১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এ্যাটর্নি জেনারেল এক হাত নিলেন সাংবাদিকদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টের জারি করা আদালত অবমাননার রুলের শুনানিতে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন তীব্র ভাষায়। তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক এসি রুমে বসে, না জেনে সাংবাদিকতা করেন। এসি রুমে বসে সাংবাদিকতা হয় না। যারা এসি রুমে বসে কিছু না যেনে শুনে সাংবাদিকতা করেন তারাই ভুল করেন। আদালতে যারা নিয়মিত রিপোর্টিং করেন, তাদের ভুল হয় না। সোমবার সকাল ৯টায় শুনানি শুরুতে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বারের ডায়েসে দাঁড়িয়ে ১ ঘণ্টা বক্তব্য দেন। এর অনেকটা সময়জুড়ে ছিল সাংবাদিকদের সমালোচনা। এর আগেও শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি বেশ স্পষ্ট করে বলেন, আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্য জনকণ্ঠ কুৎসা রটনা করেছে। আদালতে শুনানি ছাড়াও ব্রিফিংয়ের সময় তিনি জনকণ্ঠসহ সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন।

সোমবারের তিনি বলেন, ‘একজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, সেটি রেকর্ড করে পত্রিকায় প্রকাশ করা শুধু আদালত অবমাননা নয়, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তা সাজাযোগ্য অপরাধ।’ ‘জনকণ্ঠ আদালত প্রসঙ্গে যা লিখেছে, তা জেনেশুনে লেখা হয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক। এ রকম সাংবাদিকতা কোন উন্নয়ন বয়ে আনে না।’ এ্যাটর্নি জেনারেল ‘আদালত অবমাননার’ জন্য জনকণ্ঠের সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শুনানি শেষে এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বেঞ্চ পুনর্গঠন করার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির আছে। সাকার (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর) রায় নিয়ে যে রিপোর্টটি করা হয়েছে সেটি আসামিপক্ষের সুবিধার জন্যই করা হয়েছে। এ রিপোর্টটি আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য করা হয়েছে।’ আদালত সম্পর্কে সাবধান হয়ে লেখার জন্য সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এর মধ্যে বিচার বিভাগ নিয়ে কোন প্রতিবাদ করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনকণ্ঠের এ মামলায় আমি সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেছি আদালতে। এ রিপোর্টটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত কারার জন্য।’ তিনি আবারও সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা আদালত প্রসঙ্গে লেখার সময় খুব খেয়াল করে লিখবেন। আপনাদের লেখা যেন আদালত অবমাননার মধ্যে না পড়ে এবং বিচার বিভাগকে যেন প্রশ্নবিদ্ধ না করা হয়।’ মাহবুবে আলম বলেন, ‘কারও কাছ থেকে শুনে বা কারও রেকর্ড চুরি করে কোন রিপোর্ট করা যাবে না। চুরি করে রিপোর্ট লেখা নৈতিকতাবিরোধী ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সাজাযোগ্য।’