২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গার্মেন্ট শিল্পে বিনিয়োগে জাপানী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা

এম শাহজাহান ॥ গার্মেন্ট শিল্পে জাপানী বিনিয়োগ আনা হচ্ছে। খুলে যাচ্ছে দ্বার। পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে দেশটির উদ্যোক্তাদের জন্য ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লিয়ারেশন) সুবিধা দেয়ার কথা ভাবছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে এই সুবিধা দেয়ার দাবি ছিল জাপানীদের। অবশেষে তাদের সেই দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। এর ফলে বাড়বে জাপানী বিনিয়োগ। শতভাগ কমপ্লায়েন্স কারখানা গড়ে তুলে তৈরি করা হবে বিশ্বমানের পোশাক। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বরাবরই সরকারের পক্ষ থেকে জাপানকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, জাপানী বিনিয়োগকারীদের কাঁচামাল আমদানি ও গার্মেন্টস পণ্য বিদেশে রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে কারখানাগুলোকে ইউডি সনদ দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র। অভিযোগ রয়েছে, এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করতে দুটি সংগঠন তাদের সদস্য পদ বা ইউডি সনদ দিচ্ছে না। প্রায় শতাধিক জাপানী উদ্যোক্তা তৈরি পোশাক খাতে বিনিয়োগ করতে ইউডি সুবিধা চেয়ে আবেদন করেছে। এ পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বিদেশী এসব প্রতিষ্ঠানকে ইউডি সনদ দেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। চলতি মাসের ১৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক ডেকেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকের পর বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএকে জাপানী উদ্যোক্তাদের ইউডি সনদ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হতে পারে। এছাড়া যেসব বিনিয়োগকারী পোশাক খাতে বিনিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন তাদের ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জনকণ্ঠকে বলেন, জাপানী বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার আন্তরিক। তাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে। পোশাক খাতে এতদিন বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হয়নি। এ খাতটি দেশীয় উদ্যোক্তারা তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। জাপানী বিনিয়োগকারীরাও পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ইউডি সুবিধার বিষয়টিও ভেবে দেখছে সরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে জাপানী বিনিয়োগকারীদের ইউডি সুবিধা প্রদানের বিষয়টি সহজীকরণের বিষয়ে চলতি মাসে একটি বৈঠক করা হবে। তাদের ইউডি সুবিধা দেয়া হবে। জাপানে এখন পোশাক রফতানি হচ্ছে উল্লেখ করে বাণিজ্য সচিব বলেন, এজন্য দেশটির বিনিয়োগও বাংলাদেশে আনা হচ্ছে।

জানা গেছে, ইউডি সংক্রান্ত এ কাজটি রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক বিভাগ করলেও নানামুখী জটিলতায় গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন দুটির হাতে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বিজিএমইএ ইউডি’র সনদ না দিলে কোন কারখানার পক্ষে শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আনা বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় রফতানি করা সম্ভব নয়।

ইতোমধ্যে জাপানের বড় বিনিয়োগকারী দলের এমন অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পৌঁছেছে। এই বাস্তবতায় জাপানী বিনিয়োগকারীদের ইউডি সুবিধা প্রদানের উপায় খোঁজা হচ্ছিল। ইতোপূর্বে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে।

শুধু তাই নয়, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে জাপান প্রথম সারিতে রয়েছে। জাপানী বিনিয়োগ বাড়লে দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন জাপান কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ পরামর্শক আবদুল হক। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, দেশের প্রয়োজনে জাপানী বিনিয়োগ জরুরী হয়ে পড়েছে। জাপানী বিনিয়োগ এমনভাবে হবে যাতে দেশীয় উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হোন। জাপানী বিনিয়োগের মাধ্যমে এমন সব পণ্য উৎপাদিত হবে যা বাংলাদেশে এখন কেউ তৈরি করছে না। তিনি বলেন, বিনিয়োগ হলে অর্থনীতিতে নতুন ভ্যালু এ্যাডিসন যোগ হবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর হবে এবং জীবনমান উন্নত হবে শ্রমিকদের। চীন অর্থনীতির স্বার্থে জাপানকে ইউডিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। বিনিয়োগ আনতে হলে আমাদেরও সেই সুবিধাগুলো দিতে হবে। জানা গেছে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীনে ৩০ হাজারের মতো জাপানী বিনিয়োগকারী ব্যবসা করছেন। আর বাংলাদেশে জাপানী বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানে সংখ্যা মাত্র ১৮৬টি। জাপানের আমদানি করা পোশাকের ৬০ ভাগ আসে চীন থেকে যেখানে মাত্র ২ শতাংশ বাংলাদেশের। তবে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে জাপান থেকে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে। এছাড়া তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অটোমোবাইল, ওষুধ ও মেশিনারিজের মতো উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পেও জাপানী বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।