২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিমিক্স বাংলাদেশ ॥ হিজাব পরে হিন্দী গানে নাচ!

  • জাকারিয়া স্বপন

ঢাকা শহরের মানুষের জীবনযাপনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি আমার চোখে লাগছে তাহলো তাদের সংস্কৃতি। ঢাকা শহর বললাম এ কারণে যে, ঢাকার বাইরের মফস্বলের কথা আমি জানি না। আমি সেটা দেখার সুযোগ পাইনি এখনও। সংস্কৃতি অনেক বিশাল গ-ি। তার ভেতর আমি উল্লেখ করতে চাইছি তাদের ধর্মীয় এবং পোশাক সংস্কৃতি।

বিগত বছরগুলোতে ঢাকা শহরে যেমন অসংখ্য বড় দালান হয়েছে, মানুষ অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছে, একই সঙ্গে পাল্টে গেছে তাদের জীবনযাপন। আটপৌরে সেই বাঙালীকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। যারা মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত তাদের জীবনও বদলে গেছে। তৈরি হয়েছে একটি রিমিক্স কালচার, রিমিক্স বাংলাদেশ!

সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন হলো তাদের পোশাক। একদল মানুষ খুব জোরে দৌড়াচ্ছে মাথায় হিজাব দিতে, আরেক দল ঠিক উল্টো। মাঝখানের একটা দল, যাদের আমরা মধ্যপন্থী বলে থাকিÑ সেই অংশটি সংখ্যায় কমে যাচ্ছে বলেই আপাতভাবে মনে হচ্ছে। র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং করলে বিষয়টি তাই দাঁড়াবে। আপনি কোন দাওয়াতে যাবেন, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানেÑ প্রায় অর্ধেকের মতো নারী দেখতে পাবেন মাথায় হিজাব পরেছেন। অনেকটা আরবীয় সংস্কৃতিকে যেন আপন করে নিয়েছেন। বাকি অর্ধেক হয়ত এক ধরনের চাপের ভেতর আছেন। পাশাপাশি আরেকটি দলকে পাবেন, যারা স্মার্টফোন নিয়ে প্রতিনিয়ত সেলফি তুলছে, বুক খুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ছেলেমেয়েতে কোন পার্থক্য করছে না। পশ্চিমা সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছে এবং এই পরিবর্তন যে বয়স্কদের মাঝেই হচ্ছে তা নয়। নতুন প্রজন্মের নারীদের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে এ প্রচলন।

॥ দুই ॥

গেল সপ্তাহে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে হয়েছিল। আমি সাধারণত বড় ধরনের অনুষ্ঠানে যাই না। বিয়ের দাওয়াত হলে আরও না। কিন্তু খুব কাছের মানুষের বিয়ে বলে এ বিয়েতে যেতে হয়েছিল। এতদিন ঢাকার বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন গল্প শুনছিলাম। এবার নিজের চোখে তা দেখে ফেললাম।

ঢাকার বিয়েগুলোতে এখন গানের অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে। অনেকদিন ধরেই হয়ত এই বিষয়টি আছে। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার কিংবা বাড়ির ছাদে এই ধরনের অনুষ্ঠানের নমুনা দেখেছি। আমার বাসার আশপাশের এ্যাপার্টমেন্টের ছাদে মাইকের যন্ত্রণাকর শব্দ প্রায়ই পেয়ে থাকি। বিয়েতে গানের আয়োজন বাঙালী সংস্কৃতির অংশ। ‘লীলাবালি’ ধরনের গান তখন গাওয়া হতো। কিন্তু এখন সেটা পাল্টে গেছে। এখন গাওয়া হয় হিন্দী সিনেমার গান এবং তার সঙ্গে নাচ। আমার ধারণা ছিল, এ ধরনের নাচে অংশ নেয় তরুণ ছেলেমেয়েরা। কিন্তু এই বিয়েতে দেখলাম পুরো পরিবারই নাচছেন।

এই গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে নাচ-গানের জন্য বেশ কয়েকদিন রিহার্সাল করা হলো। আমার নিজের মেয়েও সেখানে অংশ নিল। কিন্তু দুই দিনের মাথায় তার মা বাগড়া দিয়ে বসল। ওখানে যে গান নির্বাচন করা হয়েছে তার সবই বড়দের এবং হিন্দী সিনেমার গান। সে অনুরোধ করল বাচ্চাদের নাচের জন্য উপযোগী কোন বাংলা গান করা যায় কিনা?

যে মেয়েটি কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করছিল সে বাংলা কোন গানের কোরিওগ্রাফি জানে না। ফলে যা হলো, বাংলা গানের রিহার্সাল হলো না। আমার মেয়েও অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়ে গেল। বেচারীর কাঁদো কাঁদো মুখটা আমাদের সামাল দিতে হলো।

আমি রিহার্সাল দেখিনি। দেখেছি গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের নাচ এবং গান। বাংলা গানে নাকি ভাল করে নাচা যায় না। তাই হিন্দী গান খুব উঁচু শব্দে বাজিয়ে তার সঙ্গে নাচ। তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েরা নাচছে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলাম কয়েকজন হিজাব পরা মেয়ে সেই নাচের দলে ছেলেদের সঙ্গে নেচে চলেছে। হিন্দী গানে নায়ক-নায়িকারা যেভাবে নাচে, সিনেমার বিয়েতে যেভাবে নাচে, সেই ঢঙ্গে, সেই একই তালে, একই অঙ্গ-ভঙ্গিতে।

এটা দেখার পর আমার ভেতর পাহাড়ের পাথর ভেঙ্গে পড়ার মতো একটা অনুভূতি হলো। মুখে বললাম, হোয়াট?!!!

কিন্তু আমার অবাক হওয়ার আরও বাকি ছিল। পুরো হলের সামনে একটি মেয়ে পাতলা কাপড় পরে আরবীয় বেলি ড্যান্স নেচে দিল। পুরো হলজুড়ে হৈ হৈ।

আমরা একই সঙ্গে হিজাব পরছি, হিন্দী গানের তালে ছেলেদের হাত ধরে নাচছি এবং আরবী সুরে কোমর দুলিয়ে দুলিয়ে নাভি-পেট বের করে আরবীয় বেলি ড্যান্স করছি। হোয়াট এ রিমিক্স!

॥ তিন ॥

আমার এক বন্ধুর ছোট বোন কর্পোরেট চাকরিতে খুব ভাল করছে। সে বুয়েটের প্রকৌশলী এবং কাজেকর্মে দারুণ। দেখতে সে এতই আকর্ষণীয় যে, বুয়েটে অসংখ্য ছাত্র/শিক্ষক তার পেছনে ঘুরত (নিজের চোখে দেখা)। সেই অপরূপ মেয়েটিকে একদিন দেখি পুরো মাথায় হিজাব। তবে পোশাকের অন্যান্য বিষয় আগের মতোই আছে। জিন্সের সঙ্গে শার্ট পরে কাজে নেমে যেত যে মেয়েটি, সেই পোশাকের ওপর এখন বাড়তি যোগ হয়েছে হিজাব।

হিজাব নিয়ে সবাইকে জিজ্ঞেস করা যায় না। অনেকেই মাইন্ড করতে পারেন। কিন্তু ওকে আমি জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, কাজের জন্য ওকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। অনেক সময় পার্টিতেও যেতে হয় এবং অনেক সময় পুরুষের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত আমন্ত্রণ পেতে হয়। মাথায় হিজাব থাকলে সেটা হয় না। এটা একটা প্রটেকশন।

আমাদের একজন পারিবারিক বন্ধু আছেন, যিনি পেশায় বিউটিশিয়ান। কয়েক বছর ধরে তিনি হিজাব ব্যবহার করছেন এবং পাশাপাশি তার বিউটিশিয়ান প্রফেশনটিও চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি পুরো শরীর শাড়ি এবং লম্বা ব্লাউজ দিয়ে ঢেকে রাখেন। কিন্তু মুখের ওপর এত বেশি রূপচর্চা করেন, তার দিকে নজর না দিয়ে উপায় নেই। তাকে দেখলে মনে হয় মাথার চুল ঢাকার শোধ নিয়েছেন মুখের ওপর এবং সেই পোশাকে তিনি যে ঘরের ভেতর আছেন তা নয়, হাজারও মানুষের সঙ্গে ওঠা-বসা করছেন, পার্টিতে যাচ্ছেন।

এ কাজটি যে কেবলমাত্র বিউটিশিয়ানরাই করছেন তা কিন্তু নয়। ওই বিয়েতেও দেখলাম অসংখ্য নারী, তাদের মাথায় হিজাব; কিন্তু মুখে, চোখে, ঠোঁটে যে কড়া রঙের দাপট তা কোনভাবেই বলে দেয় না যে, তারা পর্দা করার জন্য এ হিজাবটা পরছেন। এটা নতুন ফ্যাশন, স্টাইল। এক সময় মেয়েরা লম্বা কামিজ পরত, তারপর খাটো, এখন আবার লম্বা। তাদের ক্ষেত্রে পুরোটাই ফ্যাশনÑ হিজাব ফ্যাশন।

তবে সবাই যে শুধু ফ্যাশনের জন্য করছেন তা নয়। অসংখ্য মানুষ আছেন যারা এটাকেই ইসলামিক জীবন-বিধান হিসেবে বিশ্বাস করেন এবং নিজের জীবনযাপনকে এর সঙ্গে পরিবর্তিত করে নিচ্ছেন। কখনও নিজের ইচ্ছায়, কখনও পারিবারিক চাপের মুখে, কখনওবা সামাজিক চাপে। তারা মনে করছেন এটাই সঠিক। এ পথেই যেতে হবে নারীদের।

আবার এটা যে শুধু বাংলাদেশের নারীদের পরিবর্তন তা-ও নয়। আমি একই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি প্রবাসীদের মাঝেও। সেখানেও একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে মাথায় হিজাব পরছেন, কেউ কেউ হালকা পার্টি করছেন, ছেলেমেয়েদের ইসলামিক জীবনযাপনে তৈরি করছেন। বাঙালীর একটি অংশ আগের প্রথাগুলোকে হিন্দুদের সংস্কৃতি বলে মনে করছেন। তারা বাঙালী থেকে যেন মুসলিম হয়ে উঠছেন।

॥ চার ॥

বিয়েতে একটি কিশোরীর সঙ্গে দেখা হলো। মুখটা চেনা চেনা লাগছে; কিন্তু চিনতে পারছি না। আজকাল স্মরণশক্তি একটু লোপ পেতে শুরু করেছে। হঠাৎ করেই কেউ সামনে এসে জিজ্ঞেস করেনÑ চিনতে পারছেন? আমি মিথ্যা বলতে পারি না, তাই মুখের ওপর বলে দেইÑ সরি, চিনতে কষ্ট হচ্ছে। তারা মনে আরও কষ্ট পান। তারপর কিছুক্ষণ কথা বলে হয়ত মেমরির কোন একটি অংশ থেকে সেই স্মৃতি ডাউনলোড করে তারপর চিনতে পারি। কিন্তু ওই কিশোরীকে খুব চেনা লাগছে।

আমার অবস্থা দেখে কিশোরীটি বলল, আমি জয়নব। আমি আসমার ছোট বোন।

আমি দ্বিতীয়বারের মতো উচ্চারণ করলাম, হোয়াট?!!!

১১-১২ বছরের জয়নব আমার সামনে দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে।

আমি তাকে বললাম, তুমি না হিজাব করছিলে, কারও সামনে আসছিলে না?

লাল গাউন পরা জয়নবকে লাগছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের উঠতি রাজকন্যার মতো। মাথা নেড়ে সে বলল, হুম।

আমি ওর বিশেষ স্টাইলে বাঁধা চুলের দিকে তাকিয়ে বললাম, ছেড়ে দিলে কেন?

উত্তরে জয়নব বলল, জানি না।

আমি আবারও জিজ্ঞেস করলাম, পরা শুরু করেছিলে কেন?

জয়নব আবারও বলল, জানি না।

॥ পাঁচ ॥

অনেকেই হয়ত ভাবতে শুরু করেছেন, আমি হিজাব পরাকে সমালোচনা করার জন্য লিখতে বসেছি। হিন্দী গানের সঙ্গে নাচাকে সমালোচনা করতে বসেছি। বিষয়টি আসলে তা নয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি হিন্দী বুঝি না। আসলেই বুঝি না। তবে হিন্দী গান আমি নিজেও শুনি। শুনি সুরের জন্য। কিছু কিছু গান আমাকে মেডিটেশনে সাহায্য করে। একইভাবে বাংলা বাউল গান আমাকে মেডিটেশনে সাহায্য করে, গজল আমাকে সাহায্য করে, কিছু কিছু ইংরেজী গানও আমাকে সাহায্য করে। আমি গান শুধু শোনার জন্য শুনি না। এটা আমার এক ধরনের মেডিটেশনের টুলস।

ভারত উপমহাদেশের গানের একটি বড় উৎপত্তিস্থল হলো সিনেমা। তার মূল কারণ হলো বাণিজ্য। সিনেমার গান লিখে, গান সুর করে, গান গেয়ে মানুষ জীবিকা অর্জন করত। যে কারণে এক সময়ে খুব ভাল ভাল বাংলা গান এসেছে বাংলা সিনেমা থেকে। বলিউড এবং কলকাতায় এখনও দারুণ দারুণ গান হচ্ছে। কারণ তাদের সিনেমা শিল্পটি খুব শক্তিশালী। বাংলাদেশের সিনেমা শিল্প ধ্বংস হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে গানও। বিশেষ করে বাংলাদেশের বেশিরভাগ গানের সুর নকল করা। ইউটিউবে এ গানগুলো আপলোড করলেই কপিরাইট ভঙ্গের নোটিস আসতে থাকে। বাংলা গান আর কবে দাঁড়াতে পারবে তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

বাণিজ্যিকভাবে কোন কিছু সফল না হলে সেখানে মেধাকে ধরে রাখা যায় না। বলিউডে এখন বিশাল বাণিজ্য। সমস্ত মেধা সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছে। তাই তাদের গানের কথা এবং সুরÑ এক কথায় দারুণ। আর যেগুলো ধুমধাড়াক্কা টাইপের সেগুলোও সেইরকম। তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েরা তাতে আকৃষ্ট হবেÑ সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের কোটি কোটি তরুণ-তরুণী যতটা না হিন্দী গানের সঙ্গে নাচতে পারবে, তারা খুব কমই বাংলা গানের সঙ্গে নাচতে পারবে। এটাই বাস্তবতা। বিগত সময়ে আমরা এই বাজারটা হিন্দী সিনেমা এবং টিভির কাছে ছেড়ে দিয়েছি। এর পাশাপাশি দাঁড়াবার মতো শক্তি আপাতত আমাদের নেই। ছোট অর্থনীতির হয়ত এটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

পোশাক নিয়েও আমার কোন মাথাব্যথা নাই। পোশাক একটি ব্যক্তিগত রুচির বিষয়। আমি লুঙ্গির সঙ্গে জুতা পরব, নাকি বুট পরবÑ সেটা একান্তই আমার বিষয়। আমরা তো এক সময় ধুতি পরতাম। সেটা ছেড়ে আমরা শার্ট-প্যান্ট পরা শিখেছি। এখন হিজাব শিখছি। এগুলো বিবর্তন।

আমার ধারণা, এই পরিবর্তনটা আমাদের সমাজের একটি অংশ মেনে নিতে পারছেন না। তারা না পারছেন হাজার বছরের বাঙালী সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে, না পারছেন বর্তমান হিন্দী কালচারের সঙ্গে মিশে যেতে। তারা তখন আশ্রয় নিচ্ছেন আরবী কালচারে। এই হিন্দী কালচার এবং আবরী কালচারের টানে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা। চেয়ার-টেবিল যেমন বাংলা ভাষায় ঢুকে গেছে, বিবর্তনের ধারায় আমরাও দুটো ভিন্নপথে হাঁটতে শুরু করে অনেকটা পথ চলে এসেছি। কোন্টা ভাল আর কোন্টা খারাপÑ সেটা বলার অধিকার আমাদের কারও নেই। আমি অনেক মেয়েকে দেখেছি খুব টাইটফিটিং পশ্চিমা পোশাক পরে মাথায় হিজাব দিচ্ছে। এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।

কিন্তু যে বিষয়টি আতঙ্কের তা হলো সহাবস্থান। আমরা যে দুই পথে হাঁটছি, তারা পুরো বিপরীত এবং এই বিপরীত দুটো কালচার একটি রাষ্ট্রে কিভাবে সহাবস্থান করেÑ তা আমাদের কাছে নতুন। আমাদের মাঝে দূরত্ব বাড়ছে। আমার ধারণা, একটা সময়ে গিয়ে এই দুই কালচার মুখোমুখি হবে। একজন আরেকজনের ওপর জিততে চাইবে। তখন একটা বড় ধরনের ক্রাইসিস তৈরি হবে। কিছু কিছু হত্যা এবং সংঘর্ষ কিন্তু ইতোমধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। মাল্টি-কালচার নিয়ে খুব কম দেশ সুখে থাকতে পেরেছে। এই গ্রহে সবচেয়ে বড় মাল্টি-কালচারের দেশ হলো আমেরিকা। তারা কঠিন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সেই প্রথাকে সমুন্নত রাখতে পেরেছে। ব্রিটেনও অনেকটা মোকাবেলা করতে পারছে। কিন্তু বাংলাদেশে আইন প্রয়োগ খুবই দুর্বল। এখানে মানুষ নিজের আইনে চলে, রাষ্ট্রের আইনে নয়। এখন দেখার পালা আমরা একটি রিমিক্স জাতি হিসেবে কোথায় গিয়ে দাঁড়াই!

পুনশ্চ যখন এই লেখা শেষ করেছি তখন খবর পেলাম একজন ব্লগারকে বাসায় ঢুকে খুন করা হয়েছে। যখন এই লেখা ছাপা হবে তখন হয়ত উত্তাল হবে দেশ। কিন্তু আবারও নিভে যাবে সেই আলো। সুরাহা হবে না কিছুই। এটাই চরম বাস্তবতা।

ঢাকা, ৭ আগস্ট ২০১৫

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং প্রধান নির্বাহী, প্রিয়.কম

ুং@ঢ়ৎরুড়.পড়স