২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুমিল্লা বোর্ডে ৪০ হাজার পরীক্ষার্থী ফেল

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ৯ আগস্ট ॥ কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এবার এইচএসসির ফলে বিপর্যয় ঘটেছে। এবার এ বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। মোট পাসের হারে ৪০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী এ বছর ফেল করেছে। গত ৫ বছরের তুলনায় এবার কমেছে গড় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এবার বোর্ডে ৩টি বিভাগে ৯৯ হাজার ৯৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে ৪০ হাজার ১৮৮, পাস করেছে ৫৯ হাজার ৭৭৮ এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১ হাজার ৪৫২ শিক্ষার্থী। এদিকে এ ধরনের ফলের জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা চলাকালে বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধকে দায়ী করেছেন।

বোর্ডের গত ৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৪ সালে এ বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ১৪ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ অর্জন করে ২ হাজার ৬শ’ শিক্ষার্থী। ২০১৩ সালে গড় পাসের হার ৬১ দশমিক ২৯ শতাংশ ও জিপিএ-৫ অর্জন করে ২ হাজার ৩৯০। ২০১২ সালে গড় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৬০ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ হাজার ১৫০ এবং ২০১১ সালে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৩৮৯ শিক্ষার্থী। রবিবার ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ৮০ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা থাকলেও ১ হাজার ১১৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়নি। পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৯৯ হাজার ৯৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে ৪০ হাজার ১৮৮ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ হাজার ১২২ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে ৩ হাজার ৫৪৩, মানবিক বিভাগে ৪০ হাজার ৬৮৩ অংশ নিয়ে ফেল করেছে ১৯ হাজার ৭৭৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৫ হাজার ১৬১ জন অংশ নিয়ে ফেল করেছে ১৬ হাজার ৮৭০ পরীক্ষার্থী। কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ জানান, নতুন করে চালু হওয়া আবশ্যিক বিষয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সম্পর্কে কম ধারণা থাকায় ভাল ফল করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ের পরীক্ষায় প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আবশ্যিক বিষয় ইংরেজীতেও গত বছরের তুলনায় এ বছর ১০ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করায় সার্বিক ফলাফলে অনেকটা বিপর্যয় ঘটেছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইন্দুভূষণ ভৌমিক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে দীর্ঘ সময় ধরে হরতাল-অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এ কারণে বিগত সময়ের তুলনায় এ বছর ফলাফল কিছুটা নিম্নগামী হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।