২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রাহকের ছবি তুলে সংরক্ষণে এজেন্টদের আপত্তি

  • মোবাইল ব্যাংকিং

রহিম শেখ ॥ মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার বা এর বেশি টাকা পাঠানো (ক্যাশ ইন) ও উত্তোলন (ক্যাশ আউট) হলেই এজেন্ট ওই লেনদেনকারীর ছবি তুলে তথ্য সংরক্ষণ করবে বলে নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রক্রিয়াটি প্রয়োগ করা কঠিন বলে তা বাতিলের পক্ষে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী স্টেকহোল্ডার। তারা সার্কুলার জারির পরই গবর্নরকে ফোন করে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে মোবাইল সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর আনুষ্ঠানিক মতামত জানতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর বেগম নাজনীন সুলতানার সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে মোবাইল সেবা প্রদানকারী স্টেকহোল্ডার ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, মহাব্যবস্থাপক কেএম আবদুল ওয়াদুদসহ সংশ্লিস্ট অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৮টি ব্যাংককে অনুমোদন দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত এই সেবাটি চালু করতে সক্ষম হয়েছে ২০টি ব্যাংক। বিকাশ, ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকিং, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, মাই ক্যাশ. শিওর ক্যাশ, ওকে ক্যাশ, হ্যালো ক্যাশ, স্পট ক্যাশ, আইএফআইসি মোবাইল ব্যাংক ইত্যাদি নামে ব্যাংকগুলো এই সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিতে ৫ লাখেরও বেশি এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে। নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ৩ কোটির কাছাকাছি। এ সেবায় প্রতিদিন গড়ে ৪০০ কোটি টাকার অধিক লেনদেন হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা জনকণ্ঠকে বলেন, লেনদেনের সময় ছবি তুলে সংরক্ষণ করা এজেন্টের পক্ষে সহজ হবে না বলে মনে করছে সেবা প্রদানকারীরা। তাছাড়া যে কোন বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার পর সংশিষ্ট পক্ষগুলো থেকে তা সহজ করার দাবি উঠে। তিনি আরও বলেন, আমরা কিন্তু নির্দেশনায় ছবি তোলার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার কথা বলিনি। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছিলাম। এজন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মতামত নেয়া হবে।

পেমেন্ট সিষ্টেম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কে এম আব্দুল ওয়াদুদ জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা দুটি দিক বিবেচনায় এই নির্দেশনা দিয়েছিলাম। একটি হলো- গ্রাহক স্বার্থে ছবি তুলে সংরক্ষণ। যাতে এ সেবায় জালিয়াতি ও প্রতারণা ঠেকানো যায়। অন্যটি, এ সেবায় ঝুঁকি হ্রাসের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম আরও বেগবান করা। কিন্তু মোবাইল সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো ছবি তোলার বিষয়টি সব এজেন্টের জন্য সহজ হবে না বলে আপত্তি তুলেছে। এতে এ সেবায় লেনদেন ও গ্রাহক কমার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য তারা এ বিধানটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। ছবির বিষয়টি বাতিল করা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের বিষয়টি যোগ হতে পারে। জানা গেছে, স্টেকহোল্ডারদের আপত্তির কারণে চলতি মাসের ২ তারিখ কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছিল তা ইতোমধ্যে তাদের ওয়েবসাইট থেকে তুলে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঐ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল- মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অপরাধ কমাতে পাঁচ হাজার টাকা বা এর চেয়ে বেশি অঙ্কের লেনদেনে গ্রাহকের ছবি তুলে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ পরিচিতির তথ্যের (কেওয়াইসি) সঙ্গে সিমের নিবন্ধনের তথ্যের যাতে গরমিল না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল। এদিকে, লেনদেনের সময় ছবি তোলার বিষয়টি বাতিল হলে তার জায়গায় জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থাৎ এজেন্টরা গ্রাহকের ছবি না তুলে জমা নেবে জাতীয় পরিচয়পত্র। এ বিষয়টি বিটিআরসির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা সেটি দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।