২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জীবনে শরতের হাতছানি

  • তৌফিক অপু

শরতের কোমলতা জীবন ও মনে অন্যরকম স্পন্দনের সূচনা করে। জীবনধারায় শরৎ আসে ‘কাশবনের কন্যার’ মতো নরম পদব্রজে। শরৎ মানেই কাশফুল, নদী, রঙিন পালতোলা নৌকা, মেঘ, মিষ্টি রোদের সন্ধি। শরৎ এসেছে দ্বারে, তাই স্নিগ্ধ, মনোরম রোদেলা দুপুর গড়িয়ে যখন আঙিনায় বিকেলের মৃদু হাওয়ার গুঞ্জরণ শুরু হবে ঠিক তখনই একপশ্লা ধুম বৃষ্টির ধূসর রঙের আবেশ ছড়ানোর পর প্রকৃতি দারুণ সবুজ আর আকাশ হয়ে ওঠে গভীর নীলাভ। দূরে, নদীর কিনারে সাদা পরীর মতো দুলে ওঠে থোকা থোকা আলুলায়িত কাশফুল, নদীতে রঙিন পালতোলা নৌকা ছুটে চলছে নিজস্ব গন্তব্যে; অতিপ্রাকৃতিক এই নয়নাভিরাম দৃশ্যই বুঝিয়ে দেয় ঋতুটা এখন শরৎ।

শরতের এই যে নরম আর নিবিড় আমেজ তা দৈনন্দিন জীবনেও কোমল দোলা দিয়ে যায়। চন্দ্রডোবা ভোরে হাল্কা শীতার্দ্র অনুভূতি, ঘাসে, গাছের পাতায় বিন্দু বিন্দু শিশির আর সন্ধ্যায় বাতাসে শীতের ছোঁয়া দিয়ে যাওয়া শরতের এক অভূতপূর্ব বৈশিষ্ট্য। খাল, বিল, নদীর কূল প্লাবিত রাশি রাশি জলাধারা বিজড়িত বর্ষার বিদায় পর্ব শুরু হতে না হতেই শরৎ এসে কড়া নেড়ে তার উপস্থিতি জানান দেয় স্বমহিমায়।

শরতের যেমন রয়েছে একটা নিজস্ব ইমেজ তেমনি এই শরতে ‘শরৎ মেলা’ও বসে; যা আমাদের বাঙালী সংস্কৃতির আবহমান ঐতিহ্যেরই একটি অংশ।

শরতের প্রধান প্রতীক কাশফুল হলেও শিউলি, শেফালি, হাসনাহেনা, কামিনী প্রভৃতি ফুলের গন্ধে পরিবেশে সৃষ্টি হয় এক অন্যরকম সুশোভিত গন্ধমদির আবহ; যা শুধু জীবনধারা নয় মনকেও প্রফুল্ল করে তোলে।

দিগন্তে সাদা মেঘ মঞ্জরির চিবুকে নীলাচ্ছন্ন মিষ্টি রোদের কিরণ ভিন্ন এক রহস্যঘন ভাল লাগাকে দৃষ্টির সীমায় এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। নদী, নৌকা, কাশফুল, রঙিন প্রজাপতির চঞ্চল ওড়াওড়ি শরতকে করে তোলে আকণ্ঠ মধুময়।

নগরজীবনে শরৎ

ব্যস্ত, কর্মমুখর নগর জীবনে ঋতুর উপস্থিতিটা খুব কি অনুভূত হয়। কিংবা অনুভব করার ফুরসত মেলে। তারপরও কিন্তু প্রকৃতির গতি থেমে যায় না। সে তার নিয়মমতোই এসে চলে যায় নিজের পরিম-লে, বৃত্তে। ১ বৈশাখ, বর্ষা কিংবা বসন্ত নগরসংস্কৃতিতে যে আলোড়ন তুলে যায় শরতের বেলায় ততটা নয়। ভীরু, নরম পদব্রজে আসে শরৎ। আবার সেভাবেই হঠাৎ কোনরকম পূর্বাভাস না দিয়েই চলে যায়। কষনও সখনও যদি সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদের রেলিঙে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আকাশে চোখ তুলে তাকালেই জ্যোৎস্নাচ্ছাদিত চাঁদ আর জ্যোৎস্নার কিরণ ঝরে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য মনটা কিছুক্ষণের জন্য হয়ত ফুরফুরে হয়ে ওঠে। অবশ্য এই অনুরণন মন থেকে মুছে যেতেও সময় লাগে না।

নগরের জীবনস্পন্দনে শরতের প্রভাব তেমন না পড়লেও বিশাল বাংলার গ্রামে গ্রামে শরতের নিবিড় ছায়া যেন অপরিসীম ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে। নগরে বসবাসরত নতুন প্রজন্ম অদূর ভবিষ্যতে ষড়ঋতুর এই বাংলার মায়াবী রূপের ঘটনাবলী কি শুধু পাঠের মাধ্যমেই জানবে! নাকি নতুন এই প্রজন্ম খুঁজে নেবে তার আপন ভুবন। প্রকৃতি আর মৃত্তিকার ঘ্রাণ শুঁকে নিজের শিকড় সন্ধানে উৎসাহিত হবে। গ্রামবাংলার সঙ্গে তাদের পরিচিত করে তোলার, গ্রামের সঙ্গে নগরের সেতুবন্ধ রচনার কাজটিও অলক্ষ্যেই নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে ।

ছবি : ফয়সাল হালিম

মডেল : শাওন ও বর্ষা

কস্টিউম ও কোরিওগ্রাফি : বর্ষা চৌধুরী