২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএসের ক্ষমতা অটুট!

  • মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার বছরপূর্তি

জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার এক বছরপূর্তিতে শনিবার বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই অভিযানে মাত্র কয়েকটি সাফল্য পাওয়া গেছে। এবিসি জানিয়েছে, গত বছর আইএসের ওপর প্রায় ছয় হাজার বিমান হামলা চালানোর পরও জিহাদি সংগঠনটি এখনও শক্তিশালী এবং তাদের তহবিলের কোন ঘাটতি নেই। সম্প্রতি ইরাকে তিন হাজার ৩০০ মার্কিন সামরিক সদস্য ইরাকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ দেশের আরও এক হাজার ২০০ সৈন্য স্থলে ইরাকের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। খবর ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর ও সিএনএনের।

এই সপ্তাহের প্রথম দিকে পেন্টাগন ঘোষণা দিয়েছে, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তিন শ’ ৫০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। দিনে গড়ে ৯৪ লাখ ডলার। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল প্যাট রাইডার শুক্রবার সাংবাদিকদের সামনে তাদের সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরেন। এপ্রিল মাসে আইএস ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রিত জনবহুল এলাকার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা কয়েক হাজার আইএস যোদ্ধা এবং সংগঠনের বহুসংখ্যক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছি। তবে নতুন সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে আইএস তাদের ক্ষাত পুষিয়ে নিয়েছে বলে একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে। আইএস দাবি করেছে, ইরাক ও সিরিয়ায় এখনও তাদের ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। যা এই সংগঠনের ওপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা শুরুর আগের সময়ের সমানই। সমালোচকরা আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উচ্চ ব্যয় ও সামান্য অগ্রগতির বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের ট্রেভর টিম এই যুদ্ধকে কোন সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া দুঃখজনক অপচয় হিসেবে অভিহীত করেছেন। তিনি লিখেছেন, এ পর্যন্ত শত শত কোটি ডলার ব্যয় করে, হাজার হাজার বোমা ফেলে, শত শত বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পরও গত আগস্টে বিমান হামলা শুরুর পর আইএস একটুও দুর্বল হয়নি। ওই অঞ্চলে বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র দুই বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।

এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৫০০। অন্যদিকে কিছু সমালোচক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র কিছু বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বিমান বাহিনী অবসরপ্রাপ্ত এক লে. জেনারেল বলেছেন, আজ পর্যন্ত যে বিমান হামলাগুলো হয়েছে, তাকে রক্তহীনই বলা যেতে পারে। দিনে মাত্র এক ডজন বিমান হামলা চালিয়ে আইএসকে পরাজিত করা যাবে না। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলেছে, এক বছর আগে আইএস যেমন ছিল তেমনই আছে, মৌলিকভাবে দুর্বল হয়নি। তারা বলেছে, জিহাদি এই সংগঠনটিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী চরমপন্থী বাহিনী বলেই মনে হচ্ছে। যারা লিবিয়া, মিসরের সিনাই উপদ্বীপ ও আফগানিস্তানে এখন তাদের ক্ষমতা প্রসার করছে। এটি এখনও স্পষ্ট নয় যে, আইএসের বিরুদ্ধে চলা এই যুদ্ধ করে শেষ হবে। এই যুদ্ধ শেষ হতে ১০ থেকে ২০ বছর লাগবে বলে অনুমান ইউএস আর্মি চিফ অব স্টাফ রে অড্রিয়ানোর। এদিকে কিছু মার্কিন গোয়েন্দা কমিউনিটি সতর্ক করে বলেছে যে, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের মতো হামলা চালাতে সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে আইএস। সংগঠনটি এখন একক হামলা চালানোর নীতি থেকে সরে আসছেও বলে মার্কিন এক সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা শুক্রবার সিএনএনকে জানিয়েছেন। দেখা গেছে, আইএস এ পর্যন্ত একজন বা ছোট গ্রুপ হালকা অস্ত্র দিয়ে ছোট হামলা চালাত।