২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদা জিয়া আজকালের মধ্যে যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য আজকালের মধ্যেই যুক্তরাজ্যে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন। তবে চিকিৎসকের সাক্ষাতের সময়ের ওপর নির্ভর করছে তিনি কোনদিন লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে তিনি সর্বোচ্চ ১০দিন অবস্থান করতে পারেন এবং লন্ডনে অবস্থানকালে সেদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার পল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ডাক্তারকে দু’বার দেখাতে হবে। সেজন্য ৭ থেকে ১০দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভাল থাকলে লন্ডনে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত হতে পারে। যেহেতু খালেদা জিয়া একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, একটি বড় দলের প্রধান তাই যে দেশে সফর করবেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয় থাকে। সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয় থাকেÑ এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সংবাদ সম্মেলনে রিপন উল্লেখ করেন, এইচএসসির ফল বিপর্যয়ে সরকারের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিই দায়ী। এ কারণে উচ্চ মাধ্যমিকে আশানুরূপ ফল হয়নি। শুধু রাজনৈতিক কারণে ফল খারাপ হতে পারে না। রেজাল্টে দেখা গেছে, অনেক পরীক্ষার্থী সব বিষয়ে পাস করেছে, শুধু ইংরেজীতে ফেল করেছে। তাহলে কি রাজনৈতিক প্রভাব শুধু ইংরেজীর ওপর পড়েছেÑ উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, সরকার রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য এইচএসসির ফল বিপর্যয়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচীকে দায়ী করছে। সরকারের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষার উপকরণ, সঠিক পাঠদানের সীমাবদ্ধতাই উচ্চ মাধ্যমিকে রেজাল্ট খারাপ হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, কূটনৈতিক সব ক্ষেত্রে পড়ে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে পারত। পরীক্ষার সময়সূচী পরিবর্তন করে পিছিয়ে নিতে পারত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ভাল উদ্যোগ। তার এ বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। আগে ছাত্র সংসদ ছিল। সেখানে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হতো। কিন্তু আজ সে পথ বন্ধ। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছে সরকার। তাই সরকারের কাছে আহ্বান জানাই অনতিবিলম্বে ছাত্রসংসদের ব্যবস্থা করার।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ শিক্ষকদের মেরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিচ্ছে। ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেয়, ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে এগুলো কি শিশুদের কাজ। ছাত্রলীগের অপকর্মের জন্য শেখ হাসিনাও তার নাম ছাত্রলীগ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ছাত্রলীগ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিতাড়িত করেছে। তাদের স্বাভাবিক কর্মকা- করতে দেয় না। এতেই ছাত্র রাজনীতি রুগ্ন হয়ে পড়ছে। অথচ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শিশু হিসেবে অভিহিত করে তাদের বেশি সমালোচনা না করতে বলেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এ বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার লন্ডন যাওয়ার ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিপন বলেন, ম্যাডাম চিকিৎসার জন্য দু-এক দিনের মধ্যে লন্ডন যাবেন। একদিন এদিক সেদিক হতে পারে। সেখানে তিনি এক সপ্তাহের মতো থাকবেন। তার চিকিৎসার জন্য দুদিনের এ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে।

২০০৬ সালের শেষ দিকে ক্ষমতা ছাড়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার আগে বড় ছেলে তারেককে দেখতে লন্ডনে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ৭ বছর ধরে অবস্থান করছেন। তারেক রহমান ডজনখানেক মামলার পলাতক আসামি। ২০০৮ সাল থেকে পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তার বাংলাদেশী পাসপোর্ট বৈধতা হারানোয় তিনি এখন শরণার্থী হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়া গত বছর ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গেলে তারেকও লন্ডন থেকে সেখানে গিয়েছিলেন। এরপর আর মা-ছেলের দেখা হয়নি। প্রতিবছরের মতো এবারও রোজার সময় ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল খালেদা জিয়ার। কিন্তু ওই সফর তিনি শেষ মুহূর্তে বাতিল করেন। জানা গেছে, খালেদা জিয়া চোখের সমস্যায় এবার লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা ইতোমধ্যে তার চোখের চিকিৎসার কথা বলে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার বিচারকের কাছে বিদেশে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি ও আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।