১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আল কায়েদা ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে বাংলাদেশে

শংকর কুমার দে ॥ বাংলাদেশে সকল জঙ্গী সংগঠনের ভয়ঙ্কর তৎপরতাকে পেছনে ফেলে সর্বাগ্রে উঠে এসেছে আল কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) জঙ্গী সংগঠনটির নাম। কিন্তু আল কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) নামক এই সংগঠনটিকে কাগুজে অভিহিত বা অস্তিত্ব অস্বীকার করে বিভ্রান্তির জালে আটকে পড়া গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের চোখ এখন ছানাবড়া। আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ছাড়া এত সুপরিকল্পিতভাবে নিখুঁত হত্যাকা- ঘটিয়ে দায় স্বীকার করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা দেশীয় জঙ্গী সংগঠনের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা। দেশের গোয়েন্দারা প্রথম থেকে এসব হত্যাকা- পাত্তা না দিলেও একটার পর একটা হত্যাকা- ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে একিউআইএস। ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) সঙ্গে দেশীয় উগ্র মৌলবাদী জঙ্গী সংগঠনগুলোর যোগসূত্র থাকার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার বিষয়টিও উঠে আসতে শুরু করেছে তদন্তে। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানান, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত রায়কে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে হত্যার পর দায় স্বীকার করে আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস)। মার্চের শেষের দিকে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা ও মে মাসের প্রথম দিকে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার পরও দায় স্বীকার করে অনলাইনে বিবৃতি দিয়েছিল আল কায়েদা। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে থাকে সত্যিই কি বাংলাদেশে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন আল কায়দার ঘাঁটি আছে? গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সংগঠনটির অস্তিত্ব অস্বীকার করে তখন বলেছিলÑএটা দেশীয় জঙ্গীদের বানানো কল্পকাহিনী? অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় নীল নিহত হওয়ার পর গণমাধ্যমে ‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’ পাঠিয়ে একিউআইএসের দায় স্বীকারের পর নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)সহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। দুর্ধর্ষ এই সংগঠনটির অস্তিত্বের বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান না করায় একের পর এক ব্লগার হত্যা করে খুনীরা পার পেয়ে এখন সংগঠনটির নামে বিবৃতি পাঠানো শুরু করেছে, যা জঙ্গী তৎপরতার জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র বলেন, ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজেদের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়ে জানান দিয়েছে আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ বা একিউআইএস। প্রথম দিকে এই সংগঠনটির দায় স্বীকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোসহ তদন্তকারীদের অনেকেই বিশ্বাস করা শুরু করেছে আল কায়েদার ঘাঁটি বাংলাদেশেও আছে। ব্লগার হত্যাকা-ের পর একিউআইএসের দায় স্বীকার করার ঘটনাগুলো পাত্তাই দেয়নি

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বাংলাদেশে আল কায়েদার অস্তিত্ব তখন অস্বীকার করেছে তারা। ডিবির কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে বলে আসছিল ব্লগার হত্যাকা- ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের নজরে আসতে চায় দেশীয় জঙ্গী সংগঠনগুলো। প্রকৃত অর্থে দেশে আল কায়েদার কোন ঘাঁটি নেই। হয়ত বা ব্যক্তিগতভাবে আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে জঙ্গী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ। ব্লগার নিলয় হত্যাকা-ের পর গণমাধ্যমে একিউআইএসের নামে বিবৃতি পাঠানোর ঘটনাটিকে এখন গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আল কায়েদার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে এই নৃশংস হত্যাকা- ঘটাচ্ছে কারা? আল কায়েদার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ কিভাবে? নিজেদের মধ্যে তাদের যোগাযোগ রক্ষা করে চলার মাধ্যমের কৌশলটা কী? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে একিউআইএসের অস্তিত্ব আছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে কারা বিবৃতি দিয়েছে বা দিচ্ছে, এই বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। র‌্যাব গত ১ জুন রাজধানী থেকেই সংগঠনটির বাংলাদেশ শাখার প্রধান সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী মাওলানা মাইনুল ইসলাম ও উপদেষ্টা মুফতি জাফর আমিনসহ ১২ সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করে এবং তারা এখন কারাগারে আছে। হত্যা যারাই করুক না কেন, দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিলে জঙ্গী সংগঠনের কর্মীরা উৎসাহিত হয়। নিলয় হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে দেয়া বিবৃতিটি বাংলাদেশ শাখার একিউআইএস দিয়েছে কিনা কিংবা বিবৃতিটি দিয়ে থাকলে কারা দিয়েছে তার রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় বিভ্রান্তির জালে আটকা পড়ে আছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা। তবে ভয়ঙ্কর ঘাতক মূর্তির নামের জঙ্গী সংগঠনগুলোর নামের তালিকা এখন সরব উপস্থিতির জানান দিচ্ছে আল কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) জঙ্গী সংগঠনটি।