২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জনাকীর্ণ আদালত এবং কিছু অনাকাক্সিক্ষত আচরণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের এক নম্বর আদালত। দু’ঘণ্টা বেশি সময় পুরো আদালতই ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। বিপুলসংখ্যক প্রবীণ-নবীন আইনজীবী, সাংবাদিক, সমাজের বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না আদালত কক্ষটিতে। বসার স্থান পরিপূর্ণ হওয়ায় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী-সাংবাদিকরা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থেকেই দৈনিক জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আদালত অবমাননার শুনানি প্রত্যক্ষ করেন। শুনানির এক পর্যায়ে কিছু আইনজীবীর হৈ-চৈ’র ঘটনায় আদালতের কার্যক্রমে কিছুটা বিঘœও ঘটে।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে এই রুলের শুনানি শুরু হয় সকাল ৯টায়। এর আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্টজনরা এসে আসন গ্রহণ করেন এজলাশে। আওয়ামী লীগ সমর্থক কিংবা বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবী সবাই উপস্থিত আদালতে।

সবাই উৎসুক কী হয় শেষ পর্যন্ত। কারণ একটাই, ইতোপূর্বে কেউ-ই আদালত অবমাননা মামলা মোকাবেলা করেনি। যাদের বিরুদ্ধেই ইতোপূর্বে আদালত অবমাননা হয়েছে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে ক্ষমা নিয়ে চলে গেছেন। এমনকি বিপুলসংখ্যক সিনিয়র আইনজীবী ও সাংবাদিকরাও দীর্ঘ সময় আদালতে উপস্থিত থেকে উভয়পক্ষের শুনানি প্রত্যক্ষ করতে দেখা যায়। বেলা ১১টার পর আদালতে থাকা সকল আসন পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপরও যেন স্রোত থামে না। এক পর্যায়ে আসন উপচিয়ে আদালত কক্ষের চতুর্দিকে যে যেমন পেরেছেন, দাঁড়িয়ে থেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন এই আইনী লড়াই।

তিন দিনের শুনানিতে সোমবার জনকণ্ঠের পক্ষে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন। তিনি দাঁড়িয়ে জনকণ্ঠের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সোমবার সকাল ৯টায় শুনানি শুরু থেকেই এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বারের ডায়েসে দাঁড়িয়ে ১ ঘণ্টা বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি জনকণ্ঠসহ সাংবাদিকদের তীব্র সমালোচনা করেন।

এদিকে জনকণ্ঠের আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন জনকণ্ঠে প্রকাশিত কলামের স্বপক্ষে তথ্য উপস্থাপন করলেই তাঁর সময়ে দুজন আইনজীবী হঠাৎ করেই হৈ-চৈ শুরু করেন। তাঁরা দাঁড়িয়ে উচ্চৈস্বরে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। এ সময় জনকণ্ঠের আইনজীবী সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সর্বোচ্চ আদালতে এ ধরনের আচরণে হতচকিত হয়ে যায় উপস্থিত সমগ্র আইনজীবী, সাংবাদিক ও সুধী সমাজ। এ ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য বিচারকার্যে বিঘœ ঘটে। পরে আপীল বিভাগের সকল বিচারপতিদের হস্তক্ষেপে ওইসব আইনজীবী চুপ হলে আবারও শুনানি চলতে থাকে।

এভাবে সকাল ৯টা থেকে দু’দফা বিরতি দিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে আদালত অবমাননার এই দীর্ঘ শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। শুনানি শেষ হলেও সোমবার আদালতের সর্বত্রই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তুই ছিল জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আদালত অবমাননার তিন দিনের বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির বিষয়টি।

সোমবার আদালতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং দল নিরপেক্ষ বিপুলসংখ্যক আইনজীবীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও কলামিষ্ট অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূইয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহসম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বিশিষ্ট লেখক ও অর্থনীতিবিদ রমনী মোহন দেবনাথ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি, এম বদি-উজ-জামান ও জনকণ্ঠের সাংবাদিক এবং কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা।