১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহাসড়কে যানের সর্বোচ্চ গতি ৮০ কিমি

  • গাড়িতে বসবে স্পিড গবর্নর

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে যান চলাচলের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য গাড়িতে ‘স্পীড গবর্নর’ নামের একটি যন্ত্র বসানো হবে। ওই যন্ত্রে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করে দেয়া থাকবে। গতিসীমা অতিক্রম করলেই গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে কোন চালক একটানা আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবে না। একই সঙ্গে এবারের ঈদ-উল-আযহায় সড়ক-মহাসড়কের পাশে যেন কোরবানির পশুর হাট না বসে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল’র ২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডাক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিকদের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা এখন সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। যে কোন মূল্যে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হবে। বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে। গাড়িতে ‘স্পীড গবর্নর’ নামের একটি যন্ত্র বসানো (ফিক্সড) থাকবে। সেখানে গতিসীমা নির্ধারণ করে দেয়া থাকবে। গাড়ি সর্বোচ্চ গতিসীমা অতিক্রম করলেই গাড়ি আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাবে।’

সভায় সড়কপথে দুর্ঘটনা রোধে এবং রাজধানী ঢাকাকে যানজটমুক্ত করতে বেশ ক’টি সুপারিশ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ সড়কের বাঁকগুলোতে (টার্নিং পয়েন্ট) বাধ্যতামূলকভাবে ডিভাইডার নির্মাণ; কোন চালক আট ঘণ্টার বেশি গাড়িতে থাকতে পারবে না, তাকে বিশ্রাম নিতে হবে; ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে পারবে না; চালকদের সঙ্গে লাইসেন্স থাকতে হবে; সড়ক-মহাসড়কের পাশে যেসব বাজার ও পশুর হাট রয়েছে বা বসতে চাইবে সেগুলো সরিয়ে দিতে হবে। সুপারিশ অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে কড়াকড়িভাবে কাজ করবে হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

সভায় রাজধানীকে যানজট মুক্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যানজটের কারণ যত্রতত্র পার্কিং, রাস্তায় দোকান ও ফুটপাথ দখল। রাজধানীকে যানজট মুক্ত রাখতে পুলিশের একজন উপ-কমিশনারের (ডিসি) নেতৃত্বে ২০০ রিজার্ভ ফোর্স দায়িত্বে থাকতে হবে। এরা যত্রতত্র পার্কিং এবং রাস্তায় যেন কোন দোকান বসতে না পারে সে বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমরা যানজট দূর করতে কোন স্থানের পার্কিং সরিয়ে দিলাম। কিন্তু ক’দিন পর আবার সেখানে পার্কিং শুরু হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে ওই স্থানটির দায়িত্ব নিতে হবে, যেন সেখানে সিটি কর্পোরেশন অভিযান চালানোর পর আর পার্কিং শুরু না হয়।

বৈঠকে জাতীয় মহাসড়কে অটোরিক্সাসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ, সরকারী এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে আন্দোলন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল রোধে ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযান চলমান রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।