২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হলে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে হবে

  • ড. মিজান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, আদিবাসী ও বাঙালীরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। রাষ্ট্রযন্ত্র অনেক সময় আদিবাসী স্বার্থবিরোধী কিছু সিদ্ধান্ত দিয়ে আদিবাসীদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারে। তবে অসহযোগ আন্দোলয় নয়, আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করে আদিবাসীসংক্রান্ত সমস্যাসমূহের সমাধান করা যেতে পারে।

রবিবার জাতীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত বিশ্ব আদিবাসী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটি পালনের শুভ উদ্বোধন করেন ড. মিজানুর রহমান। আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরো মায়াদুন, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, সাংবাদিক- কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক শামীম ইমাম, আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।

স্বাধীনতাযুদ্ধে আদিবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে ও তার আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে আদিবাসীরাও স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। আদিবাসীদের উন্নয়নে অনেক কাজ করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আদিবাসীদের আত্মার সম্পর্ক ছিল। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হলে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতন করে কেউ সুখে থাকতে পারে না। আদিবাসীদের নিরাপত্তা ও সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে আদিবাসীদের সমস্যার সমাধান হবে মনে করেন ড. মিজানুর রহমান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিভ্রান্তি থাকায় আদিবাসীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের চিন্তায় পরিবর্তন আনা দরকার। আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমাদের আপত্তি থাকার কথা নয়। কারণ সাংবিধানিকভাবে আদিবাসী হিসেবে এদেশে থাকার অধিকার তাদের রয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সামগ্রিক চিন্তার পরিবর্তন আনলেই আদিবাসী নির্যাতন রোধ করা সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন, আদিবাসীদের অধিকার আদায় ও সমস্যা সমাধানে কোন সরকারই আন্তরিক নয়। রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে সব সময়ই আদিবাসীদের প্রতি বৈরী মনোভাব কাজ করে। বাংলাদেশে আদিবাসীদের মানবিক পরিস্থিতি ভাল নয়। তাদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সরকার কখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস উদ্যাপন করেনি। সরকার আদিবাসী জনগণের আত্মপরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করেছে, যা দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণœ করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আদিবাসীদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা, তাদের ভূমি জবরদখল ও উচ্ছেদ, ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণসহ সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আদিবাসী দিবস উপলক্ষে দশটি দাবি উত্থাপন করে সন্তু লারমা বলেন, আদিবাসী জাতিসমূহের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচীভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে। আদিবাসী অঞ্চলে সরকারী ও বেসরকারী কোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে আদিবাসীদের স্বাধীন মতামত গ্রহণ এবং প্রকল্পে আদিবাসীদের ফলপ্রসূ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০১১ সংশোধন করতে হবে। মৌলভীবাজার জেলার ঝিমাই ও নাহার খাসিয়াপুঞ্জির আদিবাসীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।