২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শাস্তি হবে কিনা তা নির্ধারণ ৩০ আগস্ট

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিচারকদের নিয়ে কটূ মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শাস্তি হবে কি না তা নির্ধারণ হবে আগামী ৩০ আগস্ট। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের ৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে আজ। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের নিকলি থানার সৈয়দ মোঃ হুসাইন ও মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন।

বিচারকদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য আগের দিন আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সোমবার তার আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার ক্ষমার আবেদনের ওপর শুনানি করেন। অন্যদিকে অবমাননার অভিযোগে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কেন শাস্তি হওয়া উচিত সেই যুক্তি আদালতের সামনে তুলে ধরেন অভিযোগকারীর আইনজীবী খান মোঃ শামীম আজিজ ও মোরশেদ আহমেদ খান। শুনানি শেষে বিচারক এ বিষয়ে আদেশের জন্য ৩০ আগস্ট দিন ঠিক করে দেন।

জামালপুরের রাজাকার ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের ৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে আজ। একইসঙ্গে পলাতক ৬ আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ কারার একটি আদেশ প্রদান করা হবে। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এই মামলার ৮ আসামির মধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি ৬ আসামি পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ২ জন হলেন, এ্যাডভোকেট শামসুল আলম ওরফে বদর ভাই ও এস এম ইউসুফ আলী। পলাতক ৬ জন হলেন- আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা মোঃ আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মোঃ আব্দুল হান্নান, মোঃ আব্দুল বারী, মোঃ হারুন ও মোঃ আবুল কাসেম। এর আগে গত ৬ মে ওই ৬ জন আইনের দৃষ্টিতে পলাতক কি না সে বিষয়ে জানাতে এবং তাদের আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য প্রসিকিউশনকে আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও তারা আত্মসমর্পণ করেননি বা গ্রেফতার হননি। এদিকে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে আইজিপির দেয়া দ্বিতীয় প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গত ১ জুলাই পুলিশের আইজিকে এ প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তারও আগে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে আইজিপিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৬ মে আইজিপির দেয়া প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল একই কথা জানিয়েছিলেন। গত ২৯ এপ্রিল ওই আট আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট ও লাশ গুমের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে।

কিশোরগঞ্জের রাজাকার ॥ একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের নিকলি থানার সৈয়দ মোঃ হুসাইন ও মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে এই মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি মোসলেম প্রধানকে আগামী ১৬ আগস্ট সেফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, মোসলেম প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তা মঞ্জুর করেছে। এছাড়া এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে।

সৈয়দ মোঃ হুসাইন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার রাজাকার কমান্ডার পলাতক সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর ছোট ভাই। হুসাইন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিকলি থানার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আদালতকে জানান, নিকলির রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মোঃ হুসাইন (৬৪) ও তার সহযোগী মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের (৬৬) বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণসহ ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত এখনও চলছে। আসামি এবং তাদের লোকজন তদন্ত কাজে বাধা ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ কারণে তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। হুসাইনের বড় ভাই হাসান আলীকে গত ৯ জুন ফাঁসি অথবা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদ-াদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।