নিলয়ের স্ত্রী ও শ্যালিকা উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকা-ের পর ঘাতকরা নিচতলায় পোশাক বদলে সিএনজিতে উঠে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজনের চেহারার বর্ণনাসহ বিভিন্ন তথ্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে তদন্তসংস্থা। হত্যাকারীরা আনুমানিক একটা ১০ মিনিটে বাসায় ঢোকে। হত্যাকা-ের জন্য তারা ৫ মিনিট সময় নিয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার জন্য এরই মধ্যে বেশকিছু স্থানের ভিডিওফুটেজ উদ্ধার করেছে ডিবি। ওই ভিডিওফুটেজ ধরেও তদন্ত চলছে।

রক্তমাখা টি-শার্টটি কার ॥ লীলয় হত্যাকা-ের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি রক্তমাখা টি-শার্ট। এই টি-শার্টটি হত্যাকারীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিবির ডিসি মাহবুব আলম বলেন, এ হত্যাকা-ের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। যা হত্যাকারীর বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। হত্যাকা- শেষে ভবনের নিচে এসে হত্যাকারীরা তাদের রক্তমাখা কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করেছে।

ডিবির ৬ তদন্ত টিম ॥ রাজধানীতে দিন-দুপুরে বাসায় ঢুকে ব্লগার নিলয় হত্যার ঘটনার তদন্তের জন্য প্রধান তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডিবিকে। ডিবির পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাও ছায়া তদন্ত করছে। পৃথকভাবে তদন্ত করার জন্য মাঠে নামানো হয়েছে ডিবির অন্তত ছয়টি দলকে। এর মধ্যে কৌশলে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইটি প্রযুক্তি শাখার একটি দলকে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও মামলার তদন্ত করবে তারা। এর বাইরে দুটি দলকে নামানো হয়েছে সোর্স নির্ভর করে মাঠে তদন্তের জন্য। ভিডিওফুটেজ ও হত্যাকারীদের আকৃতির বর্ণনা অনুসারে কাজ করছে পৃথক আরও তিনটি দল। এ ছাড়াও নিলয় হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সদর দফতরের একটি ও র‌্যাবের একাধিক দল মাঠে নেমেছে। একই সঙ্গে ব্লগার হত্যাকারীদের তথ্য উদ্ঘাটনে আড়ালে থেকে পৃথক দুটি গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে।

ডিবি অফিসে এফবিআই টিম ॥ ব্লগার নিলয় নীল হত্যাকা-ের তদন্ত নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অফিসে ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তারা। রবিবার দুপুরে গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এফবিআই ওয়াশিংটনের দু’জন ও বাংলাদেশের এক প্রতিনিধিসহ ডিএমপির উর্ধতন কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব জোন) উপ-কমিশনার (ডিসি) মাহবুব আলম। তিনি বলেন, অভিজিত হত্যা তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে আজকের বৈঠকটি ছিল পূর্ব নির্ধারিত। এই বৈঠকেই তারা (এফবিআই কর্মকর্তারা) নিলয় হত্যাকা- সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন এবং এই মামলার তদন্তে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরাও কোন কোন বিষয়ে এফবিআইয়ের সহযোগিতা নিতে পারি সেগুলো চিহ্নিত করেছি। মামলা চলাকালে সাহায্যের প্রয়োজন হলে তাদের কাছ থেকে কারিগরি প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, এখনও অভিজিত হত্যার আসামিদের গ্রেফতার করতে পারিনি এটা সত্য। কিন্তু ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা মামলার কার্যক্রম অনেকখানি এগিয়েছে। অভিজিত হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে ডিসি বলেন, আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হব। নিলয় হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হত্যাকা-ের পর ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সব আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

এফবিআই-এর কাছ থেকে তদন্ত কাজে আমরা উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছি। হত্যাকা-ের সঙ্গে জঙ্গী সংগঠনের সম্পৃক্ততা আছে কিনা-এ প্রশ্নের উত্তরে ডিসি মাহবুব আলম বলেন, একটি সংগঠন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে হত্যার দায় স্বীকার করে প্রেস রিলিজ পাঠিয়েছে। কিন্তু নিত্য নতুন এসব সংগঠনের আসলে অস্তিত্ব আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছেন ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ব্লগার হত্যাকারীদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের অচিরেই গ্রেফতার করা হবে। জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা যে যার ধর্ম পালন করি। আমরা ধর্মান্ধ নই। দেশের মানুষ ধর্মভীরু, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। এ ধরনের হত্যাকা- শুধু আমরা নই, দেশের মানুষ সমর্থন করে না। হত্যাকারী যেই হোক আমরা তাকে গ্রেফতার করব।

পর্যালোচনা সভায় আইজি ॥ রবিবার বিকেলে পুলিশ সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে ব্লগার ও শিশু হত্যা মামলাসমূহের পর্যালোচনা সভায় কারও লেখা ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত হানার মতো হলে সে ক্ষেত্রে পুলিশকে তা জানানোর পরামর্শও দিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক। তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ব্লগার নিলয়সহ অন্যান্য ব্লগার হত্যাকা-ের অগ্রগতি সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত আলোচনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়। ব্লগার এবং মুক্তমনা লেখকদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটকে নির্দেশ দেন আইজিপি। ব্লগারদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও বাড়িয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি ।

সভায় সিলেটের সামিউল আলম রাজন, খুলনার রাকিব, বরগুনার রবিউল ইসলাম, চাঁদপুরের সুমাইয়া আক্তারসহ চাঞ্চল্যকর শিশুহত্যা মামলা এবং ঢাকার সুখী বেগমের চোখ উৎপাটন মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পর্যালোচনা সভায় বলা হয়, এ সকল মামলার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আসামি গ্রেফতার হয়েছে এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। সামিউল হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ মামলার মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি কামরুলকে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রাকিব, রবিউল ও সুমাইয়া হত্যা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সুখী বেগমের চোখ উৎপাটন মামলার তিনজন আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়। এ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে মামলাসমূহের চার্জশিট দেয়ার নির্দেশ দেন আইজিপি।

আইজিপি বলেন, শিশু হত্যা এবং শিশু নির্যাতন কোনভাবেই কাম্য নয়। শিশু হত্যা ও নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সকল ইউনিটকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোঃ মোখলেসুর রহমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিআইজি (অপারেশন্স) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) হেলাল উদ্দিন বদরীসহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ডিবির পাশাপাশি অন্য সংস্থাও তদন্ত করছে ॥ মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ব্লগার নিলয় হত্যার তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি ডিবিও কাজ করছে। যেকোন সময় মামলাটি অফিসিয়ালি ডিবিতে হস্তান্তর করা হতে পারে। হত্যাকা-ের পর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা, র‌্যাব ও ডিবিসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। সহসাই নিলয় হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

শেষকৃত্যানুষ্ঠানে শোকার্ত মানুষের ভিড় ॥ সংবাদদাতা পিরোজপুর থেকে জানান, শনিবার মধ্যরাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার চলিশা গ্রামের শ্মশানঘাটে নিলয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। নিলয়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এর আগে নিলয়ের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে রাত সোয়া দশটায়। এলাকার ছেলে নিলয়কে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে তাদের বাড়িতে নামে মানুষের ঢল। এ গ্রামেই শৈশব কাটিয়েছেন নিলয়। এ সময় মা অপর্ণা চট্টোপধ্যায়, বাবা তারাপদ চট্টোপধ্যায় ও ছোট বোন জয়শ্রী চট্টোপধ্যায়সহ শোকার্ত স্বজনদের কান্না আহাজরিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।