২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বর্তমান ছাত্র নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সঙ্কট রয়েছে ॥ আশরাফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্র ও যুবসমাজকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র ও যুবকদের ভবিষ্যতের জন্য যদি গড়ে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের ভবিষ্যতও অন্ধকার হবে। এ কারণে তাদের বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ তিতিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সঙ্গে পরিচয় করে দিতে হবে। ছাত্রদের গঠনমূলক কাজে অংশগ্রহণ করাতে হবে। তবেই যুব ও ছাত্রসমাজ আবারও জেগে উঠবে।

বর্তমান ছাত্র নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থার সঙ্কট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৎকালীন ছাত্র নেতাদের কথা সাধারণ মানুষ শুনত, ছাত্রদের কথার প্রচুর দাম দিত। এখন শোনে কিনা জানি না। মানুষ তখন ছাত্র নেতাদের এত ভালবাসত যে, তাদের কথায় জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। এখন যে কোন কারণেই হোক সেই আস্থা ও বিশ্বাস নেই। এর উত্তর আমারও জানা নেই।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দফতর সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, ঢাকা জেলা প্রশাসক হাসিনা দৌলা, আবদুল মালেক এমপি, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত সৈয়দ আশরাফ বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে বলেন, সত্তরের নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধু আমাদের বাড়িতে আসলেন। আমি তখন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আমায় ডেকে বললেন, কালকে আমি ঢাকায় যাব। আর আগে একটা ছাত্রসমাবেশ করতে চাই। আমরা তাঁর নির্দেশে পরের দিন ছাত্রসমাবেশ করি। তিনি বলেন, ওই সময় বঙ্গবন্ধু বলতেন আমার এক শক্তিশালী হাত হলো আওয়ামী লীগ, আরেক শক্তিশালী হাত হলো ছাত্রলীগ। এরপর আমরা (ছাত্রলীগ) বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দিনের পর দিন ময়মনসিংহে প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে বাড়িতে গেলাম এবং নৌকার দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছিলাম। এ বিষয়গুলো মনে রেখেই বর্তমান ছাত্র নেতৃত্বকে গড়ে তুলতে হবে।

শিশু ও ব্লগার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ- স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম ॥ জাতীয় শোক দিবসে কেক কেটে মিথ্যা জন্মদিন পালন না করতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, আপনি (খালেদা জিয়া) এই লজ্জাজনক কাজটি বন্ধ করুন। শোক দিবসে মিথ্যা জন্মদিন পালনের নামে যতবার আপনি কেক কেটেছেন, ততবার জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়েছেন। তিনি শিশু ও ব্লগার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সোমবার বিকেলে জাতীয় যাদুঘর মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজের মানুষের অবক্ষয় হয়েছে। নইলে কিভাবে তারা নৃশংসভাবে ছোট শিশু ও ব্লগার হত্যা করতে পারে? একই সঙ্গে একের পর এক ব্লগার হত্যা হচ্ছে। এই সকল হত্যার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কেন ব্লগার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না? এই সকল হত্যাকারীদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এসব হত্যাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সকল হত্যাকা-ের বিচার হয়েছে। কোন হত্যাকারীই রেহাই পাবে না।

খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া লন্ডনে গিয়ে চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই করবেন না। লন্ডনে বসে আগেও দেশের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কারণ সেখানে অনেক একাত্তর ও পঁচাত্তরের খুনীরা বসবাস করছেন।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শুধু সেøাগান দিলেই হবে না। আপনাদের দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেয়া, আপনারা জনগণকে সেবা দিবেন। শুধু সেøাগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করা যাবে না। জনগণকে সঠিকভাবে স্বাস্থ্য সেবাদানের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করতে ডাক্তারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বাচিপের সভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ বদিউজ্জমান ভূঁইয়া ডাবলু, স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সনাল প্রমুখ।