২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আপীল বিভাগের বৃহত্তর বেঞ্চে আজ ফের শুনানি

আপীল বিভাগের  বৃহত্তর বেঞ্চে  আজ ফের শুনানি
  • জনকণ্ঠের আদালত অবমাননার রুলের জবাব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর চূড়ান্ত রায় ঘিরে ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা ॥ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে ১৬ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে নিবন্ধ প্রকাশ করায় সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের জারি করা রুলের শুনানি আজ সোমবার ৬ সদস্য বিশিষ্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্য আপীল বিভাগ এ আদেশ প্রদান করেন। আজ আপীল বিভাগের ১ নম্বর বেঞ্চের কার্যতালিকার ১ নম্বরেই বিষয়টি শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক, মুদ্রাকর ও প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম.এ. খান মাসুদ) এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জনকণ্ঠের পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন দোলন, তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার মুন ইমু রহমান খান, ব্যারিস্টার ফয়সাল আহম্মেদ পাটোয়ারী, এ্যাডভোকেট আইনুন নাহার। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আপীল বিভাগের আদেশের পর জনকণ্ঠের সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলার বিষয়ে এখনই গণমাধ্যমে সবকিছু বলা যাবে না। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা।’ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তিনটি আবেদন করেছিলাম আপীল বিভাগে। একটি হলো কন্টেম মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কথাবার্তা আছে। আমাদের অন্যকোন বিচারপতিদের প্রতি অভিযোগ নয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি, অতএব উনি এ বেঞ্চে থাকতে পারেন না। উনি থাকলে সুবিচার পাব না। তাই আমরা ওনাকে বাদ দিয়ে বেঞ্চ গঠনের জন্য বলেছি। সে আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়। এরপর প্রধান বিচারপতি চা-বিরতিতে উঠে যান। পরে প্রধান বিচারপতি এজলাসে এসে বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই হিয়ারিংটি আমরা লার্জার বেঞ্চে করব। তখন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ক্যামেরা ট্রায়াল চেয়েছিলেন। আমরা সেটার বিষয়ে আপত্তি করলে ক্যামেরা ট্রায়ালের সিদ্ধান্ত হয়নি।

তারপর দ্বিতীয়টি হলো আমরা জবাব দেব। জবাবগুলো প্লেস করছিলাম। তার শুনানির জন্য সোমবার দিন ঠিক করেছেন। তৃতীয় আবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করিনি তাই তা প্রকাশ করব না। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতির সঙ্গে অন্য একজনের কথোপকথন হয়েছে তা রুলের জবাবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিষয়ে যে রুল ছিল তা প্রধান বিচারপতি সোমবার বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির জন্য ঠিক করেছেন। আমি মনে করি জনকণ্ঠ এই লেখার মাধ্যমে আদালত অবমাননা তো করেছেই এখন তারা যে সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিচ্ছে সেটা আরও গুরুতর অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয় এমন কোন কাজ সাংবাদিকদের করা উচিত নয়। ‘জনকণ্ঠ যা করেছে তাতে আদালত অবমাননা করা হয়েছে। এখন এটাকে আরও গুরুতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আদালত একটি ইনস্টিটিউশন। আদালতের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয় সাংবাদিকদের এমন কাজ করা উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব সাংবাদিক কোর্টে আসেন না, এয়ার কন্ডিশন রুমে বসে অন্যের কাছ থেকে শুনে রিপোর্ট লেখেন তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়।’

শুনানি চলাকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সিনেট ও সদস্য বাহানুল মজনুন চুন্নু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, কলামিস্ট সরদার সিরাজুল ইসলাম এবং জনকণ্ঠের সাংবাদিক ও কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।

গত ১৬ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা/ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে উপসম্পাদকীয় লেখেন স্বদেশ রায়। ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর আপীলেও মৃত্যুদ- বহাল রাখার রায়ের পরপরই জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদককে তলব করে আদেশ দেন আদালত। শুনানিতে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জনকণ্ঠে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান এবং ‘অবমাননাকর’ বিভিন্ন অংশ তুলে ধরেন। পরে আদেশের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের একটি অঙ্গ বিচার বিভাগ। একজন বিচারকও যদি কলঙ্কিত হয়, তাহলে বিচার বিভাগের ক্ষতি।’ ‘বিচারক কাঁচের দেয়াল নয়, যে ইট মারলে ঝন ঝন করে ভেঙ্গে যাবে।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই হিয়ারিংটি আমরা লার্জার বেঞ্চে করব। কারণ এখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ইনটেগ্রিটির প্রশ্ন জড়িত। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা এ ক্ষমতা পেলেন কোথায় যে, তারা লিখে বসেন- বিএনপি কে, জামায়াতই বা কে। আমরা গাইড লাইন দিতে পারি না। কেউ তো মামলা মোকাবেলা করে না। আমরা চাই ওনারা মামলা মোকাবেলা করুক। সাংবাদিক কি লিখতে পারেন, না লিখতে পারেন জানা দরকার।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগ পরিবর্তনের জন্য একাধিকবার মিটিং করেছিলেন। হাইকোর্ট ও আপীল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে কিছু বলেননি। আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগ নিয়ে কিছু বলেননি। প্রধান বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, কর্মচারী বিদেশে যাবেন এখানে সরকারের কোন ক্ষমতা নেই। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেয়ার পরে এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব বেঞ্চ পুনর্গঠন করার। তিনি আরও বলেন, আদালতে কয়েক হাজার ফাঁসির মামলা আছে, যখন বিচার করি তার বিরুদ্ধে কী সাক্ষ্য আসছে সেটাই বিবেচনা করি।