২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও না হলে পাস আরও বাড়ত

বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও না হলে পাস  আরও বাড়ত
  • এইচএসসি ফলের ডিজিটাল অনুলিপি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী

বিডিনিউজ ॥ উচ্চ মাধ্যমিকে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে কমে যাওয়ার জন্য বছরের শুরুতে বিএনপি ও জামায়াতের টানা হরতাল-অবরোধকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘এখানে দুর্ভাগ্য, বিএনপি-জামায়াত যদি আত্মঘাতীমূলক জ্বালাও-পোড়াও কর্মকাণ্ড না করত, পাসের হার আরও ভাল হতে পারত।’ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রবিবার সকালে ফলাফলের ডিজিটাল অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন।

তিনি জানান, এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৪ জন।

গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ; ৭০ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী পূর্ণ জিপিএ, অর্থাৎ ৫ এ ৫ পেয়েছিল।

তবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ পাসের হারকেও ‘অনেক ভাল’ অভিহিত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা আগামীতে আরও ভাল ফল করবে- আমি জানি। আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী।’

তিনি বলেন, ‘যখন এ পরীক্ষাটা হয়, তখন বাংলাদেশে একটি বৃহৎ সমস্যা চলছিল। এটি ছিল মানুষ্য সৃষ্ট। সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যেদিন থেকে পরীক্ষা শুরু, আগে থেকে হরতাল তো ছিলই এর সঙ্গে অবরোধ যুক্ত হলো। এরপর শুরু হলো মানুষ খুন করা। হরতালের নামে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারা। যারা মানি লন্ডারিং করেছে, যুদ্ধাপরাধ করেছে, তারাও চক্রান্ত করছে। তারা শিক্ষার পথ বন্ধ করতে চায়। শিক্ষার অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়।

এই প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে পাস করায় ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সবাইকে অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যারা পাস করেনি, আশা করি তারা ভালমতো লেখাপড়া করে পরেরবার পাস করবে।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং এর মান উন্নত করা। যে সকল উপজেলায় সরকারী স্কুল বা কলেজ নেই, ইতোমধ্যে সে সকল উপজেলার তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেখানে যে সকল প্রতিষ্ঠানকে সরকারী করা যায়, সেগুলোকে সরকারী করা হবে; নতুবা নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

যারা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন চাইতে আসেন, আমরা তাদের বলছি, যেসব এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সে সকল এলাকায় যেন প্রতিষ্ঠা করা হয়, বিশেষ করে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।

কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়ন ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। এজন্য সরকারী কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসার কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকায় আমাদের যে কলেজগুলো আছে, সেগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আনতে হবে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট পাবে, শিক্ষার মান বাড়বে; আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরদারিও থাকবে। ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ১১ জুন পর্যন্ত এবার উচ্চ মাধ্যমিকের লিখিত পরীক্ষা চলে। এরপর ১৩ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। ৫ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে টানা অবরোধ চালিয়ে আসা বিএনপি জোট ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বেশিরভাগ সময় ছুটি ছাড়া প্রতিদিনই হরতাল করে। এইচএসসির প্রথম দিন হরতাল না থাকলেও অবরোধ ছিল, যা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

অবরোধ-হরতালে এসএসসি ও সমমানের সবগুলো অর্থাৎ ১৬ দিনের ৩৬৮টি পরীক্ষাই এবার পেছাতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষাগুলো নেয়া হয় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে, শুক্র ও শনিবার। টানা ছয় বছর ধারাবাহিকভাবে এসএসসিতে পাসের হার বাড়ার পর এবার পাসের হার কমে যায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ পয়েন্ট; জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে ৩০ হাজার ৩৭৫ জন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সৃজনশীল প্রশ্নে গণিত ও উচ্চতর গণিতে পাসের হার কমে যাওয়াও ছিল এসএসসির ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এর মধ্যেও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে এইচএসসির ফল প্রকাশ করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সব বোর্ডের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

কৃষির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, লেখাপড়া শিখে যেন কৃষিকে অবহেলা করা না হয়। ইংরেজী ও বাংলায় পরীক্ষার্থীরা কম নম্বর পাওয়ায় কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা শিক্ষায় নম্বর কম পাচ্ছে। এটাতে দুঃখ পাচ্ছি। অবশ্য সাহিত্যে ‘নম্বর তোলা’ একটু কঠিন বলেও মন্তব্য করেন এক সময়ের বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী শেখ হাসিনা। বোর্ড প্রধানরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলফলের অনুলিপি তুলে দেয়ার পর তিনি ল্যাপটপে ‘ক্লিক করে’ সেই ফলাফল অবমুক্ত করেন। পরে পিরোজপুর ও পাবনার জেলা প্রশাসক, সাংসদ ও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন তিনি।