২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতারণা, আত্মসাত ও জালিয়াতির মামলা তদন্ত করবে পুলিশ

  • মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ॥ দুদক করবে সরকারী মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ব্যক্তি পর্যায়ে প্রতারণা, আত্মসাত ও জালিয়াতির মামলা তদন্ত করবে পুলিশ। আর সরকারী সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রতারণা, সরকারী কর্মকর্তা ও ব্যাংকের কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন হওয়ার আগে যেভাবে মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করার এখতিয়ার ছিল সেভাবেই এখন পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া বিচারাধীন মামলাও স্থানান্তরিত হবে বিশেষ আদালত থেকে বিচারিক হাকিমের আদালতে (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে)। এসব বিধান রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৫ খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। আইনী এখতিয়ারের চক্করে প্রতারণা ও জালিয়াতির পাঁচটি ধারার মামলার ‘পাহাড়’ জমে ওঠার পর অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন সংশোধন হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়ে হাততালি কুড়িয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার ভার দুদকের হাতেই থাকছে। আর সরকারী সম্পত্তি সম্পর্কিত এবং সরকারী ও ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা বা জালিয়াতি মামলা ছাড়া অন্যান্য প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলার দায়িত্ব পুলিশ পাবে। তিনি বলেন, মামলাজট সামাল দিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন সংশোধনের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং আইনও সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশোধন খসড়াটি অনুমোদন দেয়া হতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ দু’টি আইনেরই সংশোধন খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের কথা ছিল। মানি লন্ডারিং সংশোধন আইনের খসড়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন সংশোধন আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন না দিয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। কারণ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আইন দু’টির সংশোধনের বিষয়টি একই রকমের।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও পুলিশ তদন্ত করত। বিশেষ ক্ষেত্রে তদন্ত করত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আর সেটা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টেই বিচার হতো। এ অপরাধ বিদ্যমান দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে তফসিলভুক্ত করা হয়। তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং মামলা সবাই তদন্ত করতে পারবে না, বিশেষ বিধান রয়েছে।

২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে- ‘অন্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ৫ নং আইন)-এর অধীন তফসিলভুক্ত অপরাধ গণ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন বা কমিশন হইতে তদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনের কোন কর্মকর্তা বা দুর্নীতি দমন কমিশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্তযোগ্য হইবে।’

৯(২) ধরায় বলা হয়েছে- ‘এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ ‘ক্রিমিনাল ল (সংশোধন) আইন, ১৯৫৮’-এর সেকশন ৩ এর অধীন নিযুক্ত স্পেশাল জজ কর্তৃক বিচার্য হইবে। ২০১২ সালে আইনটি জাতীয় সংসদে পাসের পর মানি লন্ডারিং মামলা চলে যায় দুদকের হাতে। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত করবে আর কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেভাবেই আইনটিকে আপডেট করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দ-বিধি ৪২০ ধারার অপরাধ প্রতারণা এবং ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারাসহ আত্মসাত ও জালিয়াতির মামলা দুদক আইন থেকে বিযুক্ত করা হচ্ছে। আইন পাশের পর এসব মামলা তদন্ত করতে হবে না দুদককে। এসব অপরাধের প্রচুর মামলা হয়েছে, যা স্পেশাল কোর্টে নিষ্পত্তি হতে দেরি হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে এই বিষয়টি আইন থেকে বিযুক্ত করা হচ্ছে। আর প্রতারণা, আত্মসাত ও জালিয়াতির অভিযোগ নেয়ার এখতিয়ার দুদক আইনের তফশিল ভুক্ত থাকায় পুলিশ মামলা নিতে চাইত না। আইন পাস হলে পুলিশ মামলা নিতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, বর্তমানে দুদকে যেসব মামলা অনুসন্ধানে রয়েছে সেসব মামলা আর পরবর্তী পর্যায়ে যাবে না। তবে অভিযোগকারী নির্দিষ্ট আদালতে বা থানায় মামলা করতে পারবেন। যেসব মামলা তদন্তে রয়েছে সেসব মামলা এখতিয়ারভুক্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা (পুলিশ) তদন্ত করবে। তদন্তের যে পর্যায়ে ছিল সে পর্যায় থেকেই তদন্ত কাজ শুরু করবে পুলিশ।

আর বিচারাধীন মামলাগুলো স্পেশাল কোর্ট থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট কোর্টে মামলাগুলো স্থানান্তরিত হবে। স্পেশাল কোর্টে যে পর্যায়ে মামলাটি ছিল সে পর্যায় থেকে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। বৈঠক থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে কবিতা

মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়ে হাততালি কুড়িয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। দাফতরিক সভাসহ বিভিন্ন আলোচনাসভায় স্বভাব কবিসুলভ পদ্য আওড়ে সহকর্মীদের মধ্যে ‘সভাকবি’ পরিচয়ও পেয়েছেন স্থাপত্যকলায় ডিগ্রিধারী ইয়াফেস। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রী জানান, বৈঠকের শেষ দিকে নিজের আসন থেকে উঠে কাগজে প্রিন্ট করা তিনটি কবিতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেন বিজ্ঞানমন্ত্রী।