২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফিরছেন রেজাউল করিম হিটলু

সাজু আহমেদ ॥ দেশের সাংস্কৃতিক পরিম-লে কমেডি বা কৌতুকাভিনয় অন্যতম একটি বিষয়। অপেক্ষাকৃত জটিল এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের দেশের শিল্পীরা তেমন একটা কাজ করেননি। চলচ্চিত্রে এ নিয়ে দু’একজন চেষ্টা করলেও একমাত্র দিলদার ছাড়া আর কেউ তেমনভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেননি। তবে মঞ্চ এবং টিভি অনুষ্ঠানে কৌতুক পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে দিয়েছেন এক শিল্পী। তিনি রেজাউল করিম হিটলু। বর্তমান প্রজন্মের দর্শকের কাছে কম পরিচিতি পেলেও ৬০-এর দশকের রেডিও টেলিভিশনের পাশাপাশি দেশের বড় বড় অনুষ্ঠানে কৌতুক পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তিনি দেশের প্রখ্যাত কৌতুক শিল্পী রেজাউল করিম হিটলু। তার যে কোন অনুষ্ঠান সে সময় হিট হয় বলে তিনি হিটলু নামেই পরিচিতি পার। পাশাপাশি ৯০ দশকের শুরুতে কমেডিবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন করে দেশের সুনাম অর্জন করেন। সে সময় তাঁর জনপ্রিতার কারণে তার তৈরি করা মঞ্চ, উপস্থাপনার কৌশল এবং বিষয়বস্তুকে অনুকরণ করে অনেকেই অনুষ্ঠান নির্মাণ করে খ্যাতি পেয়েছেন।

হিটলুর মনোমুগ্ধকর কৌতুকাভিনয় এবং এ বিষয়ে সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমকালীন বিষয়ে নান্দনিক উপস্থাপনা এবং ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা আঙ্গিকের কারণে অনেক মিডিয়া ব্যক্তিত্বও তাকে অনুকরণ অনুসরণ করেছেন। বাংলাদেশের শোবিজের কমেডির প্রবক্তা রেজাউল করিম হিটলু। বিশেষ করে ৭৪ সাল থেকে ৭৯ সাল এই কবছর তিনি বিটিভিতে বেশ কয়েকটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে কৌতুক পরিবেশন করে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন। এর মধ্যে ‘পশাপাশি’, ‘সজনে বিজনে’, ‘বহুরূপী’, ‘বর্ণালী’ ‘রংধনু’ ‘সপ্তবর্ণা’, ‘উপহার’ অন্যতম। এছাড়া ১৯৯২ সালে বিটিভিতে ‘আনন্দমেলা’ উপস্থাপনা করেছেন। পাশাপাশি ঢাকা এবং এর আশপাশে বিভিন্ন স্থানে মঞ্চে পারফর্ম করে আলোচিত হোন। এরপর ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে যান। দীর্ঘ ২৪ বছর প্রবাসে থাকার পর ফিরে ২০০৪ সালে আবারও শুরু করেন তার পারফর্মেন্স। দেশে আসার পরপরই এনটিভি মোস্তফা কামাল সৈয়দের আহ্বানে নতুন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। এর মাধ্যমে আবারও শুরু হলো পথচলা। সেই থেকে মঞ্চের পাশাপাশি টিভিতেও হরহামেশা দেখা মিলছে তার।কৌতুক পরিবেশনার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হিটলু গানও করে থাকেন। সম্প্রতি তিনি তার গাওয়া গানের দুটি এ্যালবাম বের করেছেন।এ্যালবাম দুটি হলো ‘গানের ভূবনে হিটলু’ এবং ‘গানের ভূবনে হিটলু-২’। এ্যালবামের গানগুলো শ্রোতারা বেশ পছন্দ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আবারও এ্যালবাম করার চিন্তা করছেন তিনি। যদিও মঝে একবার অংশ নিয়েছিলেন এনটিভির কমেডি অনুষ্ঠান ‘হা-শো’তে। এই অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হিটলু। তবে মতের অমিল হওয়ায় তিনি অনুষ্ঠান পরিত্যাগ করেন। এছাড়া শিল্পকলায় একাধিক সঙ্গীতসন্ধ্যায় জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে যৌথভাবে পারফর্ম করেছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সাল থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্জু সাহা এবং ফেরদৌস আরাসহ আরও কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘কথা ও গান’ শিরোনামের সঙ্গীতসন্ধ্যার আয়োজন করে টেল এ্যান্ড টিউন। অনুষ্ঠানে শিল্পীর গানের ফাঁকে ফাঁকে ছিল হিটলু মজার কৌতুক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানটি মোট ছয়বার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি অনুষ্ঠানে হিটলুর পারফর্ম উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের সেই ৬০-৭০ দশকের হিটলুকে মনে করিয়ে দেয়। তিনি দেশের বাইরে থাকলেও মাঝে মাঝেই দেশে আসেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কৌতুক শিল্পী হিটলু মাইটিভির একটি লাইভ অনুষ্ঠানে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে তার গান শুনে দর্শকরা অনেক প্রশংসা করেন। এরপর সম্প্রতি তিনি বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে পুরাতন বাংলা গানের ভিডিও চিত্রে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি ইতোমধ্যে প্রচার হয়েছে। এছাড়া নিজের কণ্ঠে জনপ্রিয় বাংলা গানের ভিডিওচিত্র নির্মাণ করছেন তিনি। এরই মধ্যে তিনটি গানের ভিডিওচিত্র নির্মাণ শেষ হয়েছে। ভিডিওচিত্রে তার সঙ্গে মডেল হয়েছেন অভিনেত্রী আঞ্জুমান আরা বকুল। সব মিলে কৌতুকের পাশাপাশি সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠছেন হিটলু।