১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিসি পর্যায়ে বৈঠক বিলুপ্ত ছিটমহলের জমির দলিল হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ বাংলাদেশ ও ভারতীয় ভূখ-ে মিশে যাওয়া ১৬২ ছিটমহলের জমির পুরানো নথিপত্র বিনিময় করেছে উভয় দেশ। এসব নথির মধ্যে আছে এতদিন বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ১১১ ছিটের ৪৪ মৌজার সিএস খতিয়ান এবং ভারতের ভেতরে থাকা ৫১ বাংলাদেশী ছিটমহলের ১৯ সিএস খতিয়ানের পুরনো রেকর্ডসহ অন্যান্য কাগজপত্র। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটায় বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার চ্যাংড়াবান্ধা ব্লক ডেভেলপমেন্টের সভাকক্ষে দুই দেশের মধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব নথি বিনিময় করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের ১৪ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। তার সঙ্গে আরও ছিলেন রংপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার আব্দুল মান্নান, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আক্তার হোসেন আজাদ ও নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মজিবুর রহমান এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশী হাইকমিশনের কাউন্সিলর আনোয়ারুল করিম।

অপরদিকে ভারতের কোচবিহার জেলা শাসক (ডিএম) পি উলগানাথন নেতৃত্বে ১২ সদস্যবিশিষ্ট ভারতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী হাইকমিশনার সন্দীপ মিত্র, কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেনারেল শাখা) চিরঞ্জীব কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) শ্রীমতি আয়শা রানীসহ প্রমুখ।

সভা শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ফিরে আসে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান হাবিবুর রহমান এ সময় বুড়িমারী স্থলবন্দরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে সদ্য বিনিময় হওয়া ছিটমহলগুলোর জমিজমার যাবতীয় কাগজপত্র বিনিময় করা হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি বিলুপ্ত ছিটের ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর জমির ৪৪টি মৌজার সিএস খতিয়ানের কাগজ ভারত বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দেয়, ঠিক একইভাবে ভারতের অভ্যন্তরের বাংলাদেশের ৫১ ছিটের ৭ হাজার ১১০ দশমিক ২ একর জমির ১৯টি মৌজার সিএস কাগজপত্র বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের প্রতিনিধির হাতে বুঝিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি ভারতে যেতে ইচ্ছুক ৯৭৯ জন ভারতীয় নাগরিকদের ট্রাভেল পাস ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে সভায় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে ৯৭৯ জনের মধ্যে ১৫ জন তাদের মত পাল্টিয়ে ভারতে যাবে না বলে আবেদন করেছেন। তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়। আর যারা আগামী ৩১ নবেম্বরের মধ্যে ভারতে চলে যাবে তাদের ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারত চলে যেতে হবে। এ জন্য তাদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।

গত ৩১ জুলাই মধ্য রাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের মূল ভূখ-ে এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১ বাংলাদেশের ছিটমহল ভারতের মূল ভূখ-ের সঙ্গে এক হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হয় ছিটমহল।