১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাংকের সুদের হার ৯ শতাংশের নিচে রাখার দাবি এফবিসিসিআইএ’র

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের উৎপাদন ব্যবস্থাকে গতিশীল করার জন্য ব্যাংকের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে অনুরোধ জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটি বলছে, ব্যাংকিং খাতে নন-পারফরমিং লোন কমিয়ে আনতে না পারলে সুদের হার হ্রাস করা কঠিন হবে। এ লক্ষ্যে ব্যাংক গড় সুদহার রেট ৫ শতাংশের নিচে রাখার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্সশীটের মান উন্নয়নের তাগিদ দেয়া হয়। সোমবার এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে ‘দেশে শিল্পায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইর সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ। এতে বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান জনাব আলী রেজা ইফতেখার, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. প্রদীপ কুমার দত্ত, বাংলাদেশ লিজিং এন্ড ফাইন্যান্স কোম্পানীজ এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জনাব আসাদ খান, এফএএস ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদ শাহরিয়ার, এফবিসিসিআই-এর প্রথম সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)।

এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক খাতের ব্যাপ্তি বেড়েছে বহুগুন। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দা পরবর্তী অবস্থা, দেশীয় বাস্তবতা এবং যুগের চাহিদার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিং, অটোমেটেড পেমেন্ট সিষ্টেম, মোবাইল ব্যাংকিং প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পেপারলেস ব্যাংকিং জগতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আভ্যন্তরীন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনাসহ সামগ্রিক কর্পোরেট সুশাসনের বিষয়ে নজর দেয়ার ফলে ব্যাংকিং খাতে শৃংখলা জোরদার হয়েছে। সেসাথে দেশের আর্থিক ও বানিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগী বেশির ভাগ দেশের ঋণের সুদের হার বাংলাদেশের চেয়ে কম। ফলে কম সুদে ঋণ নিয়ে সেসব দেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছেন। সুদের হার বেশি হলে বিনিয়োগ কম হবে। ফলে জনবহুল এ দেশে কাঙ্খিত কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন হবে না। প্রবৃদ্ধির ধারাও ব্যাহত হবে। বর্তমানে দেশে উচ্চ সুদের কারনে ব্যবসায়ীক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগের স্বার্থে তিনি সকল খাতের ব্যাংক ঋণের সুদের হার কস্ট অব ফান্ড কমিয়ে এনে সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

সভায় বক্তারা বলেন, উৎপাদনশীল খাতকে কার্যকর করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠাসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার স্বার্থে ব্যাংক সুদের স্প্রেড ও সুদের হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিরাজমান বাধাগুলি চিহ্নিত করে তা সমাধান করা খুবই জরুরী। ব্যাংকিং খাতে নন-পারফরমিং লোন কমিয়ে আনতে না পারলে সুদের হার হ্রাস করা কঠিন হবে। দেশের ৬৪টি জেলায় শিল্প স্থাপন ও এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ঋণের খরচ (কস্ট অব ফান্ড) কমানোর উপর সভায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ব্যাংক রেট ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করার বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্সশীটের মান উন্নয়নের তাগিদ দেন বক্তারা।

নির্বাচিত সংবাদ