২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ

  • ঘরে বসেই সব তথ্য পাবেন ব্যবসায়ীরা

এম শাহজাহান ॥ আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ জন্য তৈরি করা হচ্ছে বাংলাদেশ বাণিজ্য বাতায়ন। যার মাধ্যমে আমদানি-রফতানিবিষয়ক যাবতীয় তথ্য একটি ওয়েবসাইট বা পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। পোর্টালটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আমদানি-রফতানিবিষয়ক তথ্যগুলোর সহজলভ্যতা ও যৌক্তিকতা অনুসারে সঠিকভাবে প্রদান। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের চাহিদা অনুযায়ী হালনাগাদ তথ্য প্রদান করা। এছাড়া এই বাতায়নে আমদানি-রফতানি সম্পর্কিত আইন ও বিধিবিধানসমূহ, কাস্টমস শুল্ক, বাণিজ্যবিষয়ক বিভিন্ন দলিলপত্র, প্রসেস ডায়াগ্রাম, লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া, বাণিজ্যবিষয়ক বিভিন্ন ফরম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবলিংকসহ অন্যান্য তথ্য পাওয়া যাবে। আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে পোর্টালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আনয়ন ও আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে জাতীয় বাণিজ্য তথ্য বাতায়ন তৈরি করছে সরকার। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) সহায়তায় ইল্যান্ডের পিএম গ্রুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। আর এই প্রকল্পটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে পোর্টালটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে অক্টোবর মাসে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড পোর্টাল প্রজেক্টের বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ মাসুদুর রাহমান জনকণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পটির কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এটি উদ্যোক্তাদের জন্য এমন একটি প্রকল্প যেখান থেকে তারা ট্রেডসংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য পাবেন।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের পোর্টাল তৈরি করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত এই প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হলে দেশের আমদানি-রফতানি আরও সহজ হয়ে যাবে। পোর্টালটির সহায়তা নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন একজন উদ্যোক্তা। আগামী অক্টোবর মাসে পোর্টালটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এরপর ঘরে বসেই আমদানি-রফতানিসংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য পাবেন ব্যবসায়ীরা।

এই বাতায়নে যেসব তথ্য পাওয়া যাবে ॥ এই বাতায়নে আইন ও বিধিবিধান, কাস্টমস শুল্ক, বাণিজ্য বিষয়ে বিভিন্ন দলিলপত্র, প্রসেস ডায়াগ্রাম, লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া, বাণিজ্যবিষয়ক বিভিন্ন ফরম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থাগুলোর তথ্যাদি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রভৃতি। এছাড়া আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের বাংলাদেশী নিয়ম-কানুন মেনে চলার বিষয়েও সহযোগিতা দেবে বাণিজ্য তথ্য বাতায়ন।

জানা গেছে, এই প্রকল্পটি চালু করার পর দেশের সব স্থানে একই মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করতে অনলাইন প্রাইস মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হতে পারে। একই সঙ্গে ভোক্তার স্বার্থরক্ষায় মূল্য সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক্সেস টু ইনফর্মেশন প্রোগ্রামের আওতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গৃহীত সহজসাধ্য উদ্যোগ অনলাইন প্রাইস মনিটরিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হবে। এনটিপি ও অনলাইন প্রাইস মনিটরিং সিস্টেম চালু হলে সারাদেশে কোন্ পণ্য কত দামে বিক্রি হচ্ছে তা এক জায়গা থেকে জানার সুযোগ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যসন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক বিশ্বে রফতানি আয় বাড়ানো, পাশাপাশি বাণিজ্য সম্পৃক্ত যত রকম দুর্নীতি ও অপকৌশল রয়েছে তা বন্ধ হবে ন্যাশনাল ট্রেড পোর্টাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে। এর সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া সম্ভব। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন দফতর, অধিদফতর, বাণিজ্য সংগঠন, সমিতি সব ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন, বিধিবিধান সুষ্ঠু প্রয়োগ, পদ্ধতিগত সংস্কার ও সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।