২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষতিকর শিশুখাদ্য

অপুষ্টি রোধে সরকার প্রতিবছর যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করছে। শিশুপুষ্টির বিষয়টি নিয়ে দাতাদের সহায়তায় সরকারী এবং বেসরকারী নানা উন্নয়ন সংস্থাও যার যার মতো করে কাজ করছে। শিশুদের অপুষ্টি রোধে মায়ের দুধ পান এবং ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সের শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সম্পূরক খাবার খাওয়ানোর লক্ষ্যে নানা ক্যাম্পিংও চলছে। মায়ের দুধের বিকল্প শিশুখাদ্য নিয়ন্ত্রণে পুরনো আইনকে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করা হয়েছে। পুষ্টি সুরক্ষায় অবদানের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছে। প্রতিবছর ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের কার্যক্রমও। এতসব আয়োজনের পরও সরকারের জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের আওতায় কেনা হচ্ছে বিতর্কিত শিশুখাদ্য থেরাপিউটিক ফুড সাপ্লিমেন্ট-এফ ১০০ ও এফ ৭৫। জানা গেছে, খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতর এই কাজটি করছে। অন্যদিকে আইসিডিডিআরবিও প্রায় একই ধরনের ‘রেডি টু ইউজ থেরাপিউটিক ফুড সাপ্লিমেন্ট’-আরইউটিএফ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। যা নিয়ে দেশের পুষ্টিবিদরা উদ্বিগ্ন। নানা মহলের প্রতিবাদের মুখে পড়েছে উভয় কার্যক্রম। অপুষ্টির শিকার শিশুদের নিয়ে বাণিজ্য না করার অনুরোধ করেছেন পুষ্টিবিদরা। শিশুদের জীবন বিপন্ন করতে পারে এমন কাজ দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে কাম্য হতে পারে না।

মাতৃ ও নবজাতক শিশুমৃত্যু হ্রাসে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখছে জাতীয় অনুপুষ্টি উপাদানের পর্যাপ্ত ব্যবহার, যা বিশ্বের সকল দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশী-বিদেশী মিডিয়ায়ও বাংলাদেশের সফলতার বিষয়টি প্রকাশিত ও প্রশংসিত হয়েছে। আসলে মায়ের বয়স, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং গর্ভকালীন খাদ্যের সঙ্গে মা ও শিশুমৃত্যুর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। খাদ্যের বেলায় আর্থিক সঙ্গতি যতটা দায়ী, তার চেয়ে কম দায়ী নয় খাদ্যের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অজ্ঞতা। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে ৩৫ শতাংশ নবজাতক প্রয়োজনের তুলনায় কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। প্রায় ৬ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভোগে। উদ্বেগজনক সংবাদ হলো পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪১ শতাংশ শিশু খর্বকায় হয়। ৫১ শতাংশ শিশু রক্তস্বল্পতায় ভোগে। সবকিছুর মূলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের অভিমত, এই অভাব দূর করার জন্য থেরাপিউটিক খাদ্য বা পথ্য শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক। তাদের মতে, এসব খাদ্য বাদ দিয়ে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও ‘ব্রেস্ট মিল্ক ব্যাংক’ বা ‘মাদার মিল্ক ব্যাংক’ গঠন করা যেতে পারে। এতে বিনা খরচেই শিশুদের পুষ্টি সুরক্ষা সম্ভব। মা অসুস্থ থাকলে শিশুর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বিকল্প কোন খাদ্যের প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে দুই বছরের বেশি বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে ঘরে তৈরি সম্পূরক খাবারই পুষ্টি সুরক্ষার জন্য বেশি কার্যকর। বাণিজ্যিকভাবে প্যাকেটজাত শিশুখাদ্যের মাধ্যমে বিপদ বয়ে আনা ঠিক হবে না। তারা বলছেন, এ ধরনের তৎপরতা কার্যত মায়ের দুধের বিকল্প খাদ্যকে প্রশ্রয় দেয়া বা উৎসাহিত করাÑ এটা মঙ্গলজনক সিদ্ধান্ত হতে পারে না।

অপুষ্টি দূরীকরণের নামে এসব ক্ষতিকারক শিশুখাদ্য আমদানি প্রত্যাশিত হতে পারে না। দেশে অপুষ্টি রোধে মাতৃদুগ্ধ পানের পক্ষে যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে তা বাধাগ্রস্ত করা কোনভাবেই উচিত হবে না। শিশুখাদ্যের ব্যাপারে সরকার ও বেসরকারী সংস্থাগুলো আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এই প্রত্যাশা সবার।