২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাতিল হলো সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাতিল করা হলো সেরা প্রতিষ্ঠানের (টপ-২০, টপ-১০) তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া। সেরা হতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান প্রশ্ন ফাঁসসহ অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করার প্রেক্ষাপটে এখন থেকে কোন পাবলিক পরীক্ষাতেই সেরা প্রতিষ্ঠান নামে তালিকা প্রকাশ হবে না। সেরা হতে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রশ্ন ফাঁসসহ নানা অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছে বলে পাবলিক পরীক্ষায় এ তালিকা থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ আবু বকর ছিদ্দিকি জানিয়েছেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষা থেকেই সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি বন্ধ হয়েছে। বোর্ডগুলোর পাসের হারসহ অন্যান্য বিষয়গুলোই স্থান পায় ফলাফলের সার-সংক্ষেপে। প্রতি বছর এইচএসসিতে বোর্ডভিত্তিক সেরা ২০ ও জেলাভিত্তিক সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়। বোর্ডগুলোর অধীনে নেয়া অন্য পাবলিক পরীক্ষাগুলোতেও এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল গত কয়েক বছর ধরে। ২০১০ সাল থেকে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর শতকরা হার, শতকরা পাসের হার, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের গড় জিপিএ মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সেরা তালিকা করা হতো। এর আগে কয়েক বছর শতভাগ পাস এবং সর্বাধিক জিপিএ’র ভিত্তিতে সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হতো। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, নানা মাধ্যমে দেন-দরবার করে কোন কোন প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার কেন্দ্র সুবিধামতো স্থানে ফেলছে। তারপর কেন্দ্রের শিক্ষকদের সঙ্গে আঁতাত করে পরীক্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে উত্তর লিখে নিজেদের পরীক্ষার্থীদের বলে দেয়ার ব্যবস্থা করছে। এসব চেষ্টাই সেরা হওয়ার জন্য। সেরা তালিকা কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসা করার দুয়ারও খুলে দিচ্ছে। গত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এমন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান টপ-২০ ও টপ-১০ এর তালিকায় থাকার জন্য অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে থাকে। ভাল একটা উদ্দেশ্য নিয়ে সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করার বিষয়টি আমরা চালু করেছিলাম। আমরা মনে করেছিলাম এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। তারা আরও ভাল করার চেষ্টা করবে। এখন দেখা যাচ্ছে এই প্রতিযোগিতায় কে উপরে থাকবে সেজন্য একটি অস্বাভাবিক পথ কিংবা অনৈতিক পথ গ্রহণ করার চেষ্টা কেউ কেউ করছেন।

নির্বাচিত সংবাদ