২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

বাবরের অর্থ পাচার সিঙ্গাপুরে এ মাসেই এমএলএআর পাঠাচ্ছে দুদক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে সিঙ্গাপুরে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল এ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যেই কমিশন এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে। এমএলএআর পাঠানোর লক্ষ্যে আনুষঙ্গিক কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। চলতি মাসের যে কোন সময়ে এ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে এই এমএলএআর পাঠানো হবে। দুদক সূত্র জনকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার অনুসন্ধান প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন শুধু সিঙ্গাপুর সরকার থেকে তথ্য পেলেই এ অনুসন্ধান সম্পন্ন করা যাবে। এদিকে বাবরের তথ্য চেয়ে এ মাসেই সিঙ্গাপুর এমএলএআর পাঠানো হবে। লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রাইম ব্যাংকের বনানী শাখায় নিজস্ব এ্যাকাউন্টে ১০ লাখ ইউএস ডলার (প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা) জমা রয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে তার নিজস্ব এ্যাকাউন্টে ওই অর্থ জমা হওয়ার মূল কারণ, উদ্দেশ্য ও সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করতেই নতুন করে এ অনুসন্ধান করছে কমিশন। এত বড় অঙ্কের লেনদেনে জঙ্গী অর্থায়ন কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদক সূত্র জানায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। সে সময় দুদকের অনুসন্ধানে সিঙ্গাপুরের এইচএসবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে বাবরের নিজস্ব এ্যাকাউন্টে দুই দফায় ১০ লাখ ইউএস ডলার জমা হওয়ার তথ্য উদ্ঘাটন হয়। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বাবর এ বিপুল অর্থের বিষয়ে সঠিক কোন জবাব দিতে পারেননি। অনুসন্ধান শেষে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে সাত কোটি ৯১ হাজার ৮৯৬ টাকার তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে এ মামলায় চার্জশীট দাখিল করে দুদক। লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলাটি বিচারিক কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। পাশাপাশি বাবরের ওই এ্যাকাউন্ট আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ রয়েছে।