২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতে ব্যান্ডউইথ রফতানি শুরু সেপ্টেম্বর থেকে

  • প্রথম পর্যায়ে ১ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ লিজ ;###;বছরে আয় হবে ১২ লাখ মার্কিন ডলার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ আগামী ৬ সেপ্টম্বর থেকে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যান্ডউইথ রফতানি শুরু করবে। প্রাথমিক অবস্থায় ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ লিজ দেয়া হবে ভারতকে। এই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ রফতানি করে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) বছরে ১২ লাখ মার্কিন ডলার আয় করতে পারবে। প্রতি মেগাবিটের দাম ধরা হয়েছে ১০ মার্কিন ডলার। পর্যায়ক্রমে ব্যান্ডউইথের পরিমাণ ৪০ জিবিপিএস পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি করা গেলে বছরে ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার আয় করা সম্ভব হবে। ভারতের বিএসএনএলের সঙ্গে তিন বছরের জন্য একটি

চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রবিবার বিএসসিসিএল কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসসিসিএলের এমডি মনোয়ার হোসেন এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএসসিসিএলের সচিব আব্দুস সালাম খান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসসিসিএলের এমডি বলেন, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড বিএসসিসিএর সিমি উই-৪ সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামের সদস্য। এই সাবমেরিন কেবল থেকে বিএসসিসিএল ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ শেয়ার হিসাবে পেয়েছে। গত ৬ জুন বিএসসিসিএল ভারতের বিএসএনএলের সঙ্গে ব্যান্ডউইথ লিজের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি মোতাবেক বিএসসিসিএল শুরুতে ১০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ লিজ দেবে, যা পরবর্তীতে ৪০ জিবিপিএস পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ভারতে ব্যান্ডউইথ লিজ দেয়ার যৌক্তিকতা হিসেবে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বর্তমানে প্রয়োজন প্রায় ১২৫ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, যার মধ্যে ৩৩ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ বিএসসিসিএল কর্তৃক সরবরাহ হচ্ছে। বাকি ৯২ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ আইটিসি কোম্পানিগুলো সরবরাহ করছে ভারত থেকে ক্রয় করে। ব্যান্ডউইথের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে ও বর্তমানে ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানোর পরবর্তী প্রভাবের কথা বিবেচনায় আনলে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসসিসিএলের ব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ হবে সর্বোচ্চ ৯০ জিবিপিএস। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ২০০ জিবিপিএসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ জিবিপিএস ব্যবহৃত হবে। অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথের পরিমাণ হবে ১১০ জিবিপিএস। অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথের অংশবিশেষ লিজ দিয়ে দেশ বড় অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ভারত সঞ্চার নিগাম লিমিটেড (বিএসএনএল) ভারতীয় সরকারের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ ব্যান্ডউইথ লিজের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিএসএনএল আবার আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারকে (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) চিঠি দেয়। এই চিঠির প্রেক্ষিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএসসিসিএল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় (অর্থ, পররাষ্ট্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি) বিএসসিসিএলের অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ দেশের বাইরে লিজ দেয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেয়। বিএসসিসিএলের ৯৪তম বোর্ড সভায় ভারতে ব্যান্ডউইথ লিজ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। একই সঙ্গে ব্যান্ডউইথ রফতানিমূল্য নির্ধারিত হয় প্রতি মেগাবিট ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মার্কিন ডলার। বিএসসিসিএল বিএসএনএলের সঙ্গে মেগাবিটপ্রতি ১০ মার্কিন ডলার মূল্য ধার্য করে একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করে। খসড়া চুক্তিটির আইনগত মতামত নিয়ে তা বিএসসিসিএলের ১০৫তম বোর্ড সভায় উপস্থাপিত হলে খসড়া চুক্তিটির অনুমোদন দেয়া হয়। খসড়া চুক্তিটির বিষয়ে সরকারের মতামতের জন্য পাঠানো হলে তা মন্ত্রিসভায় (কেবিনেট সভা) উপস্থাপনের জন্য অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। দুই মন্ত্রণালয় খসড়া চুক্তিটি অনুমোদন করে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করা হয়। চুক্তিটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ গত ২১ এপ্রিল চিঠি দিয়ে জানায়, খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পদক্ষেপ নিতে। পরে চুক্তি স্বাক্ষরের অগ্রগতি প্রতি মাসের ৪ তারিখের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশও দেয়া হয়। বিএসসিসিএল গত বছর দেশের অভ্যন্তরে ব্যান্ডউইথের মূল্য কমানোর অনুমোদন চাইলে সম্প্রতি তা বাস্তবায়নের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই অনুমোদন পাওয়ার আগে কক্সবাজার থেকে বিএসসিসিএল ১০ জিবিপিএস লেভেলে সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে মেগাবিটপ্রতি ৬১২ টাকায় ব্যান্ডউইথ লিজ দিচ্ছে। ভারতে ব্যান্ডউইথ লিজের জন্য কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-বি. বাড়িয়া-আখাউড়া ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহার করতে হচ্ছে। ঢাকা পর্যন্ত ট্রান্সমিশন খরচ যোগ করলে দেখা যায়, দেশের অভ্যন্তরে ব্যান্ডউইথের মূল্য লিজকৃত ব্যান্ডউইথের মূল্য থেকে কম।